নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারের টেকনাফ ও গাজীপুরের কাপাসিয়ায় পৃথক দুই ঘটনায় সহিংসতা, গুলিবর্ষণ ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে শিশুসহ একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। দুই এলাকাতেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
টেকনাফে প্রচারণা গাড়িতে গুলি, শিশুসহ পাঁচজন আহত
কক্সবাজারের টেকনাফে ধানের শীষ প্রতীকের নির্বাচনী প্রচারণাকালে ব্যবহৃত একটি গাড়িকে লক্ষ্য করে দুর্বৃত্তরা এলোপাতাড়ি গুলি চালিয়েছে। এতে দুই শিশুসহ পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হন। আহতদের মধ্যে দুইজন রোহিঙ্গা ও তিনজন বাংলাদেশি নাগরিক রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ২৫ নম্বর আলীখালী রোহিঙ্গা ক্যাম্পের ব্লক এ/৪ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একটি ডাম্পার গাড়িতে গান-বাজনা ও নাচের মাধ্যমে প্রচারণা চলছিল। এ সময় জনতা ভিড় করলে পাশ থেকে অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা হঠাৎ গুলি ছোড়ে।
আহতরা হলেন রোহিঙ্গা আব্দুর রহমান (৩৬) ও মোহাম্মদ জিসান (১৩), বাংলাদেশি বাচ্চা মিয়া (৩৮), নূসরাত জাহান (১৮) ও শাহাবুদ্দিন (১১)। তাদের প্রথমে আলীখালী আইআরসি হাসপাতালে এবং পরে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
টেকনাফ মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, হামলাকারীদের পরিচয় এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি, বিষয়টি তদন্তাধীন। ১৬ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক মোহাম্মদ কাউছার সিকদার বলেন, প্রচারণার সময় হঠাৎ জনতার ওপর গুলি চালানো হয়।
গাজীপুরে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, নির্বাচনী ক্যাম্পে ভাঙচুর
অন্যদিকে, গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার সালদৈ এলাকায় বিএনপি ও জামায়াত সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
বৃহস্পতিবার বিকেলে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী সালাউদ্দিন আইয়ুবীর সমর্থকদের মিছিলের পর বিএনপি প্রার্থী রিয়াজুল হান্নানের সমর্থকেরাও মিছিল বের করলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ রয়েছে, বিএনপির একটি নির্বাচনী অফিসে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়।
রিয়াজুল হান্নান দাবি করেন, কোনো উসকানি ছাড়াই তাদের ক্যাম্পে হামলা হয়েছে। তবে জামায়াত প্রার্থী সালাউদ্দিন আইয়ুবী অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ, সেনাবাহিনী ও বিজিবি মোতায়েন রয়েছে। এখনও কেউ আটক হয়েছে কি না, সে বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক তথ্য পাওয়া যায়নি।