ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ফিলিং স্টেশনে প্রতিদিনই জ্বালানি নিতে দীর্ঘ লাইন। প্রতিদিনই বাকবিতণ্ডা এবং বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া যাচ্ছে। সরকার বলছে, আপাতত জ্বালানি সংকট নেই, তবে মানুষের মধ্যে অনিশ্চয়তা কাটছে না। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় বাংলাদেশও চাপের মুখে পড়েছে।
জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু জানিয়েছেন, সংকট মোকাবিলায় ভারত, চীন, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ভারতকে অতিরিক্ত ডিজেল সরবরাহের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। চার মাসে ৫০ হাজার মেট্রিক টন ডিজেল সরবরাহের অনুরোধ জানানো হয়েছে। এরই মধ্যে ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড থেকে পাঁচ হাজার টন ডিজেল বাংলাদেশে এসেছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) বলছে, দেশে উৎপাদিত পেট্রোল ও অকটেন নিয়ে সংকট নেই। তবে ডিজেল নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ থাকায় বিকল্প উৎসের খোঁজ চলছে। চীনের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে আলোচনা হয়েছে। এছাড়া ব্রুনেই, আফ্রিকা ও আমেরিকা থেকেও জ্বালানি আমদানির বিষয়ে কথা চলছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন রুট হরমুজ প্রণালীতে ইরানের নিষেধাজ্ঞা বৈশ্বিক বাজারে বড় সংকট তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। আরামকোর প্রধান নির্বাহী আমিন নাসের সতর্ক করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালী অবরুদ্ধ হলে বিশ্বে বিপর্যয়কর পরিস্থিতি তৈরি হবে।
বাংলাদেশে প্রতি মাসে গড়ে ১৫টি জাহাজ হরমুজ প্রণালী হয়ে জ্বালানি নিয়ে আসে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর চলতি মাসে এখন পর্যন্ত ছয়টি জাহাজ এসেছে। বাকিগুলো সময়মতো আসবে কিনা তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
সংকট মোকাবিলায় সরকার ইতোমধ্যে ১১ দফা নির্দেশনা দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গাড়ির ব্যবহার সীমিত করা, অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা বন্ধ রাখা এবং যানবাহনভেদে দৈনিক নির্দিষ্ট পরিমাণ জ্বালানি সরবরাহ। তবে রেশনিং করতে গিয়ে অনেক জায়গায় লাইনে দাঁড়ানো নিয়ে মারপিট ও বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া গেছে।
ফিলিং স্টেশন মালিকরা অতিরিক্ত ভিড় সামলাতে পুলিশি নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। বিপিসি জানিয়েছে, বিভাগীয় শহরে জ্বালানি সরবরাহ কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। আগে ২৫ শতাংশ কমানো হলেও এখন ১৫ শতাংশ কমিয়ে সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, জ্বালানির মজুদ বৃদ্ধি এবং বিকল্প উৎস থেকে সরবরাহ নিশ্চিত হলে ধীরে ধীরে রেশনিং শিথিল করা হবে। তিনি বলেন, “রেশনিং সব দেশেই হয় সংকটকালে। দাম এখনই বাড়াচ্ছি না, তবে সাময়িকভাবে বাড়াতে হতে পারে।”
জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. বদরুল ইমাম মনে করেন, বাংলাদেশের হাতে বিকল্প খুব বেশি নেই। তিনি বলেন, “পর্যাপ্ত জ্বালানি যেসব দেশের হাতে রয়েছে তাদের সিদ্ধান্ত আর আমাদের সিদ্ধান্ত এক হবে না। তবে সরকারকে কিছুটা কঠোর পদক্ষেপ নিতেই হতো।”