বাংলাদেশ ব্যাংকের ১৪তম গভর্নর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. মোস্তাকুর রহমান। তবে তাঁর নিয়োগকে ঘিরে স্বার্থের দ্বন্দ্ব ও স্বাধীনভাবে দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানায়, নতুন গভর্নর কতটা নির্মোহভাবে কাজ করতে পারবেন, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
টিআইবি বলছে, মোস্তাকুর রহমান অতীতে নিজের প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ বিবেচনায় ঋণ পুনঃতফসিল করেছিলেন। তিনি তৈরি পোশাকশিল্প ও আবাসন খাতের ব্যবসায়ী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ফলে ব্যাংক খাতের সুশাসন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে গিয়ে তিনি ব্যবসায়ী লবির প্রভাবমুক্ত থাকতে পারবেন কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান বলেন, নতুন গভর্নরের ব্যাংকিং খাতে অভিজ্ঞতা মূলত ঋণগ্রস্ত থেকে ঋণখেলাপি এবং পরবর্তী সময়ে ঋণ পুনঃতফসিলকরণের সঙ্গে সম্পর্কিত। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সংসদ সদস্যদের প্রায় ৬০ শতাংশ এবং মন্ত্রিপরিষদের ৬২ শতাংশই ব্যবসায়ী। এমন বাস্তবতায় একজন ব্যবসায়ীকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া কতটা যুক্তিযুক্ত, তা সরকারকে ভাবতে হবে।
টিআইবি আরও জানায়, সংসদ সদস্যদের প্রায় অর্ধেকই ঋণগ্রস্ত। এ অবস্থায় একজন ঋণখেলাপি ব্যবসায়ীকে গভর্নর পদে বসানো ব্যাংক খাতের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এতে জাতীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে নেতিবাচক বার্তা যাবে।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দেশের ইতিহাসে প্রথমবার একজন ব্যবসায়ীকে গভর্নর করা হলো। এতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক আবারও রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী লবির করায়ত্ত হওয়ার ঝুঁকিতে পড়ল। সদ্য ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্যকে এ দায়িত্ব দেওয়া কতটা বিবেচনাপ্রসূত, সেটিও প্রশ্নবিদ্ধ।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে ব্যাংক খাতের সুশাসন ও স্বচ্ছতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু এই নিয়োগ সেই প্রতিশ্রুতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। অতীতে দলীয় বিবেচনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যক্রমের কারণে অর্থনীতি দুর্বল হয়েছিল, খেলাপি ঋণ বেড়েছিল এবং অর্থ পাচার হয়েছিল।
টিআইবি মনে করছে, বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতিতে বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ ও আর্থিক খাতের সুশাসন নিশ্চিত করা জরুরি। কিন্তু নতুন গভর্নর ব্যবসায়িক স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, দুর্বল ব্যাংকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পারবেন কি না, তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।