একটি রাষ্ট্রীয় প্রকল্পের আওতায় ধারণ করা প্রায় ১৫ হাজার বীর মুক্তিযোদ্ধার ভিডিও সাক্ষাৎকার বাতিলের সিদ্ধান্তকে ‘মুক্তিযুদ্ধবিরোধী মব-অভিযান’-এর অংশ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ)। দলটির অভিযোগ, অন্তর্বর্তী সরকার পরিকল্পিতভাবে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলার প্রক্রিয়ায় এগোচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) জাসদের কেন্দ্রীয় কার্যকরী কমিটির পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্ত শুধু প্রশাসনিক নয়, বরং এটি একটি আদর্শিক ও রাজনৈতিক পদক্ষেপ। জাসদের ভাষ্য অনুযায়ী, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস, স্মৃতি ও মূল্যবোধকে আঘাত করার একটি ধারাবাহিক ‘মব-অভিযান’ পরিচালনা করছে, যার সর্বশেষ উদাহরণ এই ভিডিও সাক্ষাৎকার বাতিলের উদ্যোগ।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জীবিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতিচারণা সংরক্ষণ কেবল একটি প্রকল্প নয়; এটি জাতির ইতিহাস রক্ষার একটি মৌলিক দায়িত্ব। এসব সাক্ষাৎকার বাতিলের সিদ্ধান্ত ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মুক্তিযুদ্ধের প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য থেকে বঞ্চিত করবে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
জাসদ দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছে, মুক্তিযুদ্ধবিরোধী সব ধরনের মব-অভিযান ও ইতিহাস বিকৃতির অপচেষ্টা রুখে দিতে গণতান্ত্রিক ও সাংবিধানিকভাবে সোচ্চার হতে হবে।
উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে ২০২২ সালে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ‘বীরের কণ্ঠে বীরগাথা’ শীর্ষক প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়। এর উদ্দেশ্য ছিল জীবিত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধকালীন অভিজ্ঞতা, স্মৃতি ও সংগ্রামের গল্প ভিডিও আকারে সংরক্ষণ করা এবং সেগুলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ডিজিটাল আর্কাইভে রেখে দেওয়া।
এই প্রকল্পের আওতায় সারা দেশ থেকে প্রায় ১৫ হাজার বীর মুক্তিযোদ্ধার সাক্ষাৎকার সংগ্রহ করা হয়। হঠাৎ করে এসব সাক্ষাৎকার বাতিলের সিদ্ধান্ত মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সংরক্ষণ ও রাষ্ট্রীয় দায়বদ্ধতা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।