২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ শুরু হতে এখনও কয়েক মাস বাকি থাকলেও, এরই মধ্যে বড় সংকেত পাচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠেয় এই আসর ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ‘বয়কট ওয়ার্ল্ড কাপ’ ক্যাম্পেইনের প্রভাবে হাজার হাজার দর্শক টিকিট ও বুকিং বাতিল করছেন। পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর যে সুইজারল্যান্ডের জুরিখে ফিফার সদর দপ্তরে জরুরি বৈঠক ডাকার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জর্ডানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম রয়্যাল নিউজ-এর তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহের শেষ দিকে মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১৬ হাজার ৮০০ ফুটবল সমর্থক তাদের টিকিট বা আবেদনের বুকিং বাতিল করেন। ২০২৬ বিশ্বকাপের ১০৪টি ম্যাচের মধ্যে ৭৮টিই অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রে, ফলে আয়োজক দেশটির রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতিই এই উদ্বেগের মূল কেন্দ্রবিন্দু।
সমর্থকদের আপত্তির প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিরতা, কড়া অভিবাসন ও ভিসা নীতি এবং নিরাপত্তা শঙ্কা। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সময় নেওয়া কঠোর অভিবাসন অবস্থান, ‘আইসিই’ কর্মকর্তাদের হয়রানির অভিযোগ এবং সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশের গুলিতে মৃত্যুর ঘটনাগুলো বিদেশি দর্শকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, সময়মতো ভিসা না পাওয়া বা যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় সমস্যার মুখে পড়তে হতে পারে।
এই উদ্বেগ আরও বেড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ভিসা স্থগিতাদেশের খবরে। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কা জানায়, মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসন ভিসা প্রক্রিয়া সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। উদ্বেগজনক বিষয় হলো, এসব দেশের মধ্যে অন্তত ১৫টি দেশ ২০২৬ বিশ্বকাপের মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। তালিকায় রয়েছে ব্রাজিল, উরুগুয়ে, মরক্কো, সেনেগাল, কলম্বিয়া, ইরান ও মিশরের মতো দেশ।
যদিও স্টেট ডিপার্টমেন্ট বলছে, এই নিষেধাজ্ঞা মূলত ইমিগ্র্যান্ট ভিসার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য এবং পর্যটন ভিসায় বিশ্বকাপ দর্শকদের আসার কথা, বাস্তবে কনস্যুলেটগুলোতে দীর্ঘসূত্রতা ও নীতির অস্পষ্টতা দর্শকদের আস্থাহীন করে তুলছে।
ফিফা আনুষ্ঠানিকভাবে দাবি করছে, টিকিট বিক্রি এখনও স্থিতিশীল। তবে পর্দার আড়ালে কর্মকর্তাদের মধ্যে উদ্বেগ স্পষ্ট। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বয়কটের এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে হোটেল বুকিং, বিমান সংস্থা ও আয়োজক শহরগুলোর অর্থনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক ক্রীড়া আয়োজনের আগে এমন অনিশ্চয়তা ফিফা ও আয়োজক দেশগুলোর জন্যই বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠছে।