ভারত থেকে সুতা আমদানির প্রবাহ বেড়ে যাওয়ায় দেশের স্পিনিং খাত বড় সংকটে পড়েছে। গত ১৬ মাসে ভারত থেকে সুতা আমদানির পরিমাণ বেড়েছে ১৩৭ শতাংশ। ভারতীয় ব্যবসায়ীরা প্রতি কেজি সুতায় প্রায় ৩০ সেন্ট কম দামে ডাম্পিং করায় স্থানীয় বাজারে প্রতিযোগিতা হারিয়েছে দেশীয় কারখানাগুলো। এর ফলে ইতোমধ্যে ৫০টি স্পিনিং মিল বন্ধ হয়ে গেছে এবং প্রায় দুই লাখ শ্রমিক কর্মসংস্থান হারিয়েছেন।
রাজধানীর গুলশান ক্লাবে ‘স্পিনিং খাতে বিদ্যমান সমস্যা এবং উত্তরণে সরকারের করণীয় সম্পর্কে’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় ব্যবসায়ীদের পক্ষে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল বলেন, সংকট থেকে উত্তরণের জন্য সুতার রফতানিতে ১০ শতাংশ নগদ সহায়তা, রফতানি উন্নয়ন তহবিলের (ইডিএফ) আকার বৃদ্ধি এবং ব্যাংক ঋণের সুদহার কমানো জরুরি। তিনি জানান, বর্তমানে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার সুতা অবিক্রীত অবস্থায় মজুদ রয়েছে, যা উদ্যোক্তাদের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
সভায় জানানো হয়, নগদ প্রণোদনার হ্রাস, গ্যাসের দ্বিগুণ মূল্যবৃদ্ধি, টাকার অবমূল্যায়ন, ব্যাংক সুদের হার ৯ থেকে ১৬ শতাংশ বৃদ্ধি, ইডিএফ ঋণের সুবিধা হ্রাস, শ্রমিকদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধি এবং ওয়ার্কিং ক্যাপিটালের সংকটসহ নানা সমস্যায় স্পিনিং খাত দিশেহারা হয়ে পড়েছে।
বিটিএমএর সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ আলী খোকন বলেন, পোশাক খাত এখন আইসিইউতে চলে গেছে। প্রায় ৪০ শতাংশ কারখানা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে, আর ৩০ শতাংশ বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। তিনি সরকারের কাছে বড় আকারের পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। নতুন শ্রম আইন অনুযায়ী মাত্র ২০ জন শ্রমিক মিলেই একটি ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করতে পারায় কারখানার পরিবেশ অশান্ত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বিটিএমএর সাবেক সভাপতি এ মতিন চৌধুরী বলেন, পোশাক শিল্পকে রক্ষা করতে হলে সুতা তৈরির খাতকে শক্তিশালী ও সচল রাখা জরুরি। তিনি উল্লেখ করেন, সুতা, কাপড় ও পোশাক শিল্পকে আলাদা অংশ হিসেবে না দেখে তুলা সংগ্রহ থেকে শুরু করে বিদেশে পণ্য পাঠানো পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়াটিকে একটি একক বাণিজ্য হিসেবে বিবেচনা করতে হবে। অন্যথায় দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আয় ও কর্মসংস্থান বড় ধরনের সংকটে পড়বে।
সভায় বক্তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানান, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে কার্যকর সিদ্ধান্ত নিয়ে স্পিনিং খাতকে রক্ষা করতে হবে, নইলে পোশাক শিল্পে অর্জিত সাফল্য ধ্বংস হয়ে যাবে।