বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে ঐক্য সরকার গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে সরকার গঠন করলে বিরোধী দলের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হবে। একই সঙ্গে নির্বাচনে বিএনপির এককভাবে সরকার গঠনের বিষয়ে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেছেন তিনি।
শুক্রবার বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তারেক রহমান বলেন, “আমার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গে কীভাবে আমি সরকার গঠন করব? তাহলে বিরোধী দল কে হবে?” তিনি আরও জানান, জামায়াত যদি বিরোধী দলে থাকে, তবে তিনি তাদের কাছ থেকে দায়িত্বশীল বিরোধী দলের ভূমিকা প্রত্যাশা করেন।
দীর্ঘ প্রায় দুই দশক লন্ডনে অবস্থানের পর গত ডিসেম্বরে দেশে ফেরেন তারেক রহমান। ২০২৪ এর জুলাইয়ে সহিংসতার মধ্য দিয়ে দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তিনি দেশে ফেরেন। শেখ হাসিনা ছিলেন তার মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ।
১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিএনপির প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে রয়েছে ইসলামপন্থী দল জামায়াতে ইসলামী। একসময় নিষিদ্ধ থাকলেও বর্তমানে দলটি আবার রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার পরিচালনা করলেও এবার সেই জোট পুনর্গঠনের সম্ভাবনা নাকচ করেছেন তারেক রহমান।
বিএনপির ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা জানিয়েছেন, দলটি ৩০০ আসনের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসনে জয়ী হওয়ার বিষয়ে আশাবাদী। বিএনপি ২৯২টি আসনে প্রার্থী দিয়েছে, বাকি আসনে জোট শরিকরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। যদিও নির্দিষ্ট আসন সংখ্যা উল্লেখ করেননি তারেক রহমান, তবে তিনি বলেন, “সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা আমরা পাব—এ বিষয়ে আমরা আত্মবিশ্বাসী।”
জনমত জরিপে বিএনপির জয় সম্ভাবনার ইঙ্গিত মিললেও জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটও শক্ত চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে। এ জোটে তরুণদের নেতৃত্বে গড়ে ওঠা এনসিপিও যুক্ত হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশ কোনো নির্দিষ্ট দেশের দিকে ঝুঁকবে না। দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও তরুণদের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে পারস্পরিক স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা করে যে কোনো দেশের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা হবে।
শেখ হাসিনার সন্তানদের ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, জনগণ যদি কাউকে গ্রহণ করে, তবে রাজনীতি করার অধিকার সবারই রয়েছে।
উল্লেখ্য, কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগ অংশ নিতে পারছে না। শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর দলটির একাধিক শীর্ষ নেতা ও তার পরিবারের সদস্যরা দেশ ছেড়েছেন।