সর্বশেষ

স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল নির্বাচন

প্রকাশিত: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩০
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল নির্বাচন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট মিলিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যয়বহুল ভোট আয়োজন করছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রশিক্ষণ, ব্যালট ছাপানো, লজিস্টিক সহায়তা, পরিবহন, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন, প্রযুক্তি ব্যবস্থার সম্প্রসারণ, গণভোট এবং প্রথমবারের মতো প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থাপনার খরচ মিলিয়ে এবারের মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ১৫০ কোটি টাকা।

 

ইসি সূত্র জানায়, এর মধ্যে নির্বাচন পরিচালনায় কমিশনের নিজস্ব ব্যয় ১ হাজার ২০০ কোটি টাকা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা এবং গণভোট, পোস্টাল ব্যালটসহ অন্যান্য খাতে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। হিসাব অনুযায়ী, আসনপ্রতি গড় ব্যয় দাঁড়াচ্ছে প্রায় সাড়ে ১০ কোটি টাকা যা আগের যেকোনো সংসদ নির্বাচনের তুলনায় অনেক বেশি।

 

এর আগে আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে মোট ব্যয় ছিল ২ হাজার ২৭৬ কোটি টাকা, যেখানে আসনপ্রতি গড় ব্যয় ছিল ৭ কোটির কিছু বেশি। একাদশ নির্বাচনে বরাদ্দ ছিল প্রায় ৭০০ কোটি টাকা এবং দশম নির্বাচনে খরচ হয়েছিল মাত্র ২৬৪ কোটি ৬৮ লাখ টাকা। আরও পেছনে গেলে ২০০৮ সালের নবম নির্বাচনে ব্যয় ছিল ১৬৫ কোটি টাকা, আর ২০০১ সালে অষ্টম নির্বাচনে খরচ হয়েছিল ৭২ কোটি ৭১ লাখ টাকা। সেই তুলনায় এক দশকের ব্যবধানে ব্যয়ের এই লাফালাফি অনেকের কাছেই প্রশ্ন তুলছে।

 

ইসি বলছে, এবার সংসদ নির্বাচনের পাশাপাশি গণভোট আয়োজন এবং প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালট চালুর কারণে খরচ বেড়েছে। প্রবাসীদের জন্য প্রতিটি পোস্টাল ব্যালটে ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৭০০ টাকা, যেখানে দেশের ভেতরে একই ব্যয় মাত্র ২৩ টাকা। এছাড়া দৈনিক খোরাকি ভাতা, যানবাহন ভাড়া, নিরাপত্তা বাহিনীর মোতায়েন, প্রচার-প্রচারণা, প্রশিক্ষণ, সরঞ্জাম ও মুদ্রণ ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

 

তবে নির্বাচন কমিশনের বাজেট ও ফাইন্যান্স শাখার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, বাস্তবে ব্যয় ৪ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাবে না; সর্বোচ্চ ২ হাজার ৪০০ থেকে আড়াই হাজার কোটি টাকার মধ্যে থাকতে পারে। তার ভাষায়, ‘আপৎকালীন পরিস্থিতি মাথায় রেখে বাজেট বেশি ধরা হয়।’ ইতোমধ্যে প্রায় ৯ লাখ সরকারি আদেশ (জিও) বিভিন্ন দপ্তর থেকে জমা পড়লেও অনেক ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ হিসাব এখনো অন্তর্ভুক্ত হয়নি।

 

বিশ্লেষকদের মতে, ব্যয় বাড়া একমাত্র সমস্যা নয় বরং গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, এই অর্থের বিনিময়ে কতটা স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক ও বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করা যাচ্ছে। অতীতের কয়েকটি নির্বাচনে কম ভোটার উপস্থিতি, প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন আসন ও বিতর্ক থাকা সত্ত্বেও ব্যয় ক্রমাগত বাড়ছে। ফলে ‘ব্যয়-কার্যকারিতা’ নিয়ে জনমনে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।

 

এবারের নির্বাচনে নিবন্ধিত ভোটার সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখের বেশি যা দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ। বড় পরিসরের নির্বাচন আয়োজনের জন্য অতিরিক্ত খরচ স্বাভাবিক হলেও, বিশেষজ্ঞদের মতে ব্যয়ের প্রতিটি খাতেই জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা জরুরি।

 

সব মিলিয়ে ত্রয়োদশ নির্বাচন শুধু ভোটের দিক থেকেই নয়, অর্থনৈতিক দিক থেকেও একটি বড় পরীক্ষা। প্রশ্ন একটাই—এই বিপুল অর্থ ব্যয় কি সত্যিই গণতান্ত্রিক আস্থাকে শক্তিশালী করবে, নাকি নতুন বিতর্কের জন্ম দেবে?

সব খবর

আরও পড়ুন

সাহাবুদ্দিন সরে গেলে কী হবে, নতুন মুখ কে?

রাষ্ট্রপতি পদে অনিশ্চয়তা সাহাবুদ্দিন সরে গেলে কী হবে, নতুন মুখ কে?

সংসদ ও স্পিকারের অবর্তমানে শপথ পড়াবেন কে?

দ্রুত শপথ ও সরকার গঠনের প্রস্তুতি সংসদ ও স্পিকারের অবর্তমানে শপথ পড়াবেন কে?

২৯৭ আসনের ফলাফলে বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে তারেক রহমান

নির্বাচন কমিশনের মতে ভোট পড়েছে ৫৯.৪৪% ২৯৭ আসনের ফলাফলে বিএনপির নিরঙ্কুশ জয়, প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পথে তারেক রহমান

নগদের স্রোত, আটক নেতা–কর্মী, ফলাফলে কতটা প্রভাব?

ভোটের আগের রাতে ‘টাকা ছিটানো’ নগদের স্রোত, আটক নেতা–কর্মী, ফলাফলে কতটা প্রভাব?

জুলাই সনদ সম্পর্কে জানে না ৭৭% মানুষ, না বুঝেই গণভোটের পথে দেশ

আইআইডি জরিপে উদ্বেগজনক চিত্র জুলাই সনদ সম্পর্কে জানে না ৭৭% মানুষ, না বুঝেই গণভোটের পথে দেশ

দুর্নীতির সূচকে বাংলাদেশের আরও অবনমন

‘হারানো সুযোগ’ হিসেবে দেখছে টিআইবি দুর্নীতির সূচকে বাংলাদেশের আরও অবনমন

রাষ্ট্রীয় পেট্রোলিয়াম রিফাইনারি বেসরকারিকরণে তোড়জোড়

রাষ্ট্রীয় পেট্রোলিয়াম রিফাইনারি বেসরকারিকরণে তোড়জোড়

অন্তর্বর্তী সরকার হার্ডলাইনে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর ১৫ কর্মচারীকে শাস্তি

বন্দর চেয়ারম্যানের দাবির বিপরীতে ধর্মঘটে অচল বন্দর অন্তর্বর্তী সরকার হার্ডলাইনে যাওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পর ১৫ কর্মচারীকে শাস্তি