বার্ধক্য ঠেকিয়ে যৌবন ধরে রাখার বাসনা চিরকালীন। সেই আকাঙ্ক্ষা থেকেই শতাব্দীপ্রাচীন চিকিৎসা পদ্ধতি ‘হাইপারবারিক অক্সিজেন থেরাপি’ (এইচবিওটি) নতুন আঙ্গিকে ফিরে এসেছে। পশ্চিমে ধনকুবের ও তারকারা বহুদিন ধরেই ব্যবহার করছেন, এখন কলকাতাতেও শুরু হয়েছে এই থেরাপি।
এটি কোনো সাধারণ সৌন্দর্যচর্চা নয়। বোটক্স বা লেজার ট্রিটমেন্টের মতো শুধু ত্বকের চিকিৎসা নয়, বরং শরীরের কোষে কোষে অক্সিজেন পৌঁছে দিয়ে সজীব করে তোলে। বদ্ধ কাচের চেম্বারে রোগীকে বসিয়ে বা শুইয়ে উচ্চচাপে বিশুদ্ধ অক্সিজেন দেওয়া হয়। ফুসফুস স্বাভাবিক অবস্থায় যতটা অক্সিজেন গ্রহণ করে, তার চেয়ে বহুগুণ বেশি অক্সিজেন রক্তে মিশে শরীরের প্রতিটি কোষে পৌঁছে যায়। ফলে ঝিমিয়ে পড়া কোষে নতুন প্রাণ সঞ্চার হয়।
ইজরায়েলের তেল আভিভ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, কয়েক মাস এই থেরাপি নিলে শরীরের জৈবিক ঘড়ি উল্টো পথে ছুটতে শুরু করে। কেউ একে যৌবন ফেরানোর চিকিৎসা বলছেন, আবার কেউ বলছেন জীবনধারাজনিত নানা রোগের মুক্তির পথ। থাইরয়েড, ডায়াবিটিস, অনিদ্রা, অটিজম, এমনকি ক্যানসারের চিকিৎসায়ও এর প্রয়োগের কথা বলা হচ্ছে।
তারকাদের ব্যবহার থেরাপিটিকে আরও জনপ্রিয় করেছে। জাস্টিন বিবার, ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো, কেট উইন্সলেট থেকে শুরু করে বলিউডের অনিল কাপুর ও টাইগার শ্রফ পর্যন্ত অনেকেই ফিটনেস ও ক্ষত সারাতে এটি ব্যবহার করেছেন। মাইকেল জ্যাকসনও একসময় অক্সিজেন চেম্বারে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটাতেন।
কলকাতায় এখন কিছু হাসপাতাল ও ‘বায়ু প্রাণা’ নামে একটি ক্লিনিকে এই থেরাপি দেওয়া হচ্ছে। ক্লিনিকের কর্ণধার স্নিগ্ধা শীল জানিয়েছেন, অ্যান্টি-এজিং ছাড়াও ডায়াবিটিস, পিসিওএস, মানসিক ব্যাধি, অবসাদ, অনিদ্রা, এমনকি ডায়াবিটিক ফুট আলসারের চিকিৎসায়ও এটি কার্যকর হতে পারে। একেকটি সেশনের খরচ ২,০৫০ থেকে ৭,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।
তবে চিকিৎসক মহলে এ নিয়ে মতভেদ রয়েছে। কেউ কেউ মনে করেন, রেডিয়েশন থেরাপি নেওয়া রোগী বা স্ট্রোক-পরবর্তী দুর্বলতায় এটি কার্যকর হলেও বয়স কমানো বা অটিজম-আলঝাইমার্স সারানোর দাবি অতিরঞ্জিত। অতিরিক্ত অক্সিজেন শরীরে টক্সিন তৈরি করতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রোমোজোমের টেলোমেয়ার ছোট হতে থাকে। হাইপারবারিক থেরাপি টেলোমেয়ারকে দীর্ঘায়িত করতে পারে বলে দাবি করা হচ্ছে। তবে বিশ্বাস আর বাস্তবের মধ্যে সূক্ষ্ম সীমারেখা এখনও রয়ে গেছে।
এ থেরাপি নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনার ঝড় উঠেছে। কেউ একে যৌবন ধরে রাখার ‘ম্যাজিক থেরাপি’ বলছেন, আবার কেউ সতর্ক করছেন অতিরিক্ত প্রত্যাশা থেকে। কলকাতায় এর সূচনা নতুন কৌতূহল তৈরি করেছে, তবে চিকিৎসকরা বলছেন সত্যিকারের ফলাফল জানতে আরও সময় ও গবেষণা প্রয়োজন।