সর্বশেষ

আইআইডি জরিপে উদ্বেগজনক চিত্র

জুলাই সনদ সম্পর্কে জানে না ৭৭% মানুষ, না বুঝেই গণভোটের পথে দেশ

প্রকাশিত: ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১৫:২৯
জুলাই সনদ সম্পর্কে জানে না ৭৭% মানুষ, না বুঝেই গণভোটের পথে দেশ

বহুল আলোচিত জুলাই জাতীয় সনদকে কেন্দ্র করে দেশের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক সংস্কারের প্রক্রিয়া এগোলেও এর বিষয়বস্তু সম্পর্কে অধিকাংশ মানুষেরই পরিষ্কার ধারণা নেই। একটি সাম্প্রতিক জরিপে দেখা গেছে, ৭৭ দশমিক ২ শতাংশ মানুষ জুলাই সনদে কী আছে তা জানেন না। অর্থাৎ, যেই সনদের ওপর ভিত্তি করে আসন্ন গণভোট ও সংস্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, সেটি সম্পর্কে জনগণের বড় অংশই অন্ধকারে রয়েছে।

 

ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেটিকস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইআইডি) ও ইয়ুথ ফর পলিসি যৌথভাবে পরিচালিত ‘প্রাক-নির্বাচনি জনধারণা জরিপে’ এই তথ্য উঠে এসেছে। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর হোটেল প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁওয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়।

 

জরিপ অনুযায়ী, জাতীয়ভাবে মাত্র ৩৭ দশমিক ২ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন যে তারা জুলাই সনদের বিষয়বস্তু সম্পর্কে জানেন। তবে বয়স, শিক্ষা ও বসবাসভিত্তিক বড় ধরনের বৈষম্য স্পষ্ট। ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সীদের মধ্যে ৪৫ দশমিক ৭ শতাংশ সনদ সম্পর্কে জানলেও ৩৫ বছরের বেশি বয়সীদের ক্ষেত্রে এ হার নেমে আসে ২৩ দশমিক ২ শতাংশে। গ্রামাঞ্চলে জানেন এমন মানুষের হার ৩২ দশমিক ৪ শতাংশ, যেখানে শহরে তা ৪১ দশমিক ৪ শতাংশ। সবচেয়ে উদ্বেগজনক চিত্র দেখা গেছে শিক্ষাবঞ্চিতদের মধ্যে—যাদের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই, তাদের মধ্যে মাত্র ৮ দশমিক ৪ শতাংশ সনদ সম্পর্কে অবগত।

 

নির্দিষ্ট সংস্কার বিষয়েও মানুষের ধারণা দুর্বল। মৌলিক অধিকার সংশ্লিষ্ট পরিবর্তন সম্পর্কে জানেন বলেছেন ৪৩ দশমিক ১ শতাংশ, আর ৫৫ দশমিক ৩ শতাংশ এ বিষয়ে কিছুই জানেন না।

 

গণভোটের ব্যালট বোঝার সক্ষমতাও প্রশ্নের মুখে। জাতীয়ভাবে ৭২ দশমিক ৪ শতাংশ বলেছেন তারা ব্যালটের ভাষা সহজে পড়তে পারেন। তবে ৩৫ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে এই হার ৫৭ দশমিক ৪ শতাংশ এবং শিক্ষাবঞ্চিতদের ক্ষেত্রে মাত্র ২৬ দশমিক ৬ শতাংশ।

 

সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়েও অনিশ্চয়তা রয়েছে। ৪৭ দশমিক ৯ শতাংশ মনে করেন সরকার নিরপেক্ষ, ১১ দশমিক ৩ শতাংশ বলছেন নিরপেক্ষ নয়, আর ৩৩ দশমিক ৭ শতাংশ নিশ্চিত নন। নারীদের মধ্যে এই অনিশ্চয়তা আরও বেশি।

 

নির্বাচন-পরবর্তী স্থিতিশীলতা সম্পর্কেও সন্দেহ রয়েছে। মাত্র ৫১ শতাংশ মনে করেন পরাজিত পক্ষ ফলাফল মেনে নেবে। বাকি বড় অংশ অনিশ্চিত বা উত্তর দিতে অনিচ্ছুক।

 

আইআইডির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী পরিচালক সাইদ আহমেদ বলেন, “না জেনে-বুঝেই আমরা গণভোটের দিকে যাচ্ছি। সচেতন সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আরও সময় ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রচার প্রয়োজন।” তিনি সতর্ক করে বলেন, জনগণ ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’ ভোট দিলে কী ঘটবে—এ সম্পর্কেও অনেকের স্পষ্ট ধারণা নেই।

 

৬ ও ৭ ফেব্রুয়ারি দেশের আট বিভাগে পরিচালিত এই জরিপে অংশ নেন ৯ হাজার ৮৯২ জন ভোটার। বিশ্লেষকদের মতে, জনসচেতনতা ছাড়া গণভোট আয়োজন হলে ফলাফল নিয়ে নতুন বিতর্ক ও অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

সব খবর

আরও পড়ুন

সরকার আশ্বাস দিলেও বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন

জ্বালানি সংকটে চাপে সরবরাহ ব্যবস্থা সরকার আশ্বাস দিলেও বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন

১১ জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি ১১ জেলায় নতুন জেলা প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার

বাংলাদেশে সার সংকটের আশঙ্কা

ইরান যুদ্ধের প্রভাব বাংলাদেশে সার সংকটের আশঙ্কা

২৫ মার্চ রাতে সারাদেশে এক মিনিটের প্রতীকী ব্ল্যাকআউট

গণহত্যা দিবসে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন ২৫ মার্চ রাতে সারাদেশে এক মিনিটের প্রতীকী ব্ল্যাকআউট

এক যুগে বাংলাদেশকে ৬.৫ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা ভারতের

এক যুগে বাংলাদেশকে ৬.৫ বিলিয়ন ডলারের সহায়তা ভারতের

পাকিস্তান দিবস হয়ে উঠলো প্রতিরোধ দিবস

২৩ মার্চ ১৯৭১ পাকিস্তান দিবস হয়ে উঠলো প্রতিরোধ দিবস

আনন্দের আবহে উৎসব, বৃষ্টির শঙ্কা ও বাড়তি নিরাপত্তা

আজ ঈদুল ফিতর আনন্দের আবহে উৎসব, বৃষ্টির শঙ্কা ও বাড়তি নিরাপত্তা

এলএনজি সরবরাহেও যুক্তরাষ্ট্রের দিকেই ঝুঁকছে বাংলাদেশ

গ্যাস খাতে মার্কিন প্রভাব বাড়ছে এলএনজি সরবরাহেও যুক্তরাষ্ট্রের দিকেই ঝুঁকছে বাংলাদেশ