দেশীয় শিল্প রক্ষার নামে সুতা আমদানিতে শুল্কারোপ করে স্পিনিং মিলগুলোর জন্য ‘একচেটিয়া বাজার’ তৈরি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে পোশাক রপ্তানিকারকদের দুই সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ। এতে তৈরি পোশাক খাত মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে বলে সতর্ক করেছেন সংগঠনগুলোর নেতারা।
সোমবার ঢাকার একটি হোটেলে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএ’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি সেলিম রহমান বলেন, আমদানিকৃত সুতার তুলনায় দেশীয় স্পিনিং মিল থেকে সুতা কিনতে গেলে প্রতি কেজিতে গড়ে ৪৬ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে। তার ভাষায়, “দেশীয় শিল্প রক্ষার নামে আমদানি নিষেধাজ্ঞা ও শুল্কারোপ করে কৃত্রিম সুরক্ষার মাধ্যমে সুতার একচেটিয়া বাজার তৈরি করা হচ্ছে।”
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মান ও প্রতিযোগিতামূলক দরে সুতা সরবরাহ করা গেলে দেশ থেকেই কিনতে প্রস্তুত পোশাক শিল্প। এমনকি আমদানির তুলনায় প্রতি কেজিতে ১০ থেকে ১৫ সেন্ট বেশি দিয়েও দেশীয় সুতা নেওয়ার আগ্রহের কথা জানান তিনি।
বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, পোশাক শিল্প স্বল্প মুনাফায় পরিচালিত হয়। “আমাদের পোশাক শিল্পকে ক্ষতি করে আরেক শিল্পকে রক্ষা করার মানে হয় না,” মন্তব্য করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, “পোশাক খাত এখন আইসিইউতে আছে। এভাবে চললে পাটের মতো পোশাক শিল্পও ধ্বংস হয়ে যাবে।”
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, স্থানীয় স্পিনিং মিল থেকে বর্তমানে মোট চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ সুতা সংগ্রহ করে পোশাক খাত। বাকি ৪০ শতাংশ আমদানি করতে হয়, কারণ অনেক ধরনের সুতা দেশে উৎপাদিত হয় না। বিজিএমইএ পরিচালক ফজলে শামিম এহসান বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারদরের ভিত্তিতেই ক্রেতারা পোশাকের দাম নির্ধারণ করেন। দেশীয় বাজারে বেশি দাম হলে তা মেনে নেবেন না বিদেশি ক্রেতারা।
সরকার ১০ থেকে ৩০ কাউন্টের সুতা আমদানিতে শুল্কারোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা তৈরি পোশাক শিল্পে সর্বাধিক ব্যবহৃত কাঁচামাল। পাশাপাশি বন্ড সুবিধা বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পোশাক মালিকরা বলছেন, এতে উৎপাদন ব্যয় বাড়বে এবং রপ্তানি প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ পিছিয়ে পড়বে।
সংবাদ সম্মেলন থেকে শুল্কারোপের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার, বস্ত্রখাতকে নগদ সহায়তা ও জ্বালানি সুবিধা দেওয়ার দাবি জানানো হয়। বিজিএমইএ পরিচালক মোহাম্মদ আব্দুস সালাম বলেন, “আলোচনার মাধ্যমে উইন–উইন সমাধান চাই। এক শিল্পকে বাঁচাতে আরেক শিল্প ধ্বংস করা সমাধান নয়।”