হত্যা ও রায় জালিয়াতির অভিযোগে দায়ের করা পৃথক চার মামলায় হাই কোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক। তবে আরেকটি মামলায় জামিন না পাওয়ায় আপাতত তার কারামুক্তি হচ্ছে না।
রোববার বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাই কোর্ট বেঞ্চ এ সংক্রান্ত রুল নিষ্পত্তি করে চার মামলায় তার জামিন মঞ্জুর করেন।
আদালতে খায়রুল হকের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী, সারা হোসেন, মোতাহার হোসেন সাজু ও সাঈদ আহমেদ রাজা। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুল্যাহ আল মাহমুদ, নাহিদ হোসেন, মো. জহিরুল ইসলাম সুমন ও মো. আক্তারুজ্জামান।
এর আগে গত বছরের ২৬ অক্টোবর হত্যা, রায় জালিয়াতি ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলাসহ মোট পাঁচ মামলায় তাকে কেন জামিন দেওয়া হবে না—তা জানতে চেয়ে হাই কোর্টের আরেকটি বেঞ্চ রুল জারি করেছিল।
গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির বাসা থেকে এ বি এম খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। ওই দিন রাতেই জুলাই আন্দোলনের সময় রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় যুবদল কর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
পরবর্তীতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে বেআইনি রায় দেওয়া এবং জাল রায় তৈরির অভিযোগে ২০২৪ সালের ২৭ আগস্ট রাজধানীর শাহবাগ থানায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন একটি মামলা দায়ের করেন। একই ধরনের অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানায় নুরুল ইসলাম মোল্লা আরেকটি মামলা করেন। শাহবাগ থানার মামলায় খায়রুল হককে সাত দিনের রিমান্ডেও নেওয়া হয়েছিল।
এর আগে ৬ আগস্ট বিধিবহির্ভূতভাবে রাজউকের প্লট গ্রহণের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে। দুদকের উপপরিচালক আব্দুল্লাহ আল মামুনের করা ওই মামলায় রাজউকের কয়েকজন সাবেক কর্মকর্তাকেও আসামি করা হয়েছে।
এ বি এম খায়রুল হক ২০১০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে ২০১১ সালের ১৭ মে পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করেন। তার নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ ২০১১ সালের ১০ মে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনী বাতিল করে রায় দেয়, যার মাধ্যমে দেশে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত হয়।