রাজধানীতে হামের সংক্রমণ দ্রুত বাড়ছে। শিশু হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ এতটাই বেড়েছে যে শয্যা তিন গুণ বাড়ানোর পরও তা সামলানো যাচ্ছে না। অভিভাবকরা গুরুতর অসুস্থ শিশু নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও চিকিৎসা পাচ্ছেন না।
মাদারীপুরের রাজৈর থানার বাসিন্দা সুমি আক্তার নয় মাসের শিশুকে নিয়ে ঢাকায় এসেছেন। পাঁচদিন ধরে জ্বর ও হামের উপসর্গে ভুগলেও শিশু হাসপাতালে সিট না থাকায় চিকিৎসা নিয়ে তিনি দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। একই অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন আরও অনেক অভিভাবক।
শিশু হাসপাতালের জরুরি বিভাগে প্রতিদিনই লম্বা সিরিয়াল দেখা যাচ্ছে। গুরুতর অসুস্থ শিশুদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামের রোগী বাড়ায় সম্প্রতি একটি ওয়ার্ডকে হামের জন্য ডেডিকেটেড ঘোষণা করা হয়েছে। আগে ১৫টি শয্যা থাকলেও এখন তা বাড়িয়ে ৪৪ করা হয়েছে। তবুও রোগীর চাপ সামলানো যাচ্ছে না।
গতকাল বিকাল পর্যন্ত শিশু হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি ছিল ৬১ শিশু। জরুরি বিভাগে একদিনেই ৩০ জন শিশু এসেছে। আগের তিনদিনে প্রতিদিন ২০-২৫ জন করে শিশু চিকিৎসা নিতে এসেছে। হাসপাতালের ওয়ার্ড মাস্টার মো. আল আমিন বিশ্বাস বলেন, “শয্যা খালি হওয়ামাত্রই আবার পূর্ণ হয়ে যায়। নির্ধারিত শয্যার বাইরে রোগী ভর্তি নেওয়া সম্ভব নয়।”
শুধু সরকারি নয়, বেসরকারি হাসপাতালগুলোতেও হামের রোগী আসছে। মাদানী হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. ইব্রাহীম মাসুম বিল্লাহ জানিয়েছেন, প্রতিদিনই হামে আক্রান্ত রোগী পাচ্ছেন তারা। জটিল রোগীদের রেফার করতে হচ্ছে। অভিভাবকরা আতঙ্কে ফোন করে চিকিৎসা পরামর্শ চাইছেন।
স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, রাজধানীর মহাখালীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে সোমবার পর্যন্ত ২১ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালে ছয়জন, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে পাঁচজন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে চারজন এবং রাজশাহী ও পাবনায় একজন করে শিশু মারা গেছে।
ঢাকা বিভাগের স্বাস্থ্য পরিচালকের কার্যালয় জানিয়েছে, সোমবার পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৩ জেলায় ৪০ জন হাম শনাক্ত হয়েছে। জানুয়ারি থেকে এ পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২৯৫।