সর্বশেষ

সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও দোষীদের জবাবদিহির দাবি

প্রথম আলো–ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলার নিন্দা আন্তর্জাতিক ও দেশীয় সাংবাদিক সংগঠনের

প্রকাশিত: ২০ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৪:৩০
প্রথম আলো–ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলার নিন্দা আন্তর্জাতিক ও দেশীয় সাংবাদিক সংগঠনের

রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অবস্থিত দৈনিক প্রথম আলো ও ইংরেজি দৈনিক দ্য ডেইলি স্টার–এর কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় সাংবাদিক সংগঠন, সম্পাদক ও সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন এবং নাগরিক জোটগুলো। তারা একে স্বাধীন গণমাধ্যম, গণতন্ত্র এবং জনগণের জানার অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত হিসেবে আখ্যায়িত করেছে।

 

সিপিজেঃ দোষীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে

 

বিশ্বজুড়ে সাংবাদিকদের অধিকার রক্ষায় কাজ করা আন্তর্জাতিক সংগঠন কমিটি টু প্রোটেক্ট জার্নালিস্টস (সিপিজে) শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) এক বিবৃতিতে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়, সিপিজে পরিস্থিতির ওপর নিবিড়ভাবে নজর রাখছে এবং বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছে।

 

 

একই সঙ্গে হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে দ্রুত জবাবদিহির আওতায় আনার দাবি জানায় সংগঠনটি। সিপিজে মনে করে, সাংবাদিকদের ওপর হামলা অব্যাহত থাকলে তা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক পরিসরকে মারাত্মকভাবে সংকুচিত করবে।

 

মিডিয়া ফ্রিডম কোয়ালিশন (এমএফসি): জনগণের জানার অধিকারে সরাসরি আঘাত

 

মিডিয়া ফ্রিডম কোয়ালিশন ইন বাংলাদেশ (এমএফসি) বৃহস্পতিবার রাতের হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। শুক্রবার প্রকাশিত বিবৃতিতে তারা বলে, এ ধরনের সহিংসতা ও ভীতি প্রদর্শন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটি সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও জনগণের জানার অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত।

 

 

বিবৃতিতে বলা হয়, দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ী ব্যক্তিদের জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে এবং সব গণমাধ্যমকর্মীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। সাংবাদিকদের ভয়মুক্ত পরিবেশে কাজ করার অধিকার নিশ্চিত না হলে আইনের শাসন ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ টেকসই হবে না বলেও মন্তব্য করে জোটটি।

 

বাংলাদেশে এমএফসির সদস্য হিসেবে যুক্ত রয়েছে যুক্তরাজ্য, ইতালি, ফ্রান্স, কানাডা, ডেনমার্ক, জার্মানি, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, সুইডেন ও সুইজারল্যান্ড। সংগঠনটি জানায়, সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা একটি উন্মুক্ত ও সচেতন সমাজ গঠনের পূর্বশর্ত।

 

সম্পাদক পরিষদ ও নোয়াবঃ রাষ্ট্রের ব্যর্থতার স্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ

 

সম্পাদক পরিষদ ও সংবাদপত্র মালিকদের সংগঠন নোয়াব এক যৌথ বিবৃতিতে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলার ঘটনাকে “ন্যক্কারজনক” আখ্যা দিয়ে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

 

 

বিবৃতিতে বলা হয়, এই হামলা কেবল দুটি গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠানের ওপর নয়; এটি পুরো সমাজ, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং সর্বোপরি বাংলাদেশের ওপর আক্রমণ। গভীর রাতের এই সহিংসতায় সংবাদকর্মীদের জীবনের ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল, যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতির পাশাপাশি রাষ্ট্রের দায়িত্বহীনতারও স্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ।

 

সম্পাদক পরিষদের সভাপতি নূরুল কবীর ও নোয়াব সভাপতি এ. কে. আজাদ বলেন, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। মব ভায়োলেন্স প্রতিরোধে অন্তর্বর্তী সরকারের ব্যর্থতার ধারাবাহিকতারই সর্বশেষ ও ভয়াবহ উদাহরণ এটি। গণমাধ্যম কার্যালয়ে হামলা প্রমাণ করে যে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হয়েছে।

 

বিবৃতিতে ছায়ানট ভবনে হামলার ঘটনাও নিন্দা করা হয় এবং নূরুল কবীরকে হেনস্তার ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। বিবৃতি বা আশ্বাস নয়, অবিলম্বে হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে শাস্তি নিশ্চিত করার আহ্বান জানায় সংগঠন দুটি।

