সর্বশেষ

বিদেশে ভিসা ও অভিবাসন প্রক্রিয়া

কেবল যুক্তরাষ্ট্র নয়, নানা দেশের শর্তে বিপর্যস্ত বাংলাদেশ

কূটনীতি ডেস্ক বিডি ভয়েস
প্রকাশিত: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:১০
কেবল যুক্তরাষ্ট্র নয়, নানা দেশের শর্তে বিপর্যস্ত বাংলাদেশ

বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য বিদেশে ভিসা ও অভিবাসন প্রক্রিয়া দিন দিন কঠিন হয়ে উঠছে। যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের জন্য ইমিগ্র্যান্ট ভিসা বন্ধ করেছে। এতে পরিবার নিয়ে স্থায়ী হওয়ার স্বপ্ন ভেঙে গেছে অনেকের। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিককে বিয়ে করেও স্থায়ী হওয়ার সুযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। পাশাপাশি ব্যবসা ও পর্যটন ভিসার ক্ষেত্রে দিতে হচ্ছে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার মার্কিন ডলার জামানত।

 

যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের কারণ হিসেবে বলা হয়েছে, যেসব দেশের নাগরিকরা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সহায়তার ওপর বেশি নির্ভরশীল, তাদের সংখ্যা কমাতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকাশিত তালিকায় দেখা যায়, যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসী পরিবারগুলোর ৫৪.৮ শতাংশ সরকারি সুবিধা গ্রহণ করে। দক্ষিণ এশিয়ার ভুটান, আফগানিস্তান, পাকিস্তান ও নেপালও তালিকায় রয়েছে। তবে ভারত ও শ্রীলঙ্কা নেই।  

 

২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর থেকে বাংলাদেশি পাসপোর্টের ওপর বিভিন্ন দেশের ইমিগ্রেশনে আলাদা নজরদারি শুরু হয়েছে। নেপাল ও মালদ্বীপের বিমানবন্দরে বাংলাদেশিদের অতিরিক্ত জেরার মুখে পড়তে হচ্ছে। মিসর অন অ্যারাইভাল ভিসায় নতুন শর্ত যোগ করেছে।  

 

গত দুই বছরে বাংলাদেশিদের জন্য ভিসা জটিলতা বেড়েছে। সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, তুরস্ক, মিসরসহ অনেক দেশ ভিসা প্রত্যাখ্যান করছে বেশি হারে। ভিয়েতনাম পুরোপুরি ভিসা বন্ধ করেছে, ইন্দোনেশিয়া সীমিত করেছে। অস্ট্রেলিয়ায়ও প্রত্যাখ্যানের হার বেড়েছে। ভারতের পর্যটন ভিসা বন্ধ হওয়ায় ইউরোপের অনেক দেশের ভিসা প্রক্রিয়ায়ও সমস্যা তৈরি হয়েছে। কারণ এসব দেশের ভিসা দিল্লি থেকে ইস্যু হয়।  

 

নেদারল্যান্ডস জানিয়েছে, অনেক আবেদনকারী পড়াশোনার অজুহাতে ভিসা নিয়ে সেখানে থাকতে চান। এজন্য তারা ভিসা স্ক্রিনিং কঠোর করেছে। ব্র্যাকের শরিফুল হাসান বলেছেন, বিদেশে বাংলাদেশিদের নিয়ে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হয়েছে—যে তারা দেশে থাকতে চায় না। ফলে বৈধ আবেদনকারীরাও হয়রানির শিকার হচ্ছেন।  

 

আরব আমিরাতের ভিসা সংকটও দীর্ঘদিন ধরে চলছে। ২০১২ সালে বাংলাদেশিদের অপরাধ প্রবণতা বেড়ে যাওয়ার অভিযোগে সব ধরনের ভিসা বন্ধ করে দেয় আমিরাত। এখন শুধু ‘স্কিল ভিসা’ চালু আছে। প্রধান উপদেষ্টা দুই দফায় অনুরোধ করলেও আমিরাত সরকার সাড়া দেয়নি।  

 

অস্ট্রেলিয়া গত বছর বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সুযোগ বাড়ালেও এবার দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশকে সর্বোচ্চ ঝুঁকির তালিকায় রেখেছে। ফলে ভিসা স্ক্রিনিং কঠোর হবে।  

 

শ্রমবাজারেও সংকট দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ থেকে কর্মীরা ১৪১টি দেশে অভিবাসন করলেও ৯০ শতাংশ গেছেন মাত্র পাঁচটি দেশে। ওমান, বাহরাইন, ইরাক, লিবিয়া, সুদান, মালয়েশিয়া, মিসর, রোমানিয়া, ব্রুনাইয়ে শ্রমবাজার বন্ধ রয়েছে। মালয়েশিয়া দেড় বছর ধরে বন্ধ থাকলেও চালু করা যায়নি।  

 

অভিবাসন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন সম্ভাবনাময় বাজার ধরতে না পারলে দেশের অভিবাসন খাত বড় ঝুঁকিতে পড়বে।

সব খবর

আরও পড়ুন

আনন্দের আবহে উৎসব, বৃষ্টির শঙ্কা ও বাড়তি নিরাপত্তা

আজ ঈদুল ফিতর আনন্দের আবহে উৎসব, বৃষ্টির শঙ্কা ও বাড়তি নিরাপত্তা

এলএনজি সরবরাহেও যুক্তরাষ্ট্রের দিকেই ঝুঁকছে বাংলাদেশ

গ্যাস খাতে মার্কিন প্রভাব বাড়ছে এলএনজি সরবরাহেও যুক্তরাষ্ট্রের দিকেই ঝুঁকছে বাংলাদেশ

তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে স্থলভাগ ও সাগরে আন্তর্জাতিক দরপত্রের প্রস্তুতি

১৮০ দিনের পরিকল্পনায় অগ্রাধিকার তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে স্থলভাগ ও সাগরে আন্তর্জাতিক দরপত্রের প্রস্তুতি

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী আজ

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী আজ

ভারতের আধার কার্ডের আদলে দেশে আসতে পারে ‘ওয়ান সিটিজেন ওয়ান কার্ড’

ভারতের আধার কার্ডের আদলে দেশে আসতে পারে ‘ওয়ান সিটিজেন ওয়ান কার্ড’

সরকারের ভেতরে থেকেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি ঠেকাতে পারিনি

গোলটেবিল বৈঠকে ফরিদা আখতার সরকারের ভেতরে থেকেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি ঠেকাতে পারিনি

অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানে অনুদানের নামে দুর্নীতি উপদেষ্টা ফারুকীর

মানবজমিনের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানে অনুদানের নামে দুর্নীতি উপদেষ্টা ফারুকীর

বিকল্প উৎসের খোঁজে মরিয়া সরকার

জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা বিকল্প উৎসের খোঁজে মরিয়া সরকার