আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে ঘিরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) এক সিদ্ধান্ত নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নিরাপত্তাজনিত কারণে টুর্নামেন্টে অংশ না নেওয়ার ঘোষণার পর বিশ্বকাপ কাভার করতে আবেদন করা বাংলাদেশি সাংবাদিকদের অ্যাক্রেডিটেশন বাতিল করেছে আইসিসি।
সোমবার এই সিদ্ধান্তের কথা বিসিবিকে জানানো হয়। বিষয়টি নিয়ে আইসিসির কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে ব্যাখ্যা চেয়েছে বিসিবি। মঙ্গলবার সিসিডিএম চ্যালেঞ্জ টি-টোয়েন্টি কাপের উদ্বোধনী দিনে বিসিবির মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
আমজাদ হোসেন বলেন, “সোমবারই আমাদের জানানো হয়েছে যে বাংলাদেশি সাংবাদিকদের অ্যাক্রেডিটেশন বাতিল করা হয়েছে। সিদ্ধান্তের কারণ জানতে আমরা আইসিসির কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছি। বিষয়টি গোপনীয় হলেও কারণ জানা আমাদের অধিকার।”
তিনি এই সিদ্ধান্তকে অনভিপ্রেত ও অযৌক্তিক বলে উল্লেখ করেন। তার মতে, কোনো দলের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণের সঙ্গে সাংবাদিকদের কাভারেজ অধিকার যুক্ত করা যৌক্তিক নয়। “অতীতে এমন অনেক নজির আছে, যেখানে বাংলাদেশ অংশ না নিলেও আমাদের সাংবাদিকরা আইসিসি ইভেন্ট কাভার করেছেন। এমনকি ফিফা বিশ্বকাপেও বাংলাদেশি সাংবাদিকরা নিয়মিত কাভারেজ করেন, যদিও বাংলাদেশ কখনো সেখানে খেলেনি,”—বলেন তিনি।
বিশ্ব ক্রিকেটে বাংলাদেশের দর্শকসংখ্যার গুরুত্বও তুলে ধরেন বিসিবির এই কর্মকর্তা। তিনি বলেন, “বিশ্বে তৃতীয় সর্বোচ্চ ক্রিকেট ভিউয়ার বাংলাদেশ। আমরা মাঠে না থাকলেও কোটি দর্শক বিশ্বকাপ দেখেন। আমাদের সাংবাদিকরা না থাকলে দেশের দর্শকরা কীভাবে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাবে?”
বিসিবির অবস্থান অনুযায়ী, বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার সিদ্ধান্ত আর সাংবাদিকদের অ্যাক্রেডিটেশন বাতিল—এই দুটি বিষয় এক করে দেখার কোনো যৌক্তিকতা নেই। আমজাদ হোসেন বলেন, “আমরা পুরো টুর্নামেন্ট বয়কট করিনি। নির্দিষ্ট ভেন্যু নিয়ে নিরাপত্তা শঙ্কা জানিয়ে বিকল্প চেয়েছিলাম। সেটি গ্রহণ না হওয়ায় সরে এসেছি। এর দায় সাংবাদিকদের ওপর চাপানো ঠিক নয়।”
এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও ন্যায্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।