 

ডিআরইউঃ গণমাধ্যমকে টার্গেট করে পরিকল্পিত হামলা

 

ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে। একই সঙ্গে আটকে পড়া সাংবাদিকদের উদ্ধার করতে গিয়ে ইংরেজি দৈনিক নিউ এজ–এর সম্পাদক নূরুল কবীরকে হেনস্তার ঘটনাতেও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সংগঠনটি।

 

 

ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল এক বিবৃতিতে বলেন, গণমাধ্যম রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ এবং গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। সহিংসতা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হামলার মাধ্যমে গণমাধ্যমের কণ্ঠ রুদ্ধ করার চেষ্টা সাংবিধানিক অধিকার ও আইনের শাসনের পরিপন্থি।

 

ডিআরইউ মনে করে, একটি গোষ্ঠী সচেতনভাবেই গণমাধ্যমকে প্রতিপক্ষ বানিয়ে টার্গেট করে হামলা চালিয়েছে। তারা বলে, শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুকে পুঁজি করে যারা গণমাধ্যমে হামলা করেছে, তারা হাদির অনুসারী নয়; বরং এই ঘটনাকে ব্যবহার করে নিজেদের কদর্য চেহারা প্রকাশ করেছে।

 

সংগঠনটি অবিলম্বে সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে।

 

সরকারের প্রতিক্রিয়া

 

এদিকে অন্তর্বর্তী সরকার সহিংসতা, অগ্নিসংযোগ ও জানমাল ধ্বংসের ঘটনার নিন্দা জানিয়ে সাংবাদিকদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জানায়, সাংবাদিকদের ওপর হামলা মানেই সত্যের ওপর হামলা এবং এ ঘটনায় সরকার পূর্ণ ন্যায়বিচারের আশ্বাস দিচ্ছে। তবে হামলা ঠেকাতে ব্যর্থতা বা দায়ীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে কোনো স্পষ্ট ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

সব খবর

আরও পড়ুন

জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন গঠনে ‘তাড়াহুড়ো’ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য হুমকি

মানবাধিকার সংস্থা আর্টিকেল নাইন্টিনের সতর্কবার্তা জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন গঠনে ‘তাড়াহুড়ো’ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য হুমকি

ইউনূস আমলে সাংবাদিকতার ওপর নজিরবিহীন চাপ, চাকরিচ্যুতি-হামলা-গ্রেপ্তারে সংকটে সাংবাদিকতা

টিআইবি’র প্রতিবেদন ইউনূস আমলে সাংবাদিকতার ওপর নজিরবিহীন চাপ, চাকরিচ্যুতি-হামলা-গ্রেপ্তারে সংকটে সাংবাদিকতা

বাংলাদেশে সাংবাদিকতা সর্বগ্রাসী আতঙ্কে নিমজ্জিত

আল জাজিরাকে মাহফুজ আনাম বাংলাদেশে সাংবাদিকতা সর্বগ্রাসী আতঙ্কে নিমজ্জিত

গণমাধ্যম কমিশন ও সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশ অন্তর্বর্তী সরকারের ‘বিদায়ী পরিহাস’

টিআইবি’র বিবৃতি গণমাধ্যম কমিশন ও সম্প্রচার কমিশন অধ্যাদেশ অন্তর্বর্তী সরকারের ‘বিদায়ী পরিহাস’

আরো একটি কালো আইন আনছে অন্তর্বর্তী সরকার

সম্প্রচার অধ্যাদেশ ২০২৬ আরো একটি কালো আইন আনছে অন্তর্বর্তী সরকার

প্রেস সচিবের আহ্বান বিফল হওয়াই প্রমাণ করে সরকার হামলা হতে দিয়েছে: নুরুল কবীর

প্রেস সচিবের আহ্বান বিফল হওয়াই প্রমাণ করে সরকার হামলা হতে দিয়েছে: নুরুল কবীর

ঢাকায় ফ্রিডম অফ এক্সপ্রেশন টাস্কফোর্সের সভা অনুষ্ঠিত

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা জোরদারের আহ্বান ঢাকায় ফ্রিডম অফ এক্সপ্রেশন টাস্কফোর্সের সভা অনুষ্ঠিত

গণমাধ্যম সম্মিলনে ঐক্যের ডাক, সাংবাদিক সুরক্ষার জোরালো দাবি

গণমাধ্যম সম্মিলনে ঐক্যের ডাক, সাংবাদিক সুরক্ষার জোরালো দাবি