সর্বশেষ

ন্যূনতম বেতনসীমা দ্বিগুণ, অবস্থানকাল সীমিত

মালয়েশিয়া থেকে ফিরতে হতে পারে হাজারো বাংলাদেশি প্রবাসীকে

প্রকাশিত: ২৮ মার্চ ২০২৬, ০৩:৩০
মালয়েশিয়া থেকে ফিরতে হতে পারে হাজারো বাংলাদেশি প্রবাসীকে

দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার উদীয়মান অর্থনীতির দেশ মালয়েশিয়া বিদেশী কর্মীর সংখ্যা কমিয়ে আনার পরিকল্পনা নিয়েছে। বর্তমানে দেশটির শ্রমশক্তির ১৪ শতাংশের বেশি বিদেশী কর্মী হলেও সরকার ২০৩৫ সালের মধ্যে তা ৫ শতাংশে নামিয়ে আনতে চায়। মূল লক্ষ্য হলো স্থানীয় নাগরিকদের চাকরির বাজারে অংশগ্রহণ বাড়ানো।

 

এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে মালয়েশিয়ায় কর্মরত বহু বাংলাদেশী শ্রমিক ও পেশাজীবীকে দেশে ফিরতে হতে পারে। বর্তমানে দেশটিতে আট লাখের বেশি বাংলাদেশী বৈধভাবে কাজ করছেন, আর অবৈধভাবে বসবাস করছেন আরও কয়েক লাখ। বাংলাদেশ থেকে সাধারণ শ্রমিক পাঠানোর পথও কার্যত বন্ধ হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

 

নতুন নীতিমালা কার্যকর হবে আগামী ১ জুন থেকে। বিদেশী কর্মীদের ভিসা পেতে ন্যূনতম বেতনসীমা প্রায় দ্বিগুণ করা হয়েছে। এমপ্লয়মেন্ট পাসের তিনটি ক্যাটাগরিতে বেতনসীমা যথাক্রমে ২০ হাজার, ১৯ হাজার ৯৯৯ এবং ৯ হাজার ৯৯৯ রিঙ্গিত নির্ধারণ করা হয়েছে। অবস্থানকাল সর্বোচ্চ পাঁচ থেকে ১০ বছরের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। মেয়াদ শেষে নিয়োগকর্তাদের স্থানীয় কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনা উপস্থাপন করতে হবে।

 

মালয়েশিয়া সরকারের মতে, স্বল্পদক্ষ বিদেশী শ্রমিকের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা দেশের অর্থনীতির গতি শ্লথ করেছে। কম দক্ষ ও কম মজুরির কাজের আধিক্য উৎপাদনশীলতার প্রবৃদ্ধি কমিয়ে দিয়েছে। তাই উচ্চ বেতনভোগী প্রবাসীদের ক্ষেত্রে কঠোর শর্ত আরোপ করা হচ্ছে।

 

বাংলাদেশী প্রবাসীরা বলছেন, নতুন নিয়মে তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। কেউ কেউ বিকল্প গন্তব্যের কথা ভাবছেন। মালয়েশিয়ার সানওয়ে ইউনিভার্সিটির প্রভাষক ড. মো. ইমতিয়াজ হোসেন বলেন, “আমরা যারা পেশাজীবী রয়েছি সবার মধ্যে উদ্বিগ্নতা রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদে এখানে থাকার পরিকল্পনা করেছিলাম, কিন্তু এখন বিকল্প ভাবতে হবে।”

 

তিনি মনে করেন, বড় প্রতিষ্ঠান ছাড়া নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন কঠিন হবে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো বাধ্য হয়েই স্থানীয়দের নিয়োগ দেবে। ফলে বিদেশীদের চাকরি হারানোর আশঙ্কা বাড়ছে।

 

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, রেমিট্যান্স আহরণের দিক থেকে মালয়েশিয়া বর্তমানে চতুর্থ স্থানে রয়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে দেশটিতে থাকা বাংলাদেশীরা ২০৩ কোটি ডলারের বেশি রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন।

 

অভিবাসন বিশেষজ্ঞ আসিফ মুনীর বলেন, “বাংলাদেশী প্রফেশনালদের দক্ষতা যথেষ্ট না হলে তাদের দেশে ফিরতে হতে পারে। সরকারকে এখনই বিকল্প বাজার খুঁজে বের করার কৌশল নিতে হবে।”

সব খবর

আরও পড়ুন

সমাধানে ভারতের জনশক্তির দিকে ঝুঁকছে বার্লিন

দক্ষ কর্মীর সংকটে জার্মানি সমাধানে ভারতের জনশক্তির দিকে ঝুঁকছে বার্লিন

একাত্তরে বাংলাদেশে সংঘটিত গণহত্যার স্বীকৃতি চেয়ে মার্কিন কংগ্রেসে প্রস্তাব

একাত্তরে বাংলাদেশে সংঘটিত গণহত্যার স্বীকৃতি চেয়ে মার্কিন কংগ্রেসে প্রস্তাব

নিরাপত্তা কড়াকড়ি ও আতঙ্কে ম্লান উৎসব

যুদ্ধের ছায়ায় মধ্যপ্রাচ্যে ঈদ নিরাপত্তা কড়াকড়ি ও আতঙ্কে ম্লান উৎসব

হরমুজ প্রণালিতে আটকে বাংলাদেশের চার জাহাজসহ ১৪৬ নাবিক-ক্রু ঝুঁকিতে

কূটনৈতিক উদ্যোগ চাইছে বিএসসি হরমুজ প্রণালিতে আটকে বাংলাদেশের চার জাহাজসহ ১৪৬ নাবিক-ক্রু ঝুঁকিতে

কাবুলের হাসপাতালে পাকিস্তানের বিমান হামলা

৪০০ জন নিহতের আশঙ্কা কাবুলের হাসপাতালে পাকিস্তানের বিমান হামলা

প্রতিশোধ নিতে পাকিস্তানে আফগান বাহিনীর হামলা

১৪ পাকিস্তানি সেনা নিহত প্রতিশোধ নিতে পাকিস্তানে আফগান বাহিনীর হামলা

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সংকুচিত হচ্ছে ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়ের দরজা

বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য সংকুচিত হচ্ছে ব্রিটিশ বিশ্ববিদ্যালয়ের দরজা

বরফ গলার আভাস দিচ্ছে নতুন ডিজিএফআই প্রধানের ভারত সফর

বিএনপি সরকারের সাথে ভারতের সম্পর্ক বরফ গলার আভাস দিচ্ছে নতুন ডিজিএফআই প্রধানের ভারত সফর