বাংলার নিজস্ব নাট্যরীতি, গীতিনাট্য ও লোকজ সাংস্কৃতিক ধারাকে নতুন প্রজন্মের সামনে নতুন আঙ্গিকে তুলে ধরতে ‘ভৈরবী গীতরঙ্গ’ দলের উদ্যোগে শুরু হয়েছে ‘গীতরঙ্গ উৎসব’। গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া এ সাংস্কৃতিক আয়োজন চলবে আগামী ২ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
ঢাকার বিভিন্ন স্থানে আয়োজিত এই বহুমাত্রিক উৎসবে রয়েছে চলচ্চিত্র প্রদর্শনী, গীতল সন্ধ্যা এবং গীতরঙ্গ প্রযোজনার নাট্য পরিবেশনা। আয়োজকদের ভাষ্য, এটি কেবল একটি উৎসব নয়; বরং দেশীয় শিল্পধারাকে পুনরুজ্জীবিত করার একটি সাংস্কৃতিক আন্দোলন।
উৎসবের প্রথম দিন শনিবার সন্ধ্যা ৬টায় ধানমন্ডিতে ভৈরবী গীতরঙ্গের কার্যালয়ে কিংবদন্তি নির্মাতা সত্যজিৎ রায়ের কালজয়ী চলচ্চিত্র ‘হীরক রাজার দেশে’ প্রদর্শিত হয়। চলচ্চিত্রপ্রেমী ও নাট্যকর্মীদের উপস্থিতিতে প্রদর্শনীটি উৎসবের সূচনাকে প্রাণবন্ত করে তোলে।

দ্বিতীয় দিন রোববার সন্ধ্যা ৭টায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মঞ্চ–২ (চিলেকোঠা)–এ আয়োজন করা হয়েছে ‘গীতল সন্ধ্যা’। এ আয়োজনে সংগীত, কবিতা ও কথনের সমন্বয়ে গীতধর্মী পরিবেশনার মাধ্যমে দর্শকদের সামনে তুলে ধরা হবে বাংলা লোকঐতিহ্যের সুর ও বয়ান।
উৎসবের সমাপনী দিন ২ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ৬টায় শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার হলে মঞ্চস্থ হবে গীতরঙ্গ প্রযোজনা নাটক ‘সোনাই’। নাটকটি রচনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন দলের প্রতিষ্ঠাতা ও নাট্যনির্দেশক ইলিয়াস নবী ফয়সাল। নাটকটিতে লোকজ জীবন, সংগীত ও নাট্যভাষার সমন্বয়ে গ্রামীণ সংস্কৃতির নান্দনিক উপস্থাপন থাকবে বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।

ইলিয়াস নবী ফয়সাল বলেন, “গীতরঙ্গ আমাদের কাছে শুধু একটি পরিবেশনা নয়, এটি বাংলার মাটির শৈল্পিক ভাষা। এই উৎসবের মাধ্যমে আমরা গীতিনাট্য ও লোকজ নাট্যধারাকে নতুন করে দর্শকের কাছে পৌঁছে দিতে চাই। শিল্পী ও দর্শকের মধ্যে একটি জীবন্ত সংযোগ তৈরি করাই আমাদের লক্ষ্য।”
দীর্ঘদিন ধরে ভৈরবী গীতরঙ্গ দল দেশীয় নাটক ও লোকজ সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে কাজ করছে। আয়োজকদের আশা, বিনামূল্যে উন্মুক্ত এই উৎসব তরুণদের মধ্যে বিকল্প নাট্যচর্চা ও দেশীয় সংস্কৃতির প্রতি আগ্রহ বাড়াবে।