টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপ শুরুর আর মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি থাকলেও বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি। নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারতে খেলতে না চাওয়ার সিদ্ধান্তে অনড় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। অন্যদিকে সূচি ও ভেন্যু পরিবর্তনে নারাজ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। দুই পক্ষের এই অনড় অবস্থানের কারণে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ খেলার সম্ভাবনা ক্রমেই ক্ষীণ হয়ে আসছে।
বর্তমান সূচি অনুযায়ী, গ্রুপ ‘সি’-তে ভারতের ভেন্যুতে বাংলাদেশ, ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ, নেপাল ও ইতালিকে নিয়ে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। বিকল্প হিসেবে শ্রীলঙ্কায় খেলতে গ্রুপ ‘বি’-তে থাকা আয়ারল্যান্ডের সঙ্গে অদলবদলের প্রস্তাব দেয় বিসিবি। তবে ক্রিকেট আয়ারল্যান্ড স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা নিজেদের নির্ধারিত গ্রুপ ছাড়বে না। আইসিসিও বারবার জানিয়েছে, সূচি বদল করার সুযোগ নেই।
ক্রিকবাজের বরাতে জানা গেছে, আইসিসির এক কর্মকর্তা বলেছেন—বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া ২০টি দলই সমান, কারও জন্য বিশেষ ছাড় দেওয়া হবে না। ঢাকায় আইসিসি প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকে বিসিবি আবারও নিরাপত্তা শঙ্কার কথা তুলে ধরে। তবে আইসিসির ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের কর্মকর্তা অ্যান্ড্রু এফগ্রেভ ও গৌরব সাক্সেনা বাংলাদেশকে ভারতে খেলতে রাজি করানোর চেষ্টা করলেও শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ সরানোর কোনো প্রতিশ্রুতি দেননি।
এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ালে তাদের জায়গায় স্কটল্যান্ডকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। আইসিসির সূত্র জানিয়েছে, বিশ্বকাপে সুযোগ না পাওয়া দলগুলোর মধ্যে বর্তমানে সর্বোচ্চ র্যাঙ্কিংধারী দল স্কটল্যান্ডই বিকল্প হিসেবে প্রস্তুত।
আইসিসি বিসিবিকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য বুধবার পর্যন্ত সময় দিয়েছে। সূচি অনুযায়ী, ৭ ফেব্রুয়ারি কলকাতায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে উদ্বোধনী ম্যাচ দিয়ে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হওয়ার কথা। এরপর একই ভেন্যুতে ইংল্যান্ড ও ইতালির বিপক্ষে এবং শেষ ম্যাচে মুম্বাইতে নেপালের মুখোমুখি হওয়ার কথা টাইগারদের।
এই সংকটের সূচনা মূলত আইপিএল ইস্যুকে কেন্দ্র করে। বিসিসিআইয়ের নির্দেশে কলকাতা নাইট রাইডার্স মুস্তাফিজুর রহমানকে দল থেকে বাদ দেওয়ার পর পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়। এরপর বাংলাদেশ সরকার দেশে আইপিএল সম্প্রচার নিষিদ্ধ করে এবং বিসিবি নিরাপত্তা শঙ্কার কথা উল্লেখ করে আইসিসিকে চিঠি দেয়।
এদিকে পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়েও আলোচনা চলছিল। কিছু পাকিস্তানি গণমাধ্যম দাবি করেছিল, বাংলাদেশের সমর্থনে পাকিস্তান বিশ্বকাপ বয়কট করতে পারে। তবে গালফ নিউজকে পিসিবির এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পাকিস্তান বিশ্বকাপ বয়কট করবে না এবং প্রস্তুতি বন্ধের খবর ভিত্তিহীন। পাকিস্তান তাদের সব ম্যাচ শ্রীলঙ্কায় খেলবে।
সব মিলিয়ে, ভারতের ভেন্যুতে খেলতে রাজি হওয়া কিংবা বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ানো—এই দুই পথই এখন বাংলাদেশের সামনে খোলা। বুধবারের মধ্যেই নির্ধারিত হবে টাইগারদের বিশ্বকাপ ভাগ্য। ক্রিকেটপ্রেমীদের চোখ এখন সেই সিদ্ধান্তের দিকেই।