সিলেটের জাফলং এলাকায় আবারও পাথর লুটের চিত্র। গোয়াইনঘাট প্রশাসনের অভিযানে দেখা গেছে, কোয়ারির তলদেশে বসানো হয়েছে ২০ থেকে ২৫টি বোমা মেশিন, যেগুলোর তাণ্ডবে গোটা নদীর তলদেশ প্রায় পাথরশূন্য হয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, নির্বাচনকালীন সময়ে প্রশাসনের ব্যস্ততার সুযোগে অন্তত ৫০ কোটি টাকার বালু ও পাথর লুট করা হয়েছে।
অভিযানে দেখা যায়, জুমপাড় এলাকায় বড় বড় গর্ত খুঁড়ে পাথর উত্তোলন করা হচ্ছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, পূর্ব জাফলং ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সভাপতি হেলাল আহমদ ও স্থানীয় পাথরখেকো জিয়াউর রহমান সাবুর নেতৃত্বে বোমা ও বিলাই মেশিন বসানো হয়। প্রতিটি মেশিন থেকে পুলিশের নামে টাকা আদায় করা হয়েছে।
অন্যদিকে ট্রাক-শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সমেদ আহমদের নেতৃত্বে জুমপাড় এলাকায় আরও ২০ থেকে ২৫ কোটি টাকার বালু ও পাথর লুট হয়েছে। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকলেও রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। স্থানীয়রা বলছেন, সমেদ অতীতে আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ ছিলেন, পরে বিএনপির প্রচারণায়ও অংশ নেন। তার দ্বিমুখী রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তোলপাড় হয়।
লাখেরপাড় ও জুমপাড় এলাকার বাসিন্দারা জানিয়েছেন, তারা বিষয়টি ইউএনও ও ওসিকে জানিয়েছিলেন। কিন্তু নির্বাচনের দোহাই দিয়ে প্রশাসন তখন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। ফলে প্রকাশ্যেই রাতভর পাথর উত্তোলন ও দিনে বিক্রি চলেছে।
গত শনিবার রাত থেকে এসিল্যান্ড ওমর ফারুক ও ওসি মনিরুজ্জামান অভিযান শুরু করেন। এ সময় ৯ জন শ্রমিককে আটক করা হলেও মূলহোতাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। অভিযানে কয়েকটি বোমা মেশিন ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয় এবং কয়েক হাজার ফুট পাথর ও বালু জব্দ করা হয়।
স্থানীয়রা বলছেন, প্রশাসনের নীরবতা ও রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে জাফলংয়ে পাথর লুটপাট বন্ধ হচ্ছে না। বরং প্রতিবারই খেটে খাওয়া শ্রমিকদের ধরা হয়, অথচ মূল নেতৃত্বে থাকা প্রভাবশালীরা থেকে যায় ধরাছোঁয়ার বাইরে।