সর্বশেষ

দায়িত্ব পালনে অপারগতা জানিয়ে পদত্যাগ

রাবিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ডিনদের সরাতে আওয়ামীপন্থী ট্যাগ দিয়ে শিবিরের মবসন্ত্রাস

প্রকাশিত: ২২ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৭:০০
রাবিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ডিনদের সরাতে আওয়ামীপন্থী ট্যাগ দিয়ে শিবিরের মবসন্ত্রাস

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) দিনব্যাপী আন্দোলন, প্রশাসনিক ভবনে তালা ও শিবিরের থেকে নির্বাচিত রাকসু নেতৃবৃন্দের চাপের মুখে অবশেষে মেয়াদোত্তীর্ণ সময়ে দায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশ করেছেন ছয়জন ডিন। ২১শে ডিসেম্বর, রোববার সন্ধ্যায় উপাচার্যের বাসভবনে অনুষ্ঠিত এক জরুরি বৈঠক শেষে তারা লিখিতভাবে উপাচার্যকে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান। রোববার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ইফতিখারুল আলম মাসুদ সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

 

দায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশকারী ডিনরা হলেন— আইন অনুষদের আবু নাসের ওয়াহিদ, বিজ্ঞান অনুষদের নাসিমা আখতার, ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের এ এস এম কামরুজ্জামান, সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের এস এম এক্রাম উল্লাহ, প্রকৌশল অনুষদের বিমল কুমার প্রামাণিক এবং ভূ-বিজ্ঞান অনুষদের এ এইচ এম সেলিম রেজা।

 

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, রোববার বিকেলে ও রাতে উপাচার্যের বাসভবনে একাধিক বৈঠকের পর ডিনরা লিখিতভাবে দায়িত্ব পালনে অপারগতার কথা উপাচার্যকে জানান। এরপরই তাদের সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হয়।

 

বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক আখতার হোসেন মজুমদার বলেন, “শিক্ষার্থী ও ডিনদের সঙ্গে আলোচনায় ডিনরা মেয়াদের অতিরিক্ত সময়ে দায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশ করেছেন।”

 

সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক এস এম একরাম উল্লাহ দাবি করেন, তিনি আন্দোলনের বিষয়ে বিস্তারিত জানেন না। তিনি বলেন, “আজ কী হয়েছে তা আমি জানি না। তবে আমরা দায়িত্ব পালন করতে ইচ্ছুক নই—এটা জানিয়েছি।”

 

জানা যায়, গত ১৭ই ডিসেম্বর এসব ডিনদের মেয়াদ শেষ হলেও একাডেমিক কাজের প্রয়োজনে প্রশাসনের অনুরোধে তারা অতিরিক্ত সময়ের জন্য দায়িত্ব পালন করছিলেন। কিন্তু রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের নেতৃত্বাধীন মবের হুমকি ও চাপের মুখে তারা দায়িত্ব পালনে অপারগতা প্রকাশ করেন।

 

মেয়াদ শেষের পর শুধু প্রশাসনের অনুরোধে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে এই ডিনরা রাজনৈতিক চাপের শিকার হয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে। শিবিরের রাকসু নেতৃবৃন্দরা নিজেদের পছন্দের শিক্ষককে নতুন ডিন বানানোর জন্য জুলাই আন্দোলনের প্রায় ১৫ মাস পরে উক্ত ৬ ডিনকে আওয়ামীপন্থী ট্যাগ দেন বলে ধারনা করছেন রাবি সংশ্লিষ্টরা।

 

রোববার সকাল থেকেই রাবি ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের নেতৃত্বে একদল শিক্ষার্থী ডিনদের কক্ষসহ উপাচার্য, উপ-উপাচার্য, প্রক্টর ও রেজিস্ট্রারের দপ্তরে তালা ঝুলিয়ে দেন। দুপুর থেকে প্রশাসন ভবনে কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে যায়।

 

সালাহউদ্দিন আম্মার বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে লেখেন, “আজ মোটামুটি সব দপ্তরে আওয়ামীপন্থিদের দপ্তরগুলো তালাবদ্ধ। বিচার না হওয়া পর্যন্ত তালাবদ্ধ থাকুক।”

 

বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ২০২৩ সালের ১৭ ডিসেম্বর ডিনসহ বিভিন্ন প্রশাসনিক পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে ১২টি অনুষদের মধ্যে ছয়টিতে আওয়ামীপন্থি হিসেবে পরিচিত হলুদ প্যানেলের প্রার্থীরা বিজয়ী হন। তাদের মেয়াদ ১৭ ডিসেম্বর শেষ হলেও নতুন ডিন নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত উপাচার্যের নির্দেশে তারা দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

 

নতুন ডিন নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত পদাধিকার বলে উপাচার্য সংশ্লিষ্ট অনুষদগুলোর দায়িত্ব পালন করবেন বলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে।

সব খবর

আরও পড়ুন

তীব্র শিক্ষক সংকটে এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজ

চাহিদার এক-ষষ্ঠাংশ পেলেন নিয়োগ সুপারিশ তীব্র শিক্ষক সংকটে এমপিওভুক্ত স্কুল-কলেজ

নতুন শিক্ষাবর্ষের এক মাসেও পাঠ্যবই সংকট কাটেনি

সিন্ডিকেটে আটকে ৩০ লাখ বই নতুন শিক্ষাবর্ষের এক মাসেও পাঠ্যবই সংকট কাটেনি

শিক্ষাসামগ্রীর দাম বেড়ে অভিভাবকদের ওপর চাপ

নিম্নবিত্তের শিশুদের ঝরে পড়ার আশঙ্কা শিক্ষাসামগ্রীর দাম বেড়ে অভিভাবকদের ওপর চাপ

কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিটে ভরাডুবি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষা কলা, আইন ও সামাজিক বিজ্ঞান ইউনিটে ভরাডুবি

বাউবি মিডিয়া পরিচালক নিয়োগে অনিশ্চয়তা

দেড় বছরেও ফল প্রকাশ হয়নি বাউবি মিডিয়া পরিচালক নিয়োগে অনিশ্চয়তা

ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকে মবের চাপে শিক্ষক বহিষ্কারের পর এবার ক্লাস কার্যক্রম স্থগিত

‘ধর্ম অবমাননার’ অভিযোগ ঘিরে বিতর্ক ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকে মবের চাপে শিক্ষক বহিষ্কারের পর এবার ক্লাস কার্যক্রম স্থগিত

‘দারিদ্র্যের কারণে পাহাড়ি শিশুরা পড়াশোনায় পিছিয়ে’

‘দারিদ্র্যের কারণে পাহাড়ি শিশুরা পড়াশোনায় পিছিয়ে’

শাকসু নির্বাচনে নারী প্রার্থী এত কম কেন?

ভোটে আছে নারীরা, নেতৃত্বে নেই শাকসু নির্বাচনে নারী প্রার্থী এত কম কেন?