অন্তর্বর্তী সরকারের সময়েই দ্রুতগতিতে আনা হচ্ছে নতুন ‘সম্প্রচার অধ্যাদেশ, ২০২৬’। তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের প্রস্তুত করা খসড়া আইনে সম্প্রচার–সংক্রান্ত অপরাধের বিচার মাত্র ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে শেষ করার বিধান রাখা হয়েছে এবং এজন্য গঠন করা হবে এক বা একাধিক ‘সম্প্রচার ট্রাইব্যুনাল’।
তবে আইনটির নানা ধারা নিয়ে গণমাধ্যমকর্মী, অধিকারকর্মী ও নীতিনির্ধারক মহলে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাঁদের আশঙ্কা, এই অধ্যাদেশ কার্যকর হলে মতপ্রকাশ ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা আরও সংকুচিত হতে পারে।
খসড়া অনুযায়ী, একজন জেলা ও দায়রা জজের সমন্বয়ে ট্রাইব্যুনাল গঠিত হবে এবং এ আইনের অধীনে সব অপরাধের বিচার কেবল এই ট্রাইব্যুনালেই হবে। কমিশনের ক্ষমতাপ্রাপ্ত ব্যক্তি ছাড়া অন্য কেউ সরাসরি অভিযোগ করতে পারবেন না। অভিযোগ গ্রহণের পর তদন্ত ৩০ দিনের মধ্যে শেষ করতে হবে, প্রয়োজনে বাড়তি ১৫ দিন সময় মিলবে। বিচার সম্পন্ন করতে হবে ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে।
আইনে লাইসেন্স ছাড়া সম্প্রচার, সরকারি নির্দেশনা অমান্য, অনাপত্তি ছাড়াই যন্ত্রপাতি আমদানি কিংবা রাষ্ট্রের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হতে পারে—এমন তথ্য প্রচারের অভিযোগে তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড ও সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। পাশাপাশি কমিশনকে লাইসেন্স বাতিল, জরিমানা, সংশোধিত সম্প্রচার নির্দেশ, এমনকি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন ও ডিজিটাল প্রমাণ জব্দ করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।
সমালোচকদের মতে, ‘জাতীয় ইস্যু’, ‘জনস্বার্থ’ বা ‘নিরাপত্তা’—এর মতো অস্পষ্ট শব্দ ব্যবহার করে প্রশাসনকে অতিরিক্ত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে, যা ভিন্নমত বা অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাকে দমনে ব্যবহৃত হতে পারে। অভিযোগ দায়েরের একক নিয়ন্ত্রণ ও দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া ন্যায্য বিচার ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতার প্রশ্নও তুলেছে।
গণমাধ্যম বিশ্লেষকদের ভাষ্য, নির্বাচনের আগে অন্তর্বর্তী সময়ে এমন কঠোর আইন আনার তোড়জোড় রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে হচ্ছে। এতে সংবাদমাধ্যমে আত্মনিয়ন্ত্রণ, সেন্সরশিপ ও ভয়ভীতির সংস্কৃতি জোরদার হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
৩১ জানুয়ারির মধ্যে খসড়ার ওপর মতামত চাওয়া হলেও অংশীজনরা বলছেন, বিস্তৃত জনপরামর্শ ও মানবাধিকার মানদণ্ড বিবেচনায় না নিলে এই আইন গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।