নির্বাচনের দুই দিন পর রাজধানীর গুলিস্তানে অবস্থিত আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি সালাম জানান একদল ব্যক্তি। শনিবার দুপুরের পর সাত থেকে আটজনের একটি দল ভবনটির সামনে এসে জাতীয় পতাকা ওড়ায় এবং কিছুক্ষণ অবস্থান করে চলে যায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দলটির সদস্যরা বিভিন্ন পেশার সঙ্গে যুক্ত—কেউ রিকশাচালক, কেউ ফুটপাতের ব্যবসায়ী, আবার কেউ হকার। ঘটনাস্থলের পাশের কাপড় ব্যবসায়ী সলিমউল্লাহ ব্যাপারী জানান, তারা জাতীয় পতাকা নিয়ে এসে বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগের নেতাদের উদ্দেশে সালাম জানান এবং পরে একটি বিদ্যুতের খুঁটির সঙ্গে পতাকাটি বেঁধে রাখেন। তবে পরবর্তীতে সেখানে গিয়ে আর পতাকাটি দেখা যায়নি। স্থানীয়দের ধারণা, কেউ হয়তো সেটি খুলে নিয়ে গেছে।
উল্লেখ্য, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় ভবনটিতে গত প্রায় দেড় বছর ধরে ‘আন্তর্জাতিক ফ্যাসিজম ও গণহত্যা গবেষণা ইনস্টিটিউট’ নামের একটি ব্যানার ঝুলতে দেখা যাচ্ছে। তবে এ ধরনের কোনো প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নেই।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হলে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের ১০ তলা এই কার্যালয় ভবনে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এরপর থেকে ভবনটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। ভবনটিতে একসময় ছিন্নমূল মানুষের আনাগোনা, ময়লা-আবর্জনার স্তুপ এবং নেশাগ্রস্তদের আড্ডা জমতে দেখা গেছে। পরবর্তীতে ভবনটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিভিন্ন পক্ষের মধ্যে টানাপোড়েনের ঘটনাও ঘটে।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের নাম পরিবর্তন করে আবরার ফাহাদ এভিনিউ রাখা হয়েছে। এছাড়া তেজগাঁও ও ধানমন্ডিতে অবস্থিত আওয়ামী লীগের অন্যান্য কার্যালয়েও আগুন ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে, যা এখনো পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে।
সর্বশেষ ঘটনায় জাতীয় পতাকা উত্তোলনকে ঘিরে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।