স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠযোদ্ধা ও প্রখ্যাত নজরুলসংগীত শিল্পী ডালিয়া নওশীন আর নেই। বুধবার দুপুর ১টার দিকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭১ বছর।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ক্যানসারে ভুগছিলেন এই গুণী শিল্পী। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গত ২৭ মার্চ তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শেষ দিকে তিনি নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন ছিলেন।
নজরুলসংগীত শিল্পী খায়রুল আনাম শাকিল জানান, কিছুদিন ধরেই ডালিয়া নওশীন গুরুতর অসুস্থ ছিলেন। মৃত্যুর আগের দিনও তিনি হাসপাতালে গিয়ে তার খোঁজ নিয়েছিলেন।
মাগরিবের নামাজের পর গুলশান সোসাইটি মসজিদে তার জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে বনানী কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।
প্রখ্যাত স্থপতি মাজহারুল ইসলামের কন্যা ডালিয়া নওশীন বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের এক উজ্জ্বল নাম। সংগীতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ বাংলাদেশ সরকার তাকে ২০২০ সালে একুশে পদকে ভূষিত করে।
খুব অল্প বয়স থেকেই সংগীতের প্রতি তার আগ্রহ ছিল। মাত্র পাঁচ বছর বয়সে তিনি সুধীন দাশের কাছে উত্তর ভারতীয় ধ্রুপদী সংগীত ও নজরুলসংগীতের তালিম নেন। পরে ১৯৭৩ সালে ছায়ানট থেকে পাঁচ বছর মেয়াদি সংগীত শিক্ষা সম্পন্ন করে একই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন।
মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ছিলেন কিশোরী। ১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসে পরিবারের সঙ্গে কলকাতায় গিয়ে ‘বাংলাদেশ মুক্তি সংগ্রামী শিল্পী সংস্থা’র সঙ্গে যুক্ত হন। সেখানে ‘রূপান্তরের গান’ নামের গীতিনাট্যে অংশ নেন, যা পরবর্তীতে ‘মুক্তির গান’ নামে পরিচিতি পায়।
মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশের পক্ষে বিভিন্ন শরণার্থী শিবির ও স্থানে সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে তিনি মুক্তিযোদ্ধাদের অনুপ্রাণিত করেছেন। পরে তিনি স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রে যোগ দিয়ে কণ্ঠযোদ্ধা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে ‘বিশেষ গ্রেডের’ শিল্পী হিসেবে তালিকাভুক্ত ডালিয়া নওশীন দেশ-বিদেশে অসংখ্য অনুষ্ঠানে সংগীত পরিবেশন করেছেন। নাগরিক জীবনে ‘পৌষ মেলা’ আয়োজনের ক্ষেত্রেও তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে ছায়ানট ও বাংলাদেশ গণসঙ্গীত সমন্বয় পরিষদসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন। শোকবার্তায় বলা হয়, মুক্তিযুদ্ধের সময় সংগীতের মাধ্যমে মানুষের মনোবল জাগিয়ে তুলতে তার অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।