সর্বশেষ

নাগরিক প্ল্যাটফর্মের সংলাপে রেহমান সোবহান

রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে বিপুলসংখ্যক মানুষ কারাগারে ধুঁকছে

রাজধানী ডেস্ক বিডি ভয়েস
প্রকাশিত: ১৩ মার্চ ২০২৬, ০৬:০০
রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে বিপুলসংখ্যক মানুষ কারাগারে ধুঁকছে

দেশে রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে বিপুলসংখ্যক মানুষ কারাগারে বন্দি হয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন অর্থনীতিবিদ ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ–এর চেয়ারম্যান রেহমান সোবহান। তিনি বলেন, এটি মানবাধিকারের গুরুতর লঙ্ঘন এবং একই সঙ্গে দেশের বিচারব্যবস্থার দুর্বলতারও প্রমাণ।

 

বুধবার বিকেলে রাজধানীর বাংলাদেশ–চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র–এ আয়োজিত এক সংলাপে তিনি এ কথা বলেন। ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০২৫: নতুন সংসদের কাছে প্রত্যাশা’ শীর্ষক এই সংলাপের আয়োজন করে এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম।

সংলাপে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদসহ বিভিন্ন মানবাধিকারকর্মী, গবেষক ও নীতিনির্ধারকরা।

 

রেহমান সোবহান বলেন, রাজনৈতিক কারণে মানুষের স্বাধীনতা হরণ করা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তার মতে, এই পরিস্থিতি শুধু মানবাধিকারের লঙ্ঘনই নয়, বরং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতারও প্রতিফলন।

 

তিনি বলেন, “বর্তমানে দেশে বিপুলসংখ্যক মানুষ রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কারাগারে ধুঁকছে। এটি মানবাধিকারের স্পষ্ট লঙ্ঘন এবং বিচারব্যবস্থার ব্যর্থতা। অন্তর্বর্তী সরকারের কাছ থেকে আমরা আইনের শাসন রক্ষায় আরও দৃঢ় অঙ্গীকার প্রত্যাশা করেছিলাম।”

 

সংলাপে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বারবার দেখা গেছে ক্ষমতায় থাকা সরকারগুলো বিরোধী দলের অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত হয়েছে। আবার ক্ষমতার পালাবদলের পর একই চক্র পুনরাবৃত্তি হয়।

 

রেহমান সোবহান বলেন, “দুর্ভাগ্যজনকভাবে ইতিহাস সাক্ষী যে পূর্ববর্তী সরকারগুলো বিরোধীদের অধিকার লঙ্ঘন করেছে। আবার যখন সেই বিরোধীরাই ক্ষমতায় আসে, তখন তারা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পরিবর্তে নিজেদের বিরোধীদের মানবাধিকার লঙ্ঘনের পথেই হাঁটে।”

 

তিনি প্রশ্ন তোলেন, নতুন সংসদের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কী হবে। তার মতে, যারা নিজেদের মানবাধিকারের রক্ষক হিসেবে তুলে ধরছেন, তাদের দেখাতে হবে যে দেশে সত্যিকার অর্থে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।

 

তিনি বলেন, “আমাদের সত্যিই একটি স্বাধীন বিচার বিভাগ দরকার। বিচারব্যবস্থা যেন মানবাধিকার রক্ষার হাতিয়ার হয়, লঙ্ঘনের মাধ্যম না হয়—এটাই এখন বড় প্রশ্ন।”

 

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ পাস হবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেন রেহমান সোবহান। তবে এই কমিশনের কার্যকারিতা অনেকটাই নির্ভর করবে সরকারের আন্তরিকতার ওপর।

 

তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে সালাহউদ্দিন আহমদের জন্য এটি এক ধরনের “লিটমাস টেস্ট” হবে—তিনি বেআইনিভাবে আটক ব্যক্তিদের মানবাধিকার পুনরুদ্ধার এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় কতটা কার্যকর ভূমিকা রাখেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

 

সংলাপে বক্তারা বলেন, মানবাধিকার কমিশনকে কার্যকর ও স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তুলতে হলে রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা জরুরি।

সব খবর

আরও পড়ুন

জানুয়ারি–ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের গণমাধ্যমের পরিস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল

বিএনএন এশিয়ার প্রতিবেদন জানুয়ারি–ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশের গণমাধ্যমের পরিস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ ছিল

রাজনীতিবিদ, আমলা ও সাংবাদিকদের আটক করে রাখায় আইনের শাসন নিয়ে বিতর্ক

বিনা বিচারে কারাবন্দি আর কতদিন? রাজনীতিবিদ, আমলা ও সাংবাদিকদের আটক করে রাখায় আইনের শাসন নিয়ে বিতর্ক

ঢাবি শিক্ষক অধ্যাপক জামাল উদ্দীনের জামিন হয়নি

ঢাবি শিক্ষক অধ্যাপক জামাল উদ্দীনের জামিন হয়নি

রাজনৈতিক বিবেচনায় দায়ের গণমামলা পুনর্মূল্যায়ন ও আটক ব্যক্তিদের মুক্তির দাবি

৩০ বিশিষ্ট নাগরিকের বিবৃতি রাজনৈতিক বিবেচনায় দায়ের গণমামলা পুনর্মূল্যায়ন ও আটক ব্যক্তিদের মুক্তির দাবি

জামিনপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের পুনরায় গ্রেপ্তারের নির্দেশনা আইনের শাসনের পরিপন্থি

আইন ও সালিশ কেন্দ্র-এর উদ্বেগ জামিনপ্রাপ্ত আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের পুনরায় গ্রেপ্তারের নির্দেশনা আইনের শাসনের পরিপন্থি

বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় ‘সরাসরি আঘাত’, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার তীব্র নিন্দা

জামিনের পর আদালতে বিএনপিপন্থীদের তাণ্ডব বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় ‘সরাসরি আঘাত’, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার তীব্র নিন্দা

নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় ৭ জনের মৃত্যু, আহত ৩৫০

মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন-এর উদ্বেগ নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় ৭ জনের মৃত্যু, আহত ৩৫০

প্রতিবন্ধী ও সংখ্যালঘু ভোটারদের অংশগ্রহণে ছিল নানা সীমাবদ্ধতা

ভোট-পরবর্তী সহিংসতা বেড়েছে ‘উল্লেখযোগ্য হারে’ প্রতিবন্ধী ও সংখ্যালঘু ভোটারদের অংশগ্রহণে ছিল নানা সীমাবদ্ধতা