সর্বশেষ

আধিপত্যের লড়াইয়ে ঝরছে রক্ত

রাজনৈতিক কোন্দলে দেশজুড়ে বাড়ছে সহিংসতা

প্রকাশিত: ২৪ মার্চ ২০২৬, ১৮:৪০
রাজনৈতিক কোন্দলে দেশজুড়ে বাড়ছে সহিংসতা

দেশজুড়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ ও সহিংসতার ঘটনা হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে। এসব ঘটনায় প্রাণহানি ঘটছে, আহত হচ্ছেন অনেক মানুষ। ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে বিএনপি সরকার গঠনের পর থেকে এ ধরনের সংঘর্ষ আরও বেড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

বিভিন্ন এলাকায় সংঘর্ষে রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠছে। প্রশ্ন উঠছে, এসব সহিংসতার পেছনে কারা কলকাঠি নাড়ছে এবং কেন তাদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না। শাস্তির অভাবে জনমনে আতঙ্ক বাড়ছে, তৈরি হচ্ছে সংশয়। বিশ্লেষকরা বলছেন, স্থানীয়ভাবে প্রভাব বিস্তার, চাঁদাবাজি নিয়ন্ত্রণ এবং একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার প্রতিযোগিতাই এসব সংঘাতের মূল কারণ। পাশাপাশি দলীয় নতুন ও পুরোনো গ্রুপের দ্বন্দ্বও সহিংসতাকে উসকে দিচ্ছে।  

 

সোমবার সকালে পাবনার সুজানগরের মানিকহাট ইউনিয়নে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে চায়না খাতুন নামে এক গৃহবধূ নিহত হন। আহত হন অন্তত ১০ জন। একই সময়ে ঈশ্বরদীতে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষে পুলিশ সদস্যসহ আরও অন্তত ১৫ জন আহত হন। কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপির সমর্থকদের সংঘর্ষে আহত হন অন্তত ৩০ জন। শরীয়তপুরের নড়িয়ায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে শতাধিক ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে, এতে আহত হন অন্তত ১৫ জন এবং ভাঙচুর করা হয় প্রায় ২০টি বসতঘর। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে অবিস্ফোরিত ককটেল উদ্ধার করে ছয়জনকে আটক করেছে।  

 

এর আগে রবিবার কুষ্টিয়ার কুমারখালী ও নাটোরের সিংড়াতেও আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, গোলাগুলি ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনায় বেশ কয়েকজন গুলিবিদ্ধসহ বহু মানুষ আহত হন। সবগুলো ঘটনাই বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে বিবাদমান গ্রুপগুলোর মধ্যে সংঘটিত হয়েছে।  

 

পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত আইজিপি খন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, রাজনৈতিক কোন্দল নতুন কিছু নয়। তবে পুলিশ সবসময় কঠোর অবস্থানে রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। তিনি জানান, বিভিন্ন ঘটনায় জড়িতদের আটক করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। ভবিষ্যতেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেকোনও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে থাকবে।  

 

বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু বলেন, যেকোনও মৃত্যু দুঃখজনক। নতুন সরকারের দায়িত্ব হলো কঠোর হাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রতিষ্ঠা করা। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, দলীয় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ হয়ে থাকলে স্থানীয় সংগঠন তা দেখবে, কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।  

 

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, এই সহিংসতা সমাজে সহনশীলতার ঘাটতির প্রতিফলন। রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আধিপত্য বিস্তারের প্রবণতা বন্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ জরুরি। পাশাপাশি পরিবার ও শিক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে ছোটবেলা থেকেই সহনশীলতা গড়ে তুলতে হবে।

সব খবর