সর্বশেষ

শ্রীলঙ্কা গার্ডিয়ানে প্রকাশিত বিশ্লেষণ

বাংলাদেশের গণতন্ত্র ছিনতাই হবার পরবর্তী প্রেক্ষাপট

প্রকাশিত: ২৯ নভেম্বর ২০২৫, ০২:৪০
বাংলাদেশে ২০২৪ সালের আগস্টের রাজনৈতিক পরিবর্তনকে ঘিরে শ্রীলঙ্কা গার্ডিয়ানে প্রকাশিত এক মতামতধর্মী লেখায় এটিকে “গণতন্ত্র ছিনতাই” ও “বিদেশি শক্তি সমর্থিত অভ্যুত্থান” হিসেবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। লেখক আনোয়ার এ. খান ঘটনাগুলোর পেছনে আন্তর্জাতিক প্রভাব, দেশীয় রাজনৈতিক সমন্বয় ও সামরিক ভূমিকার অভিযোগ তুলেছেন।
বাংলাদেশের গণতন্ত্র ছিনতাই হবার পরবর্তী প্রেক্ষাপট

২০২৪ সালের আগস্ট মাসে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া রাজনৈতিক পরিবর্তনকে রাজনৈতিক বিশ্লেষক লেখক আনোয়ার এ. খান গণতন্ত্র ছিনতাই হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তার মতে, এটি ছিল একটি পরিকল্পিত অভ্যুত্থান, যেখানে দেশীয় রাজনৈতিক শক্তি, আন্তর্জাতিক মহল এবং সামরিক প্রভাব একত্রে কাজ করেছে।

 

শ্রীলঙ্কা গার্ডিয়ান পত্রিকায় ২৮ নভেম্বর প্রকাশিত এক নিবন্ধে লেখক বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে এ ঘটনা ছিল এক কালো অধ্যায়। জনগণের ভোটাধিকার ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে একটি বিদেশি-নিয়ন্ত্রিত অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়। তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ, পাকিস্তানের আইএসআই এবং কিছু পশ্চিমা শক্তি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতাকে কাজে লাগিয়ে সরকার পরিবর্তনের পথ তৈরি করে।  

 

আনোয়ার এ. খান উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক মহল বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ আন্দোলনকে গণতান্ত্রিক দাবি হিসেবে প্রচার করলেও এর পেছনে ছিল সুপরিকল্পিত বিদেশি হস্তক্ষেপ। তিনি বলেন, বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী এবং কিছু ইসলামপন্থি সংগঠন বিদেশি শক্তির সঙ্গে সমন্বয় করে আন্দোলনকে সহিংস রূপ দেয়। তার মতে, শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কার আন্দোলন ছিল না সাধারণ দাবি; বরং এটি ছিল একটি ছদ্মবেশী রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র।  

 

লেখক দাবি করেন, সেনাবাহিনী ও প্রশাসনের একটি অংশও এ পরিবর্তনে ভূমিকা রাখে। তারা বিদেশি শক্তির সঙ্গে সমন্বয় করে রাজনৈতিক অস্থিরতাকে বাড়িয়ে তোলে এবং শেষ পর্যন্ত সরকার পতনের পথ সুগম করে।  

 

নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনুসের নামও কলামে উল্লেখ করা হয়েছে। লেখকের মতে, আন্তর্জাতিক মহল তাকে পরিবর্তনের মুখ হিসেবে ব্যবহার করেছে। বিদেশি শক্তি তাকে অন্তর্বর্তী সরকারের নেতৃত্বে বসিয়ে নিজেদের স্বার্থ বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছে।  

 

আনোয়ার এ. খান বলেন, এ ঘটনার ফলে বাংলাদেশের গণতন্ত্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জনগণের ভোটাধিকার ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে একটি বিদেশি-নিয়ন্ত্রিত অন্তর্বর্তী সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তিনি এটিকে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে দেখেছেন।  

 

লেখক আরও বলেন, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ও কিছু দেশীয় সংবাদমাধ্যম এ ঘটনাকে গণআন্দোলন হিসেবে উপস্থাপন করেছে। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এটি ছিল একটি পরিকল্পিত প্রচারণা, যাতে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হয়।  

 

তিনি সতর্ক করেছেন, যদি জনগণ সচেতন না হয় তবে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠবে। বিদেশি শক্তি ও স্থানীয় রাজনৈতিক গোষ্ঠীর প্রভাব অব্যাহত থাকলে দেশের স্বাধীনতা ও গণতন্ত্র বারবার হুমকির মুখে পড়বে।

সব খবর

আরও পড়ুন

গণপরিষদ, সংবিধান সংস্কার ও ‘১৮০ কার্যদিবস’ নিয়ে বিভ্রান্তি

ভোটে জয় মানেই সরকার গঠন নয় গণপরিষদ, সংবিধান সংস্কার ও ‘১৮০ কার্যদিবস’ নিয়ে বিভ্রান্তি

বাজার অস্থিরতার মাঝেই ফের বাড়লো এলপিজি গ্যাসের দাম

১২ কেজি সিলিন্ডার ১,৩৫৬ টাকা বাজার অস্থিরতার মাঝেই ফের বাড়লো এলপিজি গ্যাসের দাম

শেষ মুহুর্তে গোঁজামিলের বিতর্কিত প্রকল্প নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার

চাপ বাড়বে নির্বাচিত সরকারের ওপর শেষ মুহুর্তে গোঁজামিলের বিতর্কিত প্রকল্প নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার

দুদক সংস্কারে অন্তত সাত উপদেষ্টার আপত্তি: ড. ইফতেখারুজ্জামান

দুদক সংস্কারে অন্তত সাত উপদেষ্টার আপত্তি: ড. ইফতেখারুজ্জামান

অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে তড়িঘড়ি একের পর এক সিদ্ধান্ত

দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি ও ব্যয় নিয়ে বাড়ছে প্রশ্ন অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে তড়িঘড়ি একের পর এক সিদ্ধান্ত

নির্বাচনে ধর্মকে ব্যবহার করে ভোট চাওয়ার প্রবণতা উদ্বেগজনক

আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)-এর বিবৃতি নির্বাচনে ধর্মকে ব্যবহার করে ভোট চাওয়ার প্রবণতা উদ্বেগজনক

বাংলাদেশে নির্বাচন: পর্দার আড়ালে কি এখনও শক্তিশালী ভূমিকা রাখছে সেনাবাহিনী?

আল জাজিরার প্রতিবেদন বাংলাদেশে নির্বাচন: পর্দার আড়ালে কি এখনও শক্তিশালী ভূমিকা রাখছে সেনাবাহিনী?

কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই বাংলাদেশে আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ছে

রয়টার্সের প্রতিবেদন কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই বাংলাদেশে আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ছে