বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সর্বশেষ নির্বাচন নিয়ে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্তে দেশের ক্রিকেটে নতুন অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। বিসিবি আশঙ্কা করছে, এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) সরকারি হস্তক্ষেপ হিসেবে গণ্য করতে পারে, যা বাংলাদেশ ক্রিকেটের ওপর বড় ধরনের নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি তৈরি করেছে।
সোমবার (১৬ মার্চ) বিসিবি এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানায়, বর্তমান বোর্ড সম্পূর্ণ সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় নির্বাচিত। এনএসসির সাম্প্রতিক গেজেট নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিসিবি বলেছে, এ ধরনের তদন্ত বোর্ডের স্বাধীনতা, স্থিতিশীলতা এবং ধারাবাহিকতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে। বিসিবি মনে করে, আইসিসির পূর্ণ সদস্য হিসেবে তারা গ্লোবাল গভর্ন্যান্সের অধীনে পরিচালিত হয়, যেখানে যেকোনো ধরনের বাহ্যিক হস্তক্ষেপকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হয়।
বিসিবি জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যেই আইসিসির নেতৃত্বের সঙ্গে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা হয়েছে। সেখান থেকে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, একটি নির্বাচিত বোর্ডের কার্যক্রমে এ ধরনের হস্তক্ষেপ আইসিসির গভর্ন্যান্স নীতিমালার পরিপন্থি হতে পারে। ফলে আইসিসি কোনো কঠোর অবস্থানে যাওয়ার আগেই বিসিবি সরাসরি এনএসসির সঙ্গে আলোচনায় বসতে চায়।
বিবৃতিতে বিসিবি আরও বলেছে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের ক্রিকেটের ভাবমূর্তি ও স্থায়িত্ব রক্ষায় এনএসসিকে দ্রুত বিষয়টি মীমাংসা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে। বোর্ড মনে করে, ক্রিকেট প্রশাসনের স্বায়ত্তশাসন রক্ষা করা আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী অপরিহার্য।
এনএসসির গেজেটের উদ্দেশ্য এবং এর প্রভাব সম্পর্কে স্পষ্টীকরণ চেয়ে বিসিবি আশা প্রকাশ করেছে যে, দেশের ক্রিকেটের বৃহত্তর স্বার্থে এনএসসি এই তদন্ত প্রক্রিয়া থেকে সরে আসবে। বিসিবি মনে করছে, তদন্ত অব্যাহত থাকলে আইসিসি কঠোর অবস্থান নিতে পারে, যা বাংলাদেশ ক্রিকেটের আন্তর্জাতিক অংশগ্রহণে বড় ধরনের সংকট তৈরি করবে।
অতীতে আইসিসি সরকারি হস্তক্ষেপের অভিযোগে একাধিক দেশকে নিষেধাজ্ঞার মুখে ফেলেছে। জিম্বাবুয়ে, নেপাল এবং কুয়েতের ক্রিকেট বোর্ডে সরকারি হস্তক্ষেপের কারণে আইসিসি কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছিল। ফলে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও একই ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা ও আন্তর্জাতিক সাফল্য দেশের ক্রীড়া অঙ্গনে সবচেয়ে বড় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই বিসিবি মনে করছে, প্রশাসনিক অস্থিরতা দূর করা জরুরি। তারা এনএসসিকে অনুরোধ জানিয়েছে, ক্রিকেটের বৃহত্তর স্বার্থে তদন্ত প্রক্রিয়া থেকে সরে এসে বোর্ডের স্বাধীনতা বজায় রাখতে সহায়তা করতে।