সর্বশেষ

সুবিধা পাচ্ছেন ধনীরা

গরিবের আবাসনের নামে রাজউকের বিলাসী প্রকল্প

রাজধানী ডেস্ক বিডি ভয়েস
প্রকাশিত: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:৫৭
গরিবের আবাসনের নামে রাজউকের বিলাসী প্রকল্প

রাজধানীর নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের আবাসন সংকট নিরসনের কথা বলে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) যে ‘সাশ্রয়ী আবাসন’ প্রকল্পগুলো হাতে নিচ্ছে, বাস্তবে সেগুলোর সুবিধাভোগী হচ্ছে বিত্তশালী ও প্রভাবশালী শ্রেণি—এমন অভিযোগ নতুন নয়। কাগজে-কলমে গরিব ও মধ্যবিত্তদের জন্য পরিকল্পিত হলেও প্রকল্পগুলোর ব্যয় ও ফ্ল্যাটের বাজারমূল্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এসব আবাসন সাধারণ মানুষের নাগালের অনেক বাইরে।

 

এর সর্বশেষ উদাহরণ উত্তরা আবাসিক মডেল টাউন (তৃতীয় পর্ব)-এর ১৭ নম্বর সেক্টরের ‘জে’ ব্লকে প্রস্তাবিত প্রকল্প। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের জনগোষ্ঠীর জন্য আবাসন নির্মাণের নামে এখানে ৯৪০ কোটি ৪৬ লাখ টাকা ব্যয়ে মাত্র ৫৯২টি ফ্ল্যাট নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজউক। প্রকল্প বাস্তবায়নের মেয়াদ ধরা হয়েছে পাঁচ বছর এবং পুরো অর্থ ব্যয় হবে সরকারি কোষাগার থেকে।

 

উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) অনুযায়ী, ছয়তলা বিশিষ্ট ছয়টি ভবনে ৬০০ নেট বর্গফুটের ৩০৮টি এবং ৪০০ নেট বর্গফুটের ২৮৪টি ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হবে। পাশাপাশি একটি বেজমেন্টসহ ১২ তলা বাণিজ্যিক ভবন, ছয়তলা মসজিদ, অভ্যন্তরীণ সড়ক, পার্ক, খেলার মাঠ, সাবস্টেশন ও নিরাপত্তা গেট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।

 

তবে ব্যয়ের খাত বিশ্লেষণ করলে প্রকল্পের ‘সাশ্রয়ী’ চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। শুধু আবাসিক ভবন নির্মাণেই বরাদ্দ রাখা হয়েছে ২৮৩ কোটি টাকার বেশি। ভূমি উন্নয়ন ও ল্যান্ডস্ক্যাপিংয়ে ১৬১ কোটি, অনাবাসিক ভবনে ২৫৬ কোটি এবং বৈদ্যুতিক সরঞ্জামে ৫৭ কোটি টাকারও বেশি ব্যয় ধরা হয়েছে। এর বাইরে সেমিনার, উৎসব ভাতা, পরামর্শ সেবা, প্রচার-প্রচারণা, নিরাপত্তা ও যানবাহন খাতেও রয়েছে উল্লেখযোগ্য বরাদ্দ।

 

সব মিলিয়ে হিসাব করলে প্রতিটি ফ্ল্যাটের গড় ব্যয় দাঁড়াচ্ছে প্রায় ১ কোটি ৫৮ লাখ টাকা, যা নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের পক্ষে কেনা প্রায় অসম্ভব। এর আগেও উত্তরা ১৮ নম্বর সেক্টরের প্রকল্পে দেখা গেছে, তথাকথিত সাশ্রয়ী ফ্ল্যাট বরাদ্দ পেয়েছেন মূলত ধনাঢ্য ও প্রভাবশালীরা। পরে এসব ফ্ল্যাট চড়া দামে বিক্রি হয়ে গেছে খোলা বাজারে।

 

এ বিষয়ে রাজউকের নির্বাহী প্রকৌশলী শেখ মো. গোলাম রাব্বী বলেন, প্রকল্পটি রাজউকের অধিগ্রহণ করা জমিতে নিয়ম অনুযায়ী বাস্তবায়ন হচ্ছে এবং এতে অতিরিক্ত কোনো ব্যয় ধরা হয়নি। তবে বাস্তবতা হলো—গরিবের আবাসনের নামে নেওয়া এসব প্রকল্প শেষ পর্যন্ত কার জন্য, সে প্রশ্নের উত্তর এখনও অধরাই থেকে যাচ্ছে।

সব খবর

আরও পড়ুন

রেকর্ড ছুটির ঈদযাত্রায়ও অস্থিরতা আর ভোগান্তি

যানজট, বাড়তি ভাড়া ও দুর্ঘটনায় আনন্দ ম্লান রেকর্ড ছুটির ঈদযাত্রায়ও অস্থিরতা আর ভোগান্তি

কারখানা ছুটি, ট্রেন লাইনচ্যুত আর নৌপথে দুর্ঘটনায় নাকাল ঘরমুখো মানুষ

যানজট, দুর্ঘটনা আর বৃষ্টিতে দুর্ভোগের ঈদযাত্রা কারখানা ছুটি, ট্রেন লাইনচ্যুত আর নৌপথে দুর্ঘটনায় নাকাল ঘরমুখো মানুষ

জুলাইযোদ্ধা পরিচয়ে রাজশাহীতে সাংবাদিকের যত অপকর্ম

দুদকে অভিযোগ দাখিল জুলাইযোদ্ধা পরিচয়ে রাজশাহীতে সাংবাদিকের যত অপকর্ম

ঢাকাসহ ১২ জেলায় ৮০ কিমি বেগে ঝড়ের আশঙ্কা

নদীবন্দরে ২ নম্বর সতর্ক সংকেত ঢাকাসহ ১২ জেলায় ৮০ কিমি বেগে ঝড়ের আশঙ্কা

৮৭% বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, ভাঙতে চলেছে ২০ বছরের রেকর্ড

ঈদযাত্রায় ভাড়া নৈরাজ্য ৮৭% বাসে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়, ভাঙতে চলেছে ২০ বছরের রেকর্ড

১২ কোটির যন্ত্র কিনতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২০ কোটি টাকা

পরমাণু শক্তি কমিশনের টেন্ডার নিয়ে প্রশ্ন ১২ কোটির যন্ত্র কিনতে ব্যয় ধরা হয়েছে ২০ কোটি টাকা

তেল না পেয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক ও চালকরা

জ্বালানি সংকটে সেচ ব্যাহত তেল না পেয়ে দুশ্চিন্তায় কৃষক ও চালকরা

ঈদযাত্রার শুরুতেই ঘরমুখো মানুষের ঢল, বাস না পেয়ে কেউ ফিরছেন ট্রাকে

চন্দ্রা পয়েন্টে দীর্ঘ যানজট ঈদযাত্রার শুরুতেই ঘরমুখো মানুষের ঢল, বাস না পেয়ে কেউ ফিরছেন ট্রাকে