সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বার্ষিক পরীক্ষা চলাকালে কর্মবিরতিতে অংশ নেওয়া শিক্ষকদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাদের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে।
গত ১৯ ফেব্রুয়ারি অধিদপ্তরের সেকশন-২ থেকে পাঠানো চিঠিতে স্বাক্ষর করেন যুগ্মসচিব ও পরিচালক (পলিসি ও অপারেশন) এ কে মোহাম্মদ সামছুল আহসান। চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ‘তৃতীয় সাময়িক মূল্যায়ন-২০২৫’ চলাকালে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষক পরীক্ষা গ্রহণ থেকে বিরত থেকে কর্মবিরতি বা আন্দোলনে যুক্ত ছিলেন।
চিঠিতে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের বিরুদ্ধে যথাযথ বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ইতোমধ্যে কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকলে, তার বিস্তারিত তথ্য—কী ধরনের শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং কতজনের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে—তা অধিদপ্তরে জানাতে বলা হয়েছে।
জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত মাসিক সমন্বয় সভায় পরীক্ষা চলাকালে কর্মবিরতিতে অংশ নেওয়া শিক্ষকদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সেই সিদ্ধান্তের আলোকে এই নির্দেশনা জারি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বেতন বৃদ্ধি-সহ তিন দফা দাবিতে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের একটি অংশ গত বছরের ২৭ নভেম্বর কর্মবিরতি শুরু করেন। এর পর ১ ডিসেম্বর শুরু হওয়া বার্ষিক পরীক্ষাও তারা বর্জন করেন। ফলে দেশের বিভিন্ন স্থানে পরীক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়; কোথাও কোথাও নির্ধারিত সময়ে পরীক্ষা গ্রহণ সম্ভব হয়নি।
পরবর্তীতে ২ ডিসেম্বর রাতে আন্দোলনকারীরা কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেন। তবে পরীক্ষা চলাকালে দায়িত্ব পালনে বিরত থাকার ঘটনায় প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে এখন বিভাগীয় ব্যবস্থার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।