সর্বশেষ

দুই সপ্তাহেও সমাধান নেই

অন্তর্বর্তী সরকারের নীতিগত ব্যর্থতায় দীর্ঘায়িত হচ্ছে এলপিজি সংকট

প্রকাশিত: ১৩ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০০
অন্তর্বর্তী সরকারের নীতিগত ব্যর্থতায় দীর্ঘায়িত হচ্ছে এলপিজি সংকট

প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চলমান তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সংকটের এখনও কার্যকর কোনো সমাধান মেলেনি। সরকারের একাধিক উদ্যোগ সত্ত্বেও বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক হয়নি। ব্যবসায়ীদের পর্যাপ্ত সাড়া না পাওয়ার পাশাপাশি সরকারি পর্যায়ে আমদানি ও বোতলজাতকরণের সীমিত সক্ষমতার কারণে সংকট দ্রুত কাটার সম্ভাবনা ক্ষীণ বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা।

 

দেশের এলপিজি বাজারের প্রায় ৯৮ শতাংশই বেসরকারি খাতের নিয়ন্ত্রণে, সরকারি অংশীদারত্ব মাত্র ২ শতাংশ। সরকার সরাসরি বড় পরিসরে এলপিজি আমদানি করে না। রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান মূলত গ্যাসক্ষেত্রের কনডেনসেট ও ইস্টার্ন রিফাইনারি থেকে পাওয়া সীমিত পরিমাণ এলপিজি বোতলজাত করে বাজারে ছাড়ে, যা জাতীয় চাহিদার তুলনায় অতি নগণ্য।

 

জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান জানিয়েছেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে সরকার নিজ উদ্যোগে এলপিজি আমদানি শুরু করতে পারে। তবে বাস্তবতা হলো—আমদানির পর বোতলজাত ও দেশব্যাপী বিতরণের জন্য প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও সময় সরকারের হাতে নেই। সাধারণত এলসি খোলা থেকে শুরু করে আমদানি, বোতলজাত ও সরবরাহ পর্যন্ত অন্তত দুই মাস সময় লাগে।

 

সম্প্রতি এলপিজি ব্যবসায়ীদের জন্য এলসি খোলার ক্ষেত্রে ২৭০ দিনের ঋণসুবিধা এবং ভ্যাট ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কিন্তু এসব সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে ভবিষ্যৎ আমদানির ক্ষেত্রে; চলমান সংকট নিরসনে এর তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়বে না বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ডিসেম্বরে ২৩টি লাইসেন্সপ্রাপ্ত কোম্পানির মধ্যে মাত্র ১০টি এলপিজি আমদানি করতে পেরেছে। বাজারের বড় কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সরবরাহ কমে যাওয়ায় ডিলার ও খুচরা বিক্রেতাদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়, ফলে আগাম মজুত প্রবণতা বাড়ে এবং সংকট আরও তীব্র হয়।

 

এলপিজি অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (লোয়াব) জানিয়েছে, সীমিত আকারে কার্গো আসা শুরু হয়েছে এবং আগামী ১০–১২ দিনের মধ্যে বাজার ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হতে পারে। তবে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ম. তামিমের মতে, দামের চেয়েও বড় সমস্যা হলো সরবরাহ ঘাটতি। চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ নিশ্চিত না হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি অব্যাহত থাকবে। তিনি সংকট কাটাতে আমদানির বাধা দ্রুত দূর করা ও বাস্তবসম্মত নীতিগত ছাড় দেওয়ার ওপর জোর দেন।

 

বর্তমানে সরকারি এলপিজি উৎপাদন ক্ষমতা বছরে প্রায় ৩৩ হাজার মেট্রিক টন, যেখানে দেশের বার্ষিক চাহিদা ১২ থেকে ১৬ লাখ মেট্রিক টন। এই বিশাল ব্যবধানই সংকট দীর্ঘায়িত হওয়ার মূল কারণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সব খবর

আরও পড়ুন

গণপরিষদ, সংবিধান সংস্কার ও ‘১৮০ কার্যদিবস’ নিয়ে বিভ্রান্তি

ভোটে জয় মানেই সরকার গঠন নয় গণপরিষদ, সংবিধান সংস্কার ও ‘১৮০ কার্যদিবস’ নিয়ে বিভ্রান্তি

বাজার অস্থিরতার মাঝেই ফের বাড়লো এলপিজি গ্যাসের দাম

১২ কেজি সিলিন্ডার ১,৩৫৬ টাকা বাজার অস্থিরতার মাঝেই ফের বাড়লো এলপিজি গ্যাসের দাম

শেষ মুহুর্তে গোঁজামিলের বিতর্কিত প্রকল্প নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার

চাপ বাড়বে নির্বাচিত সরকারের ওপর শেষ মুহুর্তে গোঁজামিলের বিতর্কিত প্রকল্প নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার

দুদক সংস্কারে অন্তত সাত উপদেষ্টার আপত্তি: ড. ইফতেখারুজ্জামান

দুদক সংস্কারে অন্তত সাত উপদেষ্টার আপত্তি: ড. ইফতেখারুজ্জামান

অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে তড়িঘড়ি একের পর এক সিদ্ধান্ত

দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি ও ব্যয় নিয়ে বাড়ছে প্রশ্ন অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে তড়িঘড়ি একের পর এক সিদ্ধান্ত

নির্বাচনে ধর্মকে ব্যবহার করে ভোট চাওয়ার প্রবণতা উদ্বেগজনক

আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)-এর বিবৃতি নির্বাচনে ধর্মকে ব্যবহার করে ভোট চাওয়ার প্রবণতা উদ্বেগজনক

বাংলাদেশে নির্বাচন: পর্দার আড়ালে কি এখনও শক্তিশালী ভূমিকা রাখছে সেনাবাহিনী?

আল জাজিরার প্রতিবেদন বাংলাদেশে নির্বাচন: পর্দার আড়ালে কি এখনও শক্তিশালী ভূমিকা রাখছে সেনাবাহিনী?

কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই বাংলাদেশে আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ছে

রয়টার্সের প্রতিবেদন কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই বাংলাদেশে আদানির বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ছে