সর্বশেষ

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

বিদেশি পর্যবেক্ষকদের খরচ বহনের ‘বৈষম্যমূলক’ সিদ্ধান্ত বাতিল চায় টিআইবি

রাজধানী ডেস্ক বিডি ভয়েস
প্রকাশিত: ৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১৪:৪২
বিদেশি পর্যবেক্ষকদের খরচ বহনের ‘বৈষম্যমূলক’ সিদ্ধান্ত বাতিল চায় টিআইবি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের থাকা ও খাওয়ার খরচ বহনের নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। সংস্থাটি বলেছে, এ সিদ্ধান্ত অপরিণামদর্শী, বৈষম্যমূলক এবং স্বার্থের দ্বন্দ্ব তৈরি করে, যা নিরপেক্ষ নির্বাচন পর্যবেক্ষণের পরিপন্থী।

 

মঙ্গলবার দেওয়া এক বিবৃতিতে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, বিদেশি পর্যবেক্ষকদের সরব উপস্থিতি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা বাড়াবে—এমন যুক্তিতে ইসির নেওয়া সিদ্ধান্ত বাস্তবে উল্টো ফল বয়ে আনতে পারে। তাঁর মতে, বিদেশি পর্যবেক্ষকদের ব্যয়ভার বহনের মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন নিজেই পর্যবেক্ষণ প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

 

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, এই সিদ্ধান্ত যে বৈষম্যমূলক, তা নির্বাচন কমিশনের অনুধাবনে না আসা বিস্ময়কর। বিদেশি পর্যবেক্ষকদের ক্ষেত্রে যদি থাকা-খাওয়ার খরচ বহন করা হয়, তবে একই নীতি দেশীয় পর্যবেক্ষকদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হওয়া উচিত। অন্যথায় এটি স্পষ্টতই অসম আচরণের শামিল।

 

তিনি আরও বলেন, এ ধরনের সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করলে বিদেশি পর্যবেক্ষকরা ‘ভাড়াটে’ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়বেন। একই সঙ্গে নির্বাচন কমিশনের আতিথেয়তা গ্রহণ করে তারা কতটা স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও স্বার্থের দ্বন্দ্বমুক্তভাবে নির্বাচন ও কমিশনের ভূমিকা মূল্যায়ন করতে পারবেন—সে প্রশ্ন থেকেই যায়। কারণ পর্যবেক্ষকদের একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হলো নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রমও মূল্যায়ন করা।

 

বিদেশি পর্যবেক্ষকদের উদ্দেশে প্রশ্ন তুলে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, কোন যুক্তিতে তারা ইসি বা বাংলাদেশ সরকারের অর্থায়নে এমন দায়িত্ব পালন করতে আগ্রহী হবেন? নৈতিকতার মানদণ্ড ও স্বার্থের দ্বন্দ্ব বিবেচনায় রেখে তারা আদৌ কি বস্তুনিষ্ঠ, নির্মোহ ও পক্ষপাতহীন মূল্যায়ন দিতে পারবেন?

 

তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, ২০০৮ সালের নির্বাচন বা তার আগের নির্বাচনগুলোতে রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যয় করে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের এমন সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার প্রয়োজন হয়নি। অথচ ২০১৮ ও ২০২৪ সালের নির্বাচনে কেন এই ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল, সে প্রশ্নও তোলেন তিনি।

 

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, অতীতে বিদেশি পর্যবেক্ষকদের সুযোগ-সুবিধা দিয়ে নির্বাচনকে বিশ্বাসযোগ্য হিসেবে তুলে ধরার প্রচেষ্টা কতটা সফল হয়েছিল, তা বর্তমান নির্বাচন কমিশনের বিবেচনায় নেওয়া উচিত। জুলাই আন্দোলনের পর জনগণের মধ্যে যে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে, ইসি যেন কোনো বিতর্কিত সিদ্ধান্তের মাধ্যমে তা ক্ষুণ্ন না করে—এই প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।

সব খবর

আরও পড়ুন

গণপরিষদ, সংবিধান সংস্কার ও ‘১৮০ কার্যদিবস’ নিয়ে বিভ্রান্তি

ভোটে জয় মানেই সরকার গঠন নয় গণপরিষদ, সংবিধান সংস্কার ও ‘১৮০ কার্যদিবস’ নিয়ে বিভ্রান্তি

বাজার অস্থিরতার মাঝেই ফের বাড়লো এলপিজি গ্যাসের দাম

১২ কেজি সিলিন্ডার ১,৩৫৬ টাকা বাজার অস্থিরতার মাঝেই ফের বাড়লো এলপিজি গ্যাসের দাম

শেষ মুহুর্তে গোঁজামিলের বিতর্কিত প্রকল্প নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার

চাপ বাড়বে নির্বাচিত সরকারের ওপর শেষ মুহুর্তে গোঁজামিলের বিতর্কিত প্রকল্প নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার

দুদক সংস্কারে অন্তত সাত উপদেষ্টার আপত্তি: ড. ইফতেখারুজ্জামান

দুদক সংস্কারে অন্তত সাত উপদেষ্টার আপত্তি: ড. ইফতেখারুজ্জামান

অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে তড়িঘড়ি একের পর এক সিদ্ধান্ত

দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি ও ব্যয় নিয়ে বাড়ছে প্রশ্ন অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে তড়িঘড়ি একের পর এক সিদ্ধান্ত

নির্বাচনে ধর্মকে ব্যবহার করে ভোট চাওয়ার প্রবণতা উদ্বেগজনক

আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)-এর বিবৃতি নির্বাচনে ধর্মকে ব্যবহার করে ভোট চাওয়ার প্রবণতা উদ্বেগজনক

বাংলাদেশে নির্বাচন: পর্দার আড়ালে কি এখনও শক্তিশালী ভূমিকা রাখছে সেনাবাহিনী?

আল জাজিরার প্রতিবেদন বাংলাদেশে নির্বাচন: পর্দার আড়ালে কি এখনও শক্তিশালী ভূমিকা রাখছে সেনাবাহিনী?

কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই বাংলাদেশে আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ছে

রয়টার্সের প্রতিবেদন কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই বাংলাদেশে আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ছে