ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের ভোটগ্রহণ শেষে রাতেই বিভিন্ন আসনে ফলাফল ঘোষণা শুরু হয়েছে। প্রাথমিক ফলাফলে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ আসনে বিএনপি প্রার্থীরা এগিয়ে থাকার খবর পাওয়া গেছে। ঠাকুরগাঁওয়ে নিজ আসনে এগিয়ে থাকা বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সরকার গঠনের আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। একইসঙ্গে বগুড়া-৬ আসনে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। অন্যদিকে ঢাকা-৮ আসনে ভোট গণনা নিয়ে কারচুপির অভিযোগ তুলেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে ঠাকুরগাঁও শহরের কালিবাড়ি এলাকার নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, “আমরা এগিয়ে আছি। ইনশাআল্লাহ ভালো মেজরিটি পাবো। সুযোগ পেলে জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানোর চেষ্টা করবো এবং বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন করবো।”

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ১৮৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ১২৩টির ফলাফলে ধানের শীষ প্রতীকে ফখরুল পেয়েছেন ১ লাখ ৫২ হাজার ৩১৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর দেলাওয়ার হোসেন পেয়েছেন ৮৯ হাজার ৪৯৩ ভোট এবং ইসলামি আন্দোলনের প্রার্থী খাদেমুল ইসলাম পেয়েছেন ২ হাজার ৬৫৩ ভোট। এ আসনে মোট ভোটার ৫ লাখ ১১ হাজার ৬৩১ জন।
এদিকে বগুড়া-৬ (সদর) আসনে বিপুল ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার ঘোষিত ফল অনুযায়ী, ১৫০টি কেন্দ্রের সব কটির গণনা শেষে তিনি ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ২ লাখ ১৬ হাজার ২৮৪ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল পেয়েছেন ৯৭ হাজার ৬২৬ ভোট। ১ লাখ ১৮ হাজার ৬৫৮ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন তারেক রহমান। এ আসনে ভোটার উপস্থিতির হার ছিল ৬৯.১০ শতাংশ।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত রুমিন ফারহানা। হাঁস প্রতীকে তিনি মোট ভোট পেয়েছেন ৫০ হাজার ৫৭৯। এ আসনে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ ও বিএনপি জোটের প্রার্থী মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব (খেজুরগাছ প্রতীক) পেয়েছেন ৩২ হাজার ৫৭৯ ভোট। রিটার্নিং কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এই আসনে ভোট পড়েছে ৪৪ দশমিক ৮ শতাংশ।
ঢাকা-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী আমানউল্লাহ আমান জয় পেয়েছেন। তিনি ধানের শীষ প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৬৩ হাজার ৭৯৩ ভোট। দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর আব্দুল হক পেয়েছেন ৮০ হাজার ৫৩ ভোট।
ফরিদপুর-১ আসনে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী বিজয়ী হয়েছেন। বোয়ালমারী-আলফাডাঙ্গা-মধুখালী নির্বাচনী এলাকা নিয়ে গঠিত ফরিদপুর-১ আসনের ১৯৭টি কেন্দ্রের সব কয়টির বেসরকারি ফলাফল পাওয়া গেছে।
প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ড. মো. ইলিয়াস মোল্লা দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে ২৮ হাজার ৬৩৩ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছেন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৫৪ হাজার ৭৯৮ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির খন্দকার নাসিরুল ইসলাম ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে পেয়েছেন ১ লাখ ২৬ হাজার ১৬৫ ভোট।
খুলনা-৫ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী ও দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার হেরে গেছেন। দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৪৪ হাজার ৯৫৬ ভোট।
ঢাকা-১৫ আসনে বিজয়ী জামায়াত আমির। দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ডা. শফিকুর রহমান পেয়েছেন ৮২ হাজার ৬৪৫ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী শফিকুল ইসলাম মিল্টন পেয়েছেন ৬১ হাজার ৯২০ ভোট। ফলে ২০ হাজার ৭২৫ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন জামায়াতের এই প্রার্থী।
তবে রাজধানীর ঢাকা-৮ আসনে ভোট গণনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এনসিপি প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী অভিযোগ করেন, ছয়টি কেন্দ্রে ফলাফল পাল্টানোর চেষ্টা চলছে। তার প্রধান নির্বাচনি এজেন্টের দাবি, কয়েকটি কেন্দ্রে তিনবার ভোট গণনা করা হয়েছে এবং এজেন্টদের আটকে রেখে বাতিল ভোট যোগ করার চেষ্টা হচ্ছে।
এই অভিযোগ নিয়ে পাটওয়ারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান। একইসঙ্গে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সামাজিক মাধ্যমে সমর্থকদের কেন্দ্রে উপস্থিত থাকার আহ্বান জানান। পাল্টা অভিযোগ নিয়ে বিএনপি প্রার্থী মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাসও রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান। তবে এ বিষয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তা আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি।
অন্যদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনে গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী জোনায়েদ সাকি ৯৮ হাজার ২৩১ ভোট পেয়ে জয়ী হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের প্রার্থী পেয়েছেন ৩৭ হাজার ৯৬৫ ভোট।
প্রাথমিক ফলাফল ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে বাড়ছে উত্তেজনা। চূড়ান্ত ফলাফলের দিকে তাকিয়ে রয়েছে দেশবাসী।