জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এখন সবচেয়ে আলোচিত প্রশ্ন—রাষ্ট্রপতি পদে কী পরিবর্তন আসছে। বর্তমান রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন কয়েক মাস আগে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করানোর পর তিনি বঙ্গভবনের দায়িত্ব ছেড়ে দিতে পারেন। যদিও সেটি তাৎক্ষণিক ঘোষণা ছিল না, তবুও নির্বাচনের পর তার সেই বক্তব্য নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
রাষ্ট্রপতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই সরে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা ব্যাখ্যা চলছে। বিশ্লেষকদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ের রাজনৈতিক টানাপোড়েন ও প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতা নিয়ে তার অসন্তোষের ইঙ্গিত ছিল ওই বক্তব্যে। ফলে নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে বঙ্গভবনে নেতৃত্ব পরিবর্তনের সম্ভাবনাকে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে প্রথমে প্রধান বিচারপতি অস্থায়ীভাবে দায়িত্ব নেবেন। এরপর জাতীয় সংসদের সদস্যদের ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন। অর্থাৎ আইনসভাকে পাশ কাটিয়ে সরাসরি কাউকে এই পদে বসানোর সুযোগ নেই। পুরো প্রক্রিয়াই হবে সাংবিধানিক কাঠামোর ভেতরে এবং সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে।
এই প্রেক্ষাপটে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস-কে ঘিরেও জল্পনা তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক মহলের একাংশ মনে করছে, বিজয়ী বিএনপি ও সম্ভাব্য বিরোধী জামায়াতের ঐকমত্যের প্রার্থী করতে পারে ইউনূসকে। তবে তার দপ্তরের পক্ষ থেকে বারবার বলা হয়েছে, দায়িত্ব শেষ হলে তিনি আর কোনো সরকারি বা সাংবিধানিক পদে থাকতে চান না।
রাষ্ট্রপতি পদটি মূলত আনুষ্ঠানিক হলেও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, সেনাবাহিনীর সর্বাধিনায়কত্ব এবং সাংবিধানিক ধারাবাহিকতার কারণে এর গুরুত্ব কম নয়। তাই সাহাবুদ্দিন সত্যিই সরে দাঁড়ালে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে সংসদ ও রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
সব মিলিয়ে, কয়েক মাস আগের একটি মন্তব্যই এখন নতুন করে আলোচনার কেন্দ্র—বঙ্গভবনের পরবর্তী অধ্যায়ে কে আসছেন, তা নির্ধারণ করবে নির্বাচন-পরবর্তী সংসদের রাজনৈতিক সমীকরণ।