ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মোট ভোটার উপস্থিতির হার জানতে সব আসনের ভোট গণনা শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে সাংবাদিকদের আহ্বান জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব আখতার আহমেদ। বৃহস্পতিবার রাতে ফলাফল ঘোষণার সময় ভোটের হার জানতে চাইলে তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, চূড়ান্ত হিসাব দিতে হলে ২৯৯টি আসনের গণনা সম্পন্ন হওয়া প্রয়োজন।
বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে নির্বাচন ভবনের ফলাফল কেন্দ্রে বিভিন্ন আসনের কেন্দ্রভিত্তিক ‘আংশিক ফলাফল’ ঘোষণা শুরু করেন ইসি সচিব। প্রায় ২০ মিনিট পর উপস্থিত সাংবাদিকরা ভোট পড়ার হার জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আপনারা এত অধৈর্য হলে আমি এটা বন্ধ করে দিয়ে ওইটার দিকে যাই।” পরে আবার জানতে চান, সাংবাদিকরা কোন তথ্য আগে চান। একই প্রশ্নের পুনরাবৃত্তিতে তিনি বলেন, “২৯৯টা আসনের ভোট কাউন্ট করার পরে শতকরা হার বলা হবে। ওই পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।”
এরপর তিনি পুনরায় আংশিক ফল ঘোষণা চালিয়ে যান। ফল ঘোষণার আগমুহূর্তে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসিরউদ্দিনও ভোটের হার সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাব ইসি সচিব দেবেন বলে মন্তব্য করে বক্তব্য শেষ করেন।

ইসি সচিব এর আগে ভোটের দিন বিকাল সোয়া ৪টায় ব্রিফিংয়ে জানান, সকাল সাড়ে ৭টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত ৩৬ হাজার ৩১টি কেন্দ্রের মধ্যে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ৪৭ দশমিক ৯১ শতাংশ ভোট পড়েছে। তবে সে সময় ৬ হাজার ৬২০টি কেন্দ্রের তথ্য পাওয়া যায়নি বলে জানান তিনি। একই দিন দুপুর সোয়া ১টার ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, সকাল থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৩২ হাজার ৭৮৯ কেন্দ্রে ৩২ দশমিক ৮৮ শতাংশ ভোট পড়েছে। যদিও নির্বাচন শুরুর আগে প্রতি দুই ঘণ্টা পরপর ব্রিফিং দেওয়ার কথা থাকলেও প্রথম ব্রিফিং আসে দুপুরের দিকে।
এদিকে গণভোট ও পোস্টাল ব্যালট অন্তর্ভুক্ত থাকায় ফলাফল চূড়ান্ত করতে সময় লাগছে বলে জানিয়েছেন সিইসি এএমএম নাসিরউদ্দিন। তবে এতে কোনো ‘কারসাজি’ বা ‘অনিয়মের সুযোগ’ নেই বলে দৃঢ়ভাবে দাবি করেন তিনি। বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে আনুষ্ঠানিক ব্রিফিংয়ে সিইসি বলেন, “নির্বাচন কমিশন জনগণের কাছে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী একটি নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন উপহার দিতে সক্ষম হয়েছে।”
ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে দেশের ইতিহাসে ‘অন্যতম ভালো, গ্রহণযোগ্য ও উৎসবমুখর’ নির্বাচন হিসেবে দাবী করে সিইসি বলেন, কিছু সীমাবদ্ধতা ও ত্রুটি থাকলেও সামগ্রিকভাবে নির্বাচন উচ্চ মানদণ্ডে অনুষ্ঠিত হয়েছে। তিনি জানান, গণভোটসহ বিশাল এ নির্বাচনী কার্যক্রমে প্রায় ১৭ লাখ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করেছেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, রিটার্নিং কর্মকর্তাদের স্বাক্ষরিত আনুষ্ঠানিক ফলাফল ছাড়া কোনো বেসরকারি বা অপ্রমাণিত তথ্য গ্রহণযোগ্য হবে না।

তবে ফলাফল ঘোষণাকে কেন্দ্র করে বিরোধী দলগুলোর অভিযোগও সামনে এসেছে। জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান অভিযোগ করেছেন, কয়েকটি আসনে ফলাফল ‘ঝুলিয়ে’ রাখা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত পৌনে ১২টার দিকে ঢাকার মগবাজারে জামায়াত কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “আমাদের জানামতে আমরা কিছু আসনে এগিয়ে আছি এবং গণনাও সম্পন্ন। কিন্তু রিটার্নিং অফিসাররা ফল ঘোষণা করছেন না।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ওয়েবসাইটে কিছু ফল প্রকাশ করে তা আবার সরিয়ে ফেলা হয়েছে এবং প্রাথমিক পর্যায়ের ফল পুনরায় দেখানো হচ্ছে। জামায়াত আমির বলেন, “আমাদের বুথ ফেরত শিটে আমরা এগিয়ে থাকার তথ্য পেয়েছি। কিন্তু স্থানীয়ভাবে নানা টালবাহানা করা হচ্ছে।”
ঢাকা-৮ আসন নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। ওই আসনে ফল পাল্টে দেওয়ার অভিযোগ নিয়ে জামায়াত জোটের শরিক এনসিপির প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে যান। পরে পাল্টা অভিযোগ নিয়ে সেখানে যান বিএনপি প্রার্থী মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস। এ ঘটনায় এনসিপির পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে ভোট গণনায় কারচুপির অভিযোগ তোলা হয় এবং দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম সমর্থকদের ঢাকা-৮ এ উপস্থিত থাকার আহ্বান জানান।
জামায়াত আমির শফিকুর রহমান বলেন, এখনই চূড়ান্ত অভিযোগ তুলতে চান না। “পুরো ফল হাতে পাওয়ার পর আমরা সব বলব,” বলেন তিনি। কিছু আসনে ‘ইঁদুর-বিড়াল খেলা’ চলছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।