সর্বশেষ

টেলিযোগাযোগ অধ্যাদেশ-২০২৫ এর খসড়া প্রকাশ

ইন্টারনেট বন্ধে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা, বিলুপ্ত হচ্ছে এনটিএমসি

প্রকাশিত: ৬ নভেম্বর ২০২৫, ০৪:৩০
ইন্টারনেট বন্ধে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা, বিলুপ্ত হচ্ছে এনটিএমসি

ইন্টারনেট বন্ধের ক্ষমতা স্থায়ীভাবে বিলোপ এবং নজরদারি কাঠামোতে বড় ধরনের সংস্কারের প্রস্তাব দিয়ে “বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ অধ্যাদেশ-২০২৫” এর খসড়া প্রকাশ করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। খসড়ায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, “ইন্টারনেট সংযোগ কোনও অবস্থাতেই বন্ধ, বিঘ্নিত বা সীমিত করা যাবে না।”

 

মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ তাদের ওয়েবসাইটে খসড়া অধ্যাদেশটি প্রকাশ করে জনমতের জন্য উন্মুক্ত করেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এটি বাংলাদেশের ডিজিটাল অধিকার ও নাগরিক স্বাধীনতার দিকে “ঐতিহাসিক নীতিগত পরিবর্তন”।

 

এনটিএমসি বিলুপ্তির প্রস্তাব

 

দীর্ঘদিন ধরেই মানবাধিকার লঙ্ঘন, নজরদারি ও গুমের অভিযোগে সমালোচিত ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করার প্রস্তাব এসেছে এই খসড়ায়।

 

আইন প্রণয়নের সঙ্গে যুক্ত এক সিনিয়র কর্মকর্তা জানান, “নতুন অধ্যাদেশে নজরদারির পুরোনো ধারণাটিই তুলে দেওয়া হয়েছে।”

 

আগের আইনের ৯৭ ধারা ব্যবহার করে বেসামরিক যোগাযোগে নির্বিচারে নজরদারি চালানো হতো বলে অভিযোগ ছিল। খসড়ায় সেই ক্ষমতা সম্পূর্ণ বাতিল করে বলা হয়েছে

  • কোনও নিরাপত্তা সংস্থা আদালতের অনুমতি ছাড়া কল, বার্তা বা ইন্টারনেট ট্রাফিক পর্যবেক্ষণ করতে পারবে না
  • অনুমতি ছাড়া নজরদারির শাস্তি থাকবে কঠোর
  • রাজনৈতিক বা আদর্শগত কারণে নজরদারি নিষিদ্ধ

 

‘বৈধ অনুপ্রবেশ’ কঠোর শর্তে

 

নতুন অধ্যাদেশে “বৈধ অনুপ্রবেশ” ধারণা যুক্ত করা হয়েছে, তবে কঠোর শর্তে:

  • নির্দিষ্ট অভিযোগ বা প্রয়োজন ছাড়া অনুমতি দেওয়া যাবে না
  • আদালত বা বিচারিক কাউন্সিলের অনুমোদন বাধ্যতামূলক
  • সীমিত সময়ের জন্য
  • স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও প্রমাণযোগ্যতার ভিত্তিতে

সংগৃহীত তথ্য আদালতে প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হতে পারবে কেবল তখনই, যখন তা বিচারিক অনুমোদনসাপেক্ষে সংগৃহীত হবে। অনুমতি ছাড়া সংগৃহীত গোয়েন্দা তথ্যকে আদালত গ্রহণ করবে না।

 

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন

 

ভয়েস ফর রিফর্মের সমন্বয়ক ফাহিম মাশরুর মনে করেন, “ইন্টারনেট বন্ধে সুস্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা অত্যন্ত ইতিবাচক। তবে ‘বৈধ অনুপ্রবেশ’ যেন অপব্যবহার না হয়, সেজন্য প্রতিটি ক্ষেত্রেই আদালতের অনুমতি বাধ্যতামূলক করা দরকার।”

 

জনমতের জন্য উন্মুক্ত

 

১০২ ধারাবিশিষ্ট এ খসড়া ১৫ নভেম্বর পর্যন্ত জনমত গ্রহণ করবে। ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগে ডাক বা ইমেইলের মাধ্যমে মতামত পাঠানো যাবে।

মতামত নেওয়ার পর:

  • খসড়া বহু-পক্ষীয় বৈঠকে আলোচনা
  • আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিং
  • মন্ত্রিসভার অনুমোদন
  • এরপর চূড়ান্ত প্রকাশ

এক কর্মকর্তা বলেন, “এই আইনের লক্ষ্য নাগরিকদের অবিচ্ছিন্ন যোগাযোগের অধিকার নিশ্চিত করা। রাষ্ট্র একসময় নজরদারি করত, এখন স্বাধীনতার নিশ্চয়তা দিতে চায়।”

সব খবর

আরও পড়ুন

গণপরিষদ, সংবিধান সংস্কার ও ‘১৮০ কার্যদিবস’ নিয়ে বিভ্রান্তি

ভোটে জয় মানেই সরকার গঠন নয় গণপরিষদ, সংবিধান সংস্কার ও ‘১৮০ কার্যদিবস’ নিয়ে বিভ্রান্তি

বাজার অস্থিরতার মাঝেই ফের বাড়লো এলপিজি গ্যাসের দাম

১২ কেজি সিলিন্ডার ১,৩৫৬ টাকা বাজার অস্থিরতার মাঝেই ফের বাড়লো এলপিজি গ্যাসের দাম

শেষ মুহুর্তে গোঁজামিলের বিতর্কিত প্রকল্প নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার

চাপ বাড়বে নির্বাচিত সরকারের ওপর শেষ মুহুর্তে গোঁজামিলের বিতর্কিত প্রকল্প নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার

দুদক সংস্কারে অন্তত সাত উপদেষ্টার আপত্তি: ড. ইফতেখারুজ্জামান

দুদক সংস্কারে অন্তত সাত উপদেষ্টার আপত্তি: ড. ইফতেখারুজ্জামান

অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে তড়িঘড়ি একের পর এক সিদ্ধান্ত

দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি ও ব্যয় নিয়ে বাড়ছে প্রশ্ন অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে তড়িঘড়ি একের পর এক সিদ্ধান্ত

নির্বাচনে ধর্মকে ব্যবহার করে ভোট চাওয়ার প্রবণতা উদ্বেগজনক

আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)-এর বিবৃতি নির্বাচনে ধর্মকে ব্যবহার করে ভোট চাওয়ার প্রবণতা উদ্বেগজনক

বাংলাদেশে নির্বাচন: পর্দার আড়ালে কি এখনও শক্তিশালী ভূমিকা রাখছে সেনাবাহিনী?

আল জাজিরার প্রতিবেদন বাংলাদেশে নির্বাচন: পর্দার আড়ালে কি এখনও শক্তিশালী ভূমিকা রাখছে সেনাবাহিনী?

কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই বাংলাদেশে আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ছে

রয়টার্সের প্রতিবেদন কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই বাংলাদেশে আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ছে