চট্টগ্রামে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) নির্বাচন পর্যবেক্ষক দলের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জামায়াতে ইসলামী। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে নগরীর চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াত কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে দলটির নেতারা সাম্প্রতিক হত্যাকাণ্ড, সন্ত্রাসী তৎপরতা ও গ্রেপ্তার প্রক্রিয়ার ধীরগতির বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
সভায় চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের আমির নজরুল ইসলাম বলেন, চট্টগ্রামে সন্ত্রাসীদের হামলায় র্যাব সদস্য নিহত হওয়ার ঘটনা এবং শরীফ ওসমান হাদি হত্যার আসামিদের গ্রেপ্তার না হওয়া জনমনে চরম উদ্বেগ ও ক্ষোভ তৈরি করেছে। তার অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাস সৃষ্টি করে এসব হত্যাকাণ্ড ধামাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, “ইনসাফভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রামের প্রতীক শহিদ শরিফ ওসমান বিন হাদির হত্যাকারীরা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় মানুষের মধ্যে উৎকণ্ঠা বাড়ছে।”
নজরুল ইসলাম অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং সার্বিক জননিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে প্রকৃত ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করা জরুরি। ভোট গ্রহণ ও গণনা প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বাড়াতে ভোট গণনা কক্ষসহ সব নির্বাচনি কার্যক্রম শতভাগ সিসিটিভি ক্যামেরার আওতায় আনার প্রস্তাব দেন তিনি।
সভায় তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী শুরু থেকেই জাতীয় নির্বাচন ও গণভোট আলাদাভাবে আয়োজনের দাবি জানিয়ে আসছে। কিন্তু এ দাবি বাস্তবায়িত না হওয়ায় দলটি হতাশ। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় জনগণের মতামত সঠিকভাবে প্রতিফলিত হওয়া জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ইইউ পর্যবেক্ষক দলের পক্ষে দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক ম্লাদেন কোবাসেভিচের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে ছিলেন সুসানে গিয়েন্ডলের ও সহকারী পর্যবেক্ষক মাসুক হায়দার। বৈঠকে জামায়াতের সহকারী সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ উল্লাহ ও ফয়সাল মুহাম্মদ ইউনুস, সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. একেএম ফজলুল হক এবং কর্মপরিষদ সদস্য হামেদ হাসান ইলাহী উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে উত্থাপিত উদ্বেগ ও প্রস্তাবগুলো আসন্ন নির্বাচন পর্যবেক্ষণে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে বলে ইইউ পর্যবেক্ষকরা জানান।