২৫ বছর পর ঐতিহ্যবাহী বসন্ত উৎসব ফিরে আসায় লাহোরে উচ্ছ্বাস তুঙ্গে। মাত্র তিন দিনে শহরের বাজারগুলোতে ৫৪ কোটি রুপিরও বেশি মূল্যের ঘুড়ি ও ঘুড়ির সুতা বিক্রি হয়েছে। কাইট অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, শুধু মঙ্গলবারই লাহোরের বিভিন্ন বাজারে ৫ লাখের বেশি ঘুড়ি বিক্রি হয়। বসন্ত উৎসবের কেনাকাটা টানা তৃতীয় দিনেও অব্যাহত ছিল।
আগামী ৬ থেকে ৮ ফেব্রুয়ারি লাহোরে বসন্ত উৎসব উদ্যাপিত হবে। দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়ে এবার কঠোর শর্ত সাপেক্ষে উৎসবের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। ঘুড়ি ও সুতা বিক্রির জন্য নির্ধারিত বাজারগুলোতে মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। দুই দশকেরও বেশি সময় পর উৎসব ফেরায় ঘুড়ি ওড়ানোর শৌখিন মানুষজন প্রস্তুতিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।
মোচি গেট বাজারে বিপুলসংখ্যক ক্রেতা জড়ো হয়ে নিজেদের পছন্দের ঘুড়ি ও সুতা কিনেছেন। জেলা প্রশাসনের শোভাযাত্রায় ঢোলের তালে উৎসবের আমেজ আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে, যা বাজারে কেনাকাটা বাড়িয়ে দেয়। তবে কিছু নাগরিক অভিযোগ করেছেন, ঘুড়ি ও সুতার দাম অনেক বেশি। তারা সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সিনিয়র প্রাদেশিক মন্ত্রী মরিয়ম আওরঙ্গজেব মোচি গেট পরিদর্শন করে বসন্ত উপলক্ষে কেনাকাটার ব্যবস্থাপনা পর্যালোচনা করেছেন। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, নিরাপদভাবে বসন্ত উদ্যাপনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে এবং নাগরিকদের এসওপি কঠোরভাবে মেনে চলার আহ্বান জানান।
অন্যদিকে পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নওয়াজ ৭ ফেব্রুয়ারি লিবার্টি চক-এ বসন্ত উদ্যাপনের ঘোষণা দিয়েছেন। পাঞ্জাব প্রশাসনের জারি করা প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ৬ ও ৭ ফেব্রুয়ারি পুরো প্রদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। বসন্তের প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানোয় লাহোর রঙিন সাজে সেজেছে। উৎসবের অংশ হিসেবে লিবার্টি চক-এ একটি বিশাল আকৃতির ঘুড়ি স্থাপন করা হয়েছে। শুধু লাহোর নয়, আরও চারটি জেলায় ঘুড়ি ওড়ানোর উপকরণ তৈরির অনুমতি দিয়েছে পাঞ্জাব মন্ত্রিসভা।
প্রাদেশিক সরকার জানিয়েছে, উৎসব চলাকালে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাকিস্তান আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৬ ও ৭ ফেব্রুয়ারি লাহোরে আবহাওয়া থাকবে শীতল ও শুষ্ক। ৮ ফেব্রুয়ারি আংশিক মেঘলা আকাশ থাকতে পারে। তবে তিন দিনই ঘুড়ি ওড়ানোর জন্য আবহাওয়া অনুকূল থাকবে এবং বাতাসের গতি ঘণ্টায় ১০ থেকে ১৫ কিলোমিটার হবে। বিদ্যুৎ লাইনের আশপাশে ঘুড়ি না ওড়ানোর জন্য বিশেষভাবে সতর্ক করেছে আবহাওয়া অফিস।