বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডে (বিসিবি) দুর্নীতি নিয়ে নতুন করে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। বোর্ড পরিচালক আদনান রহমান দীপন দাবি করেছেন, সদ্যসমাপ্ত অন্তর্বর্তীকালীন বোর্ডের মাত্র ছয় মাসের দুর্নীতি সাবেক সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের ১৫ বছরের আমলকেও ছাড়িয়ে গেছে।
একটি বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের টকশোতে অংশ নিয়ে দীপন বলেন, “পাপনের ১৫ বছরের রাজত্বে যা হয়নি, তা হয়েছে শেষ কমিটির আগের ছয় মাসে। আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলতে পারি, গত পাঁচ-ছয় মাসে যে পরিমাণ দুর্নীতি হয়েছে, তা ১৫ বছরের কাছাকাছি।”
তার দাবি, চলমান তদন্তে এমন সব নাম উঠে আসছে, যা ক্রিকেটাঙ্গনকে বিস্মিত করবে। তিনি বলেন, “বোর্ডে ঢোকার আগে অনেক কিছুই ধারণার বাইরে ছিল। কিন্তু এখন ডকুমেন্ট, হিসাবপত্র ও কাগজে যা দেখছি, তা অবিশ্বাস্য।”
দীপন জানান, শুধু বিসিবির অভ্যন্তরীণ তদন্ত নয়, বাইরের সংস্থাকেও যুক্ত করা হয়েছে। “আমরা সিআইডি ও ল ডিপার্টমেন্টকে ইনভলভ করেছি, যেন নিরপেক্ষভাবে সবকিছু বেরিয়ে আসে,” বলেন তিনি।
গত এপ্রিল মাসে বিসিবি কার্যালয়ে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভিযান দেশের ক্রিকেটে বড় ধরনের অস্বস্তি সৃষ্টি করে। তখন থেকেই বোর্ডের ভেতরের আর্থিক লেনদেন, চুক্তি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠতে থাকে।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, দেশের ক্রিকেটের জন্য লজ্জাজনক বিষয় হলো দীর্ঘদিন ধরে উন্নয়নের নামে যেসব অনিয়ম ও দুর্নীতি চলেছে, সেগুলোর দায় আজও স্পষ্টভাবে নির্ধারিত হয়নি।
নতুন সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের নেতৃত্বে বিসিবির সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ, নিজের প্রতিষ্ঠানের ভেতরে থাকা দুর্নীতিবাজদের চিহ্নিত করা। তদন্ত শেষে প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সে প্রশ্নেই এখন তাকিয়ে আছে দেশের ক্রিকেটপ্রেমীরা।
দীপনের বিস্ফোরক মন্তব্যের পর প্রশ্ন উঠেছে বিসিবির এই দুর্নীতির বৃত্ত কি এবার সত্যিই ভাঙবে, নাকি সবই শেষ পর্যন্ত ফাইলবন্দী হয়ে যাবে?