জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে সরকারের পুরো মনোযোগ এখন প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা ব্যবস্থাপনায়। সচিবালয় থেকে জেলা-উপজেলা প্রশাসন—সবখানেই নির্বাচনি দায়িত্বে ব্যস্ততা চলছে। তবে এই ব্যস্ততার সুযোগে নিত্যপণ্যের বাজার কার্যত নজরদারিহীন হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, নির্বাচন শেষ হওয়ার এক সপ্তাহ পরই রমজান শুরু হওয়ায় বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে।
অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, রমজান ও নির্বাচনকে ঘিরে চাহিদা বাড়লে সরবরাহে সামান্য ব্যাঘাতেই পণ্যমূল্য বেড়ে যায়। এ বছরও অসাধু ব্যবসায়ীরা আমদানিকৃত পণ্য মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরির প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে ভোজ্যতেল, ছোলা, চিনি, খেজুর, ডাল, চাল, আটা ও মসলার বাজার ইতোমধ্যে অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে।
প্রতিবছর বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও প্রশাসনের সমন্বয়ে বাজার মনিটরিং টিম মাঠে নামলেও এ বছর তেমন দৃশ্যমান তৎপরতা নেই। জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারাও নির্বাচনি কাজে ব্যস্ত থাকায় বাজার ব্যবস্থাপনা দুর্বল হয়ে পড়েছে। ফলে অতিরিক্ত মুনাফাখোর চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ী ও ভোক্তারা।
এদিকে নতুন কৌশলে পণ্য মজুতের অভিযোগ উঠেছে। নির্দিষ্ট গুদামের বদলে নারায়ণগঞ্জ, যশোর ও নোয়াপাড়ার নদীপথে লাইটার জাহাজে ভাসমান গুদাম তৈরি করে পণ্য আটকে রাখা হচ্ছে। এতে সরবরাহে বিলম্ব ও কৃত্রিম সংকটের ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
নৌপরিবহন অধিদফতর জানিয়েছে, এসব অনিয়ম ঠেকাতে মোবাইল কোর্ট ও ছয় সদস্যের টাস্কফোর্স কাজ করছে। ভাসমান গুদাম হিসেবে ব্যবহৃত জাহাজের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বাণিজ্য উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, নির্বাচন পরিচালনার পাশাপাশি বাজার নিয়ন্ত্রণও সরকারের দায়িত্ব। কঠোর নজরদারি না থাকলে সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়বে।
অন্যদিকে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান দাবি করেছেন, রমজানে প্রয়োজনীয় পণ্যের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং বাজার পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজর রাখা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্বাচনি ব্যস্ততার মাঝেও কার্যকর বাজার মনিটরিং না বাড়ালে রমজানে নিত্যপণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যেতে পারে।