প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই)-এর সাবেক পরিচালক ও সেনাবাহিনীর বরখাস্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আফজাল নাছেরকে (৬১) গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। রোববার (৩০ মার্চ) গভীর রাতে রাজধানীর মিরপুর ডিওএইচএস এলাকার একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম। তবে প্রাথমিকভাবে কোন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
পরবর্তীতে জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাই মাসের আন্দোলনের সময় মিরপুরে সংঘটিত দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় আফজাল নাছেরকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। একই মামলায় এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া ডিজিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক শেখ মামুন খালেদ-এর সঙ্গে তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে। এ মামলায় আফজাল নাছেরের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে আদালতে আবেদন করেছেন তদন্ত কর্মকর্তা।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৯ জুলাই বিকেলে মিরপুর-১০ এলাকায় ছাত্র-জনতার শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে হামলার ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগের শতাধিক নেতাকর্মী দেশীয় অস্ত্রসহ আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালায় এবং গুলি ছোড়ে। এতে গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন দেলোয়ার হোসেন, যিনি পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
ডিবি সূত্রে জানা গেছে, এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী এবং শেখ মামুন খালেদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই আফজাল নাছেরকে আটক করা হয়েছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, এই মামলার পাশাপাশি আরও কয়েকটি অভিযোগও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, আফজাল নাছের ১৯৮৪ সালের ৪ জুলাই সেনাবাহিনীতে যোগ দেন এবং ২০০৬ সালের মার্চ থেকে ২০০৮ সালের মার্চ পর্যন্ত ডিজিএফআইয়ের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সেনা-সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তিনি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন।
সেই সময়ের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বর্তমান ও সাবেক বহু শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের মধ্যে ছিলেন খালেদা জিয়া, শেখ হাসিনা এবং তারেক রহমান। অভিযোগ রয়েছে, আটক অবস্থায় তাদের ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হয়।
এছাড়া বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর এবং ব্যবসায়ী মোসাদ্দেক আলী ফালু-এর ওপরও নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে।
বর্তমানে ধারাবাহিকভাবে সাবেক সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মামলায় গ্রেপ্তার ও রিমান্ডের ঘটনায় নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব ঘটনায় অতীতের মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগগুলোও সামনে আসতে পারে।