সর্বশেষ

অচল আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম

বিদেশিদের কাছে ইজারা দেওয়ার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম বন্দরে ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি

প্রকাশিত: ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ২০:০১
বিদেশিদের কাছে ইজারা দেওয়ার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম বন্দরে ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি

চট্টগ্রাম বন্দরের শ্রমিক ও কর্মচারীরা নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি অপারেটরের কাছে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগের প্রতিবাদে আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে টানা ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতি শুরু করেছেন। এর ফলে দেশের সবচেয়ে বড় সমুদ্রবন্দর কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। চলমান কর্মবিরতি কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক ইব্রাহীম খোকন মঙ্গলবার বিকালে বলেন, “যারা আন্দোলনের সাথে যুক্ত তাদের বদলিসহ বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সবমিলিয়ে দাবি আদায়ে আমাদের কর্মবিরতি অনির্দিষ্টকালের জন্য চালিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

 

গত ৩১ জানুয়ারি থেকে টানা তিন দিন আংশিক কর্মবিরতি পালনের পর আন্দোলন আরও কঠোর করার সিদ্ধান্ত নেয় শ্রমিকরা। মঙ্গলবার সকাল ৮টার কিছুক্ষণ পরই বন্দরের সবচেয়ে পুরোনো জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি) টার্মিনালের বিভিন্ন জেটিতে জাহাজ থেকে পণ্য ও কনটেইনার ওঠানামা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়।

 

এক বন্দরের কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, সকালে কিছু সময় চট্টগ্রাম কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) ও এনসিটি টার্মিনালের জেটিগুলোতে পণ্য ওঠানামার কাজ চলছিল। তবে সকাল ৯টা ৪৫ মিনিটের দিকে আন্দোলনকারীরা বিক্ষোভ শুরু করলে এসব কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে সিসিটি ও এনসিটি টার্মিনাল পরিচালনা করছে চট্টগ্রাম ড্রাই ডক লিমিটেড (সিডিডিএল)।  

 

ধর্মঘটের কারণে বন্দরের ইয়ার্ড থেকে আমদানি করা পণ্য ও কনটেইনার সরবরাহ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ রয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা ঐক্য পরিষদের সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির বলেন, শ্রমিক ও কর্মচারীরা ধীরে ধীরে ২৪ ঘণ্টার কর্মবিরতিতে যোগ দিচ্ছেন।  

 

এদিকে সকাল থেকে বন্দর ও দেশের ১৯টি বেসরকারি মালিকানাধীন ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো (আইসিডি) তেও আমদানি, রপ্তানি ও খালি কনটেইনার পরিবহন বন্ধ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কনটেইনার চলাচল নিয়ন্ত্রণে ব্যবহৃত কম্পিউটারাইজড টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেম (টিওএস) পরিচালনায় দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মচারীরা কাজ বন্ধ রাখায় এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।  

 

চট্টগ্রাম বন্দর দেশের আমদানি-রপ্তানির প্রধান কেন্দ্র হওয়ায় কর্মবিরতির প্রভাব পড়ছে সারাদেশে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রতিদিন হাজার হাজার টন পণ্য বন্দরে ওঠানামা করে। কর্মবিরতির কারণে এসব পণ্য আটকে থাকায় শিল্পকারখানায় কাঁচামাল সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং রপ্তানি কার্যক্রমও স্থবির হয়ে পড়েছে।  

 

শ্রমিকরা দাবি করছেন, বিদেশি অপারেটরের কাছে টার্মিনাল ইজারা দেওয়া হলে তাদের চাকরির নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে। তারা মনে করছেন, এটি দেশের স্বার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত। আন্দোলনকারীরা ঘোষণা দিয়েছেন, দাবি পূরণ না হলে কর্মবিরতি আরও দীর্ঘায়িত করা হবে।

সব খবর

আরও পড়ুন