রাজধানীর গুলশানে প্রয়াত শিল্পপতি মাইনুল ইসলামের ফ্ল্যাট দখলের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় সংসদ সদস্য গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর দুই ছেলেসহ চারজনের জামিন বাতিল করে তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত।
ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ বুধবার এ আদেশ দেন। গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে গিয়াস কাদের চৌধুরীর দুই ছেলে সামির কাদের চৌধুরী ও শাকির কাদের চৌধুরী, মেরিনা ইরশাদ এবং আশিকুর রহমানের বিরুদ্ধে।
বাদীপক্ষের আইনজীবী জাকির হোসেন জুয়েল জানান, মামলার ধার্য তারিখে ১৫ আসামির মধ্যে ৯ জন আদালতে হাজির হন। এমপি গিয়াস কাদের চৌধুরী সংসদ অধিবেশনের কারণে এবং তার নিরাপত্তারক্ষী রাকিব চৌধুরী সঙ্গত কারণে আদালতে হাজির হতে পারেননি। তবে অপর চার আসামি আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় তাদের জামিন বাতিলের আবেদন করা হয় এবং আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
প্রয়াত শিল্পপতি মাইনুল ইসলামের স্ত্রী ফারজানা আন্না ইসলাম গত বছরের ৮ সেপ্টেম্বর মামলাটি দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, গুলশানের মডেল টাউন এলাকায় ছয়তলা ভবনের দ্বিতীয় তলার ফ্লোর দখলের চেষ্টা করেন আসামিরা। তারা জাল দলিল তৈরি করে ফ্ল্যাট দখলের চেষ্টা চালান।
২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের পর আসামিরা আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। গত বছরের ১৪ জুলাই তারা ফ্ল্যাটে প্রবেশ করে তালা ভেঙে দখলের চেষ্টা করে এবং ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে। পরে ২৮ আগস্ট তারা আবারও বাসায় প্রবেশ করে হামলা চালায়, বাসার লোকজনকে আহত করে এবং ১০ লাখ টাকা ও ১০ ভরি স্বর্ণালঙ্কার লুট করে নিয়ে যায়। চলে যাওয়ার সময় গ্যারেজ ভাঙচুর করে প্রায় তিন কোটি টাকার ক্ষতি করে।
বাদীপক্ষের অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা ফারজানা আন্না ইসলামকে নানা ধরনের হুমকি দেয় এবং ফ্ল্যাট দখলের চেষ্টা অব্যাহত রাখে। হামলায় আহতরা পরে কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
অভিযোগ অস্বীকার করে গিয়াস কাদের চৌধুরীর বড় ছেলে সামির কাদের চৌধুরী বলেন, “এটা পুরোপুরি বানোয়াট মামলা। গত সাড়ে চার বছরে আমরা ওই ভবনের ধারে কাছে যাইনি।” তিনি দাবি করেন, ফারজানা আন্না ইসলামের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা মামলা দায়ের করা হয়েছে।