সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন দ্রুত আহ্বান না করলে রাজপথে আন্দোলনে নামার হুঁশিয়ারি দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় বিরোধী জোট। সরকারকে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাতে রোববার পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন জোট নেতারা।
শনিবার রাজধানীর মগবাজারে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জোটের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “সরকারের জন্য আগামী দিনটি শেষ সময়। এর মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকার উদ্যোগ না নিলে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথের আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবো।”
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ীরা গত ১৭ ফেব্রুয়ারি সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন। একই দিন জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোটের নির্বাচিত সদস্যরা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও শপথ নেন। তবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-এর নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সংবিধানে এই পরিষদের কোনো বিধান নেই উল্লেখ করে ওই শপথ থেকে বিরত থাকেন।
এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়েছে। ওই অধিবেশনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন, সভাপতিমণ্ডলী গঠন এবং কার্য উপদেষ্টা কমিটিসহ কয়েকটি কমিটি গঠন করা হয়। রাষ্ট্রপতির ভাষণ শেষে অধিবেশন মুলতবি করা হয় এবং তা আবার রোববার বসার কথা রয়েছে। রাষ্ট্রপতির ভাষণকে কেন্দ্র করে ওইদিন জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের সংসদ সদস্যরা ওয়াকআউটও করেন।
সংবাদ সম্মেলনে হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, দীর্ঘ আলোচনা ও সংলাপের পর রাষ্ট্র সংস্কারের বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে যে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ চূড়ান্ত হয়েছিল, তা বাস্তবায়নের জন্য সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একদিনেই অনুষ্ঠিত হয়। গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছেন বলেও তিনি দাবি করেন।
তার ভাষ্য, গণভোটের রায় অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করে রাষ্ট্রীয় কাঠামো সংস্কারের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু জাতীয় সংসদের অধিবেশন শুরু হলেও এখন পর্যন্ত সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান করা হয়নি, যা নিয়ে জোটের পক্ষ থেকে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
জোট নেতারা জানান, জুলাই সনদ অনুযায়ী সংসদ নেতা বা প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে লিখিতভাবে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বানের পরামর্শ দেবেন এবং রাষ্ট্রপতি তা আহ্বান করবেন। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়নি বলেও অভিযোগ করা হয়।
এদিকে বিএনপি বলছে, সংবিধান সংস্কার পরিষদের বিষয়ে এখনো সাংবিধানিক কাঠামো নির্ধারিত হয়নি। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ সম্প্রতি বলেন, “সংবিধানে এই পরিষদের কোনো বিধান নেই। গণভোটের রায় কার্যকর করে জাতীয় সংসদের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় বিধান তৈরি করতে হবে, তারপরই এ ধরনের পরিষদ গঠন সম্ভব।”
সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, শিগগিরই জোটের শীর্ষ নেতাদের বৈঠক ডাকা হবে। প্রাথমিকভাবে আগামী ২৮ মার্চ বৈঠকের সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ওই বৈঠকে ভবিষ্যৎ আন্দোলনের কর্মসূচি নির্ধারণ করা হতে পারে।
সংবাদ সম্মেলনে খেলাফত মজলিস, লেবার পার্টি, জাগপা এবং অন্যান্য শরিক দলের নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। তারা বলেন, জুলাই সনদের পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দাবিতে প্রয়োজনে সংসদের ভেতরে ও রাজপথ—দুই জায়গাতেই আন্দোলন চালানো হবে।