সর্বশেষ

শরীয়তপুরে বাড়ছে দুর্ভোগ

ডিজেল সংকটে পদ্মায় মাছ ধরতে পারছেন না জেলেরা

প্রকাশিত: ২৯ মার্চ ২০২৬, ০৬:০০
ডিজেল সংকটে পদ্মায় মাছ ধরতে পারছেন না জেলেরা

শরীয়তপুরে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটের কারণে পদ্মা নদীতে মাছ ধরতে যেতে পারছেন না হাজারো জেলে। টানা দুই দিন জেলার সব ফিলিং স্টেশন বন্ধ থাকার পর শুক্রবার থেকে সীমিত পরিসরে তেল বিক্রি শুরু হলেও সরবরাহ ঘাটতি এখনো কাটেনি। ফলে জেলার নড়িয়া, জাজিরা ও ভেদরগঞ্জ উপজেলার নদীতীরবর্তী এলাকায় জেলেদের কর্মসংস্থান মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

 

স্থানীয় জেলেরা জানান, ডিজেলচালিