২০২৬ সালে জাতিসংঘ ঘোষিত স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের মাধ্যমে বাংলাদেশ তার উন্নয়ন যাত্রায় একটি বড় মাইলফলক স্পর্শ করতে যাচ্ছে। তবে এই অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে জনস্বাস্থ্য খাতে নতুন চ্যালেঞ্জও তৈরি হয়েছে। বিদেশি অনুদান কমে আসা এবং নিজস্ব অর্থায়নের বাধ্যবাধকতা বৃদ্ধি টিকা কর্মসূচিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। ঋষিরাজ ভগবতী ও ড. ওয়াসিফ আলি খানের বিশ্লেষণে এ তথ্য উঠে এসেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টিকা কেবল শিশুদের রোগ প্রতিরোধের জন্য নয়, বরং অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) ঠেকানোর অন্যতম হাতিয়ার। বাংলাদেশে এএমআর-এর বোঝা ইতোমধ্যেই ভয়াবহ। ২০২১ সালের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৯৬ হাজার মৃত্যু এএমআর-এর সঙ্গে যুক্ত ছিল এবং ২৩ হাজারের বেশি মৃত্যু সরাসরি এর কারণে ঘটেছে। অ্যান্টিবায়োটিকের অপব্যবহার ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হচ্ছে।
টিকা সংক্রমণ প্রতিরোধ করে অ্যান্টিবায়োটিকের চাহিদা কমায়। এতে অপ্রয়োজনীয় প্রেসক্রিপশন বন্ধ হয়, হাসপাতালে ভর্তির হার কমে এবং ওষুধ-প্রতিরোধী সংক্রমণ বিস্তার ধীর হয়। বাংলাদেশের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (ইপিআই) ইতোমধ্যেই নবজাতকের ধনুষ্টংকার ও পোলিও নির্মূল করেছে এবং শিশুমৃত্যুর হার কমিয়েছে।
নিউমোকোকাল রোগ ও শিশুদের ডায়রিয়া এএমআর-এর বড় উৎস। নিউমোকোকাল কনজুগেট ভ্যাকসিন (পিসিভি) এবং রোটাভাইরাস টিকা প্রয়োগ করলে অ্যান্টিবায়োটিকের ওপর চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব। একইভাবে টাইফয়েড টিকা (টিসিভি) ২০২৫ সালে চালু হওয়ার পর থেকে শিশুদের মধ্যে অ্যান্টিবায়োটিক-নির্ভর সংক্রমণ প্রতিরোধে নতুন দিগন্ত খুলেছে।
তবে শুধু ক্যাম্পেইন নয়, নিয়মিত টিকাদানই এএমআর মোকাবিলায় কার্যকর হবে। এজন্য প্রয়োজন স্থিতিশীল অর্থায়ন, কোল্ড-চেইন রক্ষণাবেক্ষণ, স্বাস্থ্যকর্মীদের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দুর্গম এলাকায় টিকা পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এলডিসি থেকে উত্তরণ মানে টিকা কমানো নয়, বরং টিকাকে জাতীয় স্বাস্থ্য-নিরাপত্তার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দেখা। গ্লোবাল অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স পার্টনারশিপ (জিএআরপি) বাংলাদেশ টেকনিক্যাল ওয়ার্কিং গ্রুপের নীতি-পত্রেও টিকাকে এএমআর মোকাবিলার শক্তিশালী হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।