ঢাকার মঞ্চনাট্যে চলমান সংকট ও দর্শকসংকোচনের বাস্তবতার মধ্যেও ভালো নাটক যে এখনো দর্শক টানতে পারে, তার স্পষ্ট প্রমাণ দিয়েছে নাট্যদল আরশিনগর। দলটির চতুর্থ প্রযোজনা ‘সিদ্ধার্থ’ জাতীয় নাট্যশালার পরীক্ষণ থিয়েটার মিলনায়তনে মঞ্চস্থ হয়ে ইতোমধ্যেই দারুণ সাড়া ফেলেছে।
গত শনিবার সন্ধ্যা ৭টায় নাটকটির চলতি সিজনের প্রথম প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। প্রথম দিনেই মিলনায়তনে দর্শক উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। পরদিন রোববারের শোর সব টিকিট আগেই বিক্রি হয়ে যাওয়ায় নাটকটির প্রতি দর্শকের আগ্রহ আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
নাটকটির নির্দেশক রেজা আরিফ দর্শকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, “এই সময়ে দাঁড়িয়ে আগেভাগে টিকিট শেষ হয়ে যাওয়া আমাদের জন্য বড় প্রাপ্তি। শনিবারের শোর টিকিট পাঁচ দিন আগেই শেষ হয়ে গিয়েছিল। রোববারের সব টিকিটও তার আগেই বিক্রি হয়ে যায়।”
এর আগে তিনটি সিজনে মঞ্চস্থ হয়েছে ‘সিদ্ধার্থ’। প্রতিটি সিজনেই চার থেকে পাঁচটি করে শো অনুষ্ঠিত হয়েছে, যা নাটকটির ধারাবাহিক দর্শকপ্রিয়তার ইঙ্গিত দেয়।
নোবেলজয়ী জার্মান সাহিত্যিক হেরমান হেসে রচিত উপন্যাস Siddhartha বিশ শতকের ইউরোপীয় চিন্তাজগতে আত্মঅন্বেষণ ও আধ্যাত্মিকতার এক গুরুত্বপূর্ণ সাহিত্যিক দলিল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী মানবিক সংকট, আত্মিক শূন্যতা ও ভোগবাদী সভ্যতার প্রশ্নবিদ্ধতার প্রেক্ষাপটে লেখা এই উপন্যাসে পাশ্চাত্য মননের পূর্বের দর্শন ও বৌদ্ধ ভাবনার দিকে যাত্রার চিত্র উঠে এসেছে। উপন্যাসটির বাংলা অনুবাদ করেছেন জাফর আলম এবং নাট্যরূপ ও নির্দেশনা দিয়েছেন রেজা আরিফ।
নাটকের কাহিনিতে দেখা যায়, ব্রাহ্মণ কুমার সিদ্ধার্থ সংসার ত্যাগ করে সন্ন্যাস গ্রহণ করলেও আত্মোপলব্ধির জন্য কোনো নির্দিষ্ট মতবাদে আবদ্ধ হন না। জীবনের বিভিন্ন পথ পেরিয়ে নদীর তীরে দাঁড়িয়ে তিনি উপলব্ধি করেন দ্বৈততার মধ্যেই জীবনের সামগ্রিক সত্য নিহিত।
পার্থ প্রতিম, কাজী নওশাবা আহমেদ, জিনাত জাহান, ওয়াহিদ খানসহ একঝাঁক শিল্পীর অভিনয় নাট্যরূপকে প্রাণবন্ত করে তুলেছে। সংলাপ, মঞ্চভাষা ও দর্শনগত গভীরতার সমন্বয়ে ‘সিদ্ধার্থ’ কেবল একটি সাহিত্যনাট্য নয়; বরং এটি সময়ের অস্থিরতার ভেতর মানুষের চিরন্তন আত্মঅন্বেষণের এক শক্তিশালী মঞ্চ-অভিজ্ঞতা।