সর্বশেষ

প্রেস সচিবের আহ্বান বিফল হওয়াই প্রমাণ করে সরকার হামলা হতে দিয়েছে: নুরুল কবীর

রাজধানী ডেস্ক বিডি ভয়েস
প্রকাশিত: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬, ২৩:৪০
প্রেস সচিবের আহ্বান বিফল হওয়াই প্রমাণ করে সরকার হামলা হতে দিয়েছে: নুরুল কবীর

সম্প্রতি দ্য ডেইলি স্টার ও প্রথম আলো কার্যালয়ে সংঘটিত হামলাকে ‘পরিকল্পিত ও সংগঠিত সহিংসতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন সম্পাদক পরিষদের সভাপতি ও নিউ এজ সম্পাদক নুরুল কবীর। তার দাবি, সরকার হয় ইচ্ছাকৃতভাবে এই হামলাগুলো ঘটতে দিয়েছে, নয়তো সেগুলো ঠেকাতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে।

 

মঙ্গলবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে গণমাধ্যম সংস্কার: স্বাধীনতা, দায়বদ্ধতা ও ক্ষমতার মধ্যে ভারসাম্য’ শীর্ষক আলোচনায় এসব কথা বলেন তিনি।

 

নুরুল কবীর বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে আল জাজিরাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম তার অভিযোগকে ‘প্রমাণহীন’ বলে দাবি করেছেন। তবে তিনি মনে করেন, প্রেস সচিবের নিজের বক্তব্যই সরকারের ব্যর্থতার সবচেয়ে বড় প্রমাণ।

 

আলোচনায় নুরুল কবীর দুই গণমাধ্যম কার্যালয়ে হামলার রাতে প্রেস সচিবের ফেসবুক পোস্টের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ওই পোস্টে শফিকুল আলম উল্লেখ করেছিলেন যে তিনি সারারাত সরকারের বিভিন্ন মহলে সহায়তা চেয়েও কোনো সাড়া পাননি। নুরুল কবীরের যুক্তি, “যদি প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব নিজেই সাহায্য না পান, তাহলে সেটি প্রমাণ করে সরকার ঘটনাগুলো ঘটতে দিয়েছে।”

 

ডেইলি স্টার কার্যালয়ে সাংবাদিকদের অবরুদ্ধ করে আগুন দেওয়ার ঘটনার উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি কোনো স্বতঃস্ফূর্ত বা বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না; বরং এটি ছিল সম্পূর্ণ পরিকল্পিত হামলা।

 

গণতান্ত্রিক সমাজে সাংবাদিকতার ভূমিকা ব্যাখ্যা করে নুরুল কবীর বলেন, সাংবাদিকতার মূল কাজ হলো ক্ষমতার সমালোচনা করা। “যে সাংবাদিকতা ক্ষমতার বিরোধিতা করে না, তা সাংবাদিকতা নয়, জনসংযোগ,” বলেন তিনি। তার মতে, ক্ষমতায় কে রয়েছে তা মুখ্য নয়; বরং ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করাই গণতান্ত্রিক সাংবাদিকতার প্রধান দায়িত্ব।

 

তিনি আরও বলেন, সংবাদপত্রের স্বাধীনতা কেবল সাংবাদিকদের স্বার্থের বিষয় নয়; এটি জনগণের মৌলিক অধিকার। এই স্বাধীনতার মাধ্যমেই জনমত গড়ে ওঠে, যা গণতন্ত্রের জন্য অপরিহার্য।

 

বক্তব্যে সাংবাদিকদের চাকরির নিরাপত্তা ও ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে নুরুল কবীর বলেন, এটি শুধু সরকারের নয়, গণমাধ্যম মালিকদেরও দায়িত্ব। একই সঙ্গে সাংবাদিক ও মালিক উভয় পক্ষের জন্য স্বচ্ছতা ও একটি কার্যকর আচরণবিধির প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

 

পেশাদার ঐক্যের অভাব গণতান্ত্রিক সাংবাদিকতার অস্তিত্বকে হুমকির মুখে ফেলবে বলে সতর্ক করে দিয়ে বর্তমান পরিস্থিতিকে তিনি ‘জাতীয় বুদ্ধিবৃত্তিক সংকট’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

সব খবর

আরও পড়ুন

সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা ও হয়রানিমূলক’ মামলা প্রত্যাহারের দাবি

সম্পাদক পরিষদের বিবৃতি সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা ও হয়রানিমূলক’ মামলা প্রত্যাহারের দাবি

সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শিক্ষার্থী-সাংবাদিকদের মারধর নিয়ে তোলপাড়

৪ পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে শিক্ষার্থী-সাংবাদিকদের মারধর নিয়ে তোলপাড়

কার্যালয় ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ডিইউজের মানববন্ধন

মানববন্ধন ঘিরে ৫ সাংবাদিক প্রেস ক্লাবে নিষিদ্ধ কার্যালয় ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিতে জাতীয় প্রেস ক্লাবে ডিইউজের মানববন্ধন

দুই মাসেও জামিন মেলেনি সাংবাদিক আনিস আলমগীরের

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্রশ্নবিদ্ধ দুই মাসেও জামিন মেলেনি সাংবাদিক আনিস আলমগীরের

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান আইপিআই’র

নির্বাচন ঘিরে অনিশ্চয়তা ও সহিংসতার আশঙ্কা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষা ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান আইপিআই’র

সংবাদকর্মীদের তুলে নেওয়া মুক্ত গণমাধ্যমের জন্য ‘ভীতিমূলক দৃষ্টান্ত’

টিআইবি’র উদ্বেগ ও প্রতিবাদ সংবাদকর্মীদের তুলে নেওয়া মুক্ত গণমাধ্যমের জন্য ‘ভীতিমূলক দৃষ্টান্ত’

জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন গঠনে ‘তাড়াহুড়ো’ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য হুমকি

মানবাধিকার সংস্থা আর্টিকেল নাইন্টিনের সতর্কবার্তা জাতীয় গণমাধ্যম কমিশন গঠনে ‘তাড়াহুড়ো’ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার জন্য হুমকি

ইউনূস আমলে সাংবাদিকতার ওপর নজিরবিহীন চাপ, চাকরিচ্যুতি-হামলা-গ্রেপ্তারে সংকটে সাংবাদিকতা

টিআইবি’র প্রতিবেদন ইউনূস আমলে সাংবাদিকতার ওপর নজিরবিহীন চাপ, চাকরিচ্যুতি-হামলা-গ্রেপ্তারে সংকটে সাংবাদিকতা