২০২৫ সাল বিশ্বজুড়ে নারী ক্রীড়াবিদদের জন্য এক স্মরণীয় বছর হয়ে উঠেছে। ক্রিকেট, ফুটবল, রাগবি কিংবা বাস্কেটবল—সব ক্ষেত্রেই নারীরা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছেন। দর্শকসংখ্যা, সাফল্য এবং নতুন লিগের সূচনা মিলিয়ে বছরটি নারী ক্রীড়ার ইতিহাসে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হয়ে থাকবে।
বাংলাদেশের নারী ফুটবলাররা প্রথমবারের মতো ২০২৬ এএফসি নারী এশিয়ান কাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। বাছাইপর্বে তারা বাহরাইন ও তুর্কমেনিস্তানকে ৭-০ গোলে হারায় এবং উচ্চতর র্যাঙ্কিংয়ের মিয়ানমারকে ২-১ গোলে হারিয়ে গ্রুপে শীর্ষস্থান দখল করে। এর ফলে ফিফা নারী বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশ ১২৮তম থেকে ১০৪তম স্থানে উঠে আসে।
ক্রিকেটে নিগার সুলতানা জ্যোতির নেতৃত্বে টাইগ্রেসরা ওয়ানডে বিশ্বকাপে বড় জয় না পেলেও পাকিস্তানের বিপক্ষে দাপুটে জয় দিয়ে অভিযান শুরু করে। দক্ষিণ আফ্রিকা, ইংল্যান্ড ও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জেতার পরিস্থিতি তৈরি করেও শেষ পর্যন্ত জয় হাতছাড়া হয়। বিশেষ করে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মাত্র ৭ রানে হারের ম্যাচটি ছিল বেদনাদায়ক। তবুও সীমিত প্রস্তুতি সত্ত্বেও তাদের লড়াই প্রশংসিত হয়েছে।
২০২৫ সালের সবচেয়ে বড় মুহূর্তগুলোর একটি ছিল ভারতের নারী ক্রিকেট দলের প্রথম বিশ্বকাপ জয়। এই বিজয় দেশজুড়ে উৎসবের আবহ তৈরি করে। মুম্বাইয়ের রাস্তায় আতশবাজি, গান-নাচে ভরে ওঠে রাত। এই জয় ভারতের নারী ক্রিকেটারদের ব্র্যান্ড ভ্যালু আকাশচুম্বী করে তোলে এবং প্রমাণ করে মাঠের সাফল্য কীভাবে সামাজিক স্বীকৃতিতে রূপ নেয়।
সুইজারল্যান্ডে আয়োজিত ইউরোপীয় নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে দর্শকসংখ্যা রেকর্ড ছাড়িয়ে যায়। আয়োজক দেশ প্রথমবার কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করে। মাঠের বাইরে আর্সেনাল নারী ফুটবলে নতুন ইতিহাস গড়ে, কানাডিয়ান ফরোয়ার্ড অলিভিয়া স্মিথকে ১০ লক্ষ পাউন্ডে দলে নিয়ে দলবদলের রেকর্ড ভেঙে দেয়।
ইংল্যান্ডে আয়োজিত নারী রাগবি বিশ্বকাপে ৪ লক্ষ ৪০ হাজারেরও বেশি টিকিট বিক্রি হয়, যা আগের আসরের তুলনায় তিনগুণ। টুইকেনহ্যামে অনুষ্ঠিত ফাইনালটি ৮১,৮৮৫ দর্শক মাঠে বসে দেখেন—নারী রাগবির ইতিহাসে সর্বোচ্চ। টেলিভিশন দর্শকসংখ্যাও ৫.৮ মিলিয়নে পৌঁছায়।
যুক্তরাষ্ট্রে নারী বাস্কেটবল লিগ ডব্লিউএনবিএ আরও সম্প্রসারিত হয়ে ১৩ দলে উন্নীত হয়েছে। আ’জা উইলসন চারবার এমভিপি হয়ে ইতিহাস গড়েছেন এবং লাস ভেগাস এসেসকে চার মৌসুমে তৃতীয় শিরোপা এনে দিয়েছেন।
এছাড়া ২০২৫ সালে নতুন কয়েকটি লিগ যাত্রা শুরু করেছে—নারী পেশাদার বেসবল লিগ, লিগ ওয়ান ভলিবল, কানাডার নর্দার্ন সুপার লিগ এবং আনরাইভালড থ্রি-অন-থ্রি বাস্কেটবল লিগ। এগুলো নারী ক্রীড়ার পরিধি ও সম্ভাবনাকে বহুগুণ প্রসারিত করেছে।
২০২৫ সাল নারীদের ক্রীড়াঙ্গনে এক যুগান্তকারী বছর। বাংলাদেশ থেকে শুরু করে ভারত, ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র—সবখানেই নারীরা নতুন ইতিহাস গড়েছেন। দর্শকসংখ্যা, সাফল্য ও নতুন লিগের সূচনা প্রমাণ করেছে, বিশ্ব ক্রীড়াঙ্গনে নারীদের দাপট এখন আর ব্যতিক্রম নয়, বরং নিয়ম হয়ে উঠছে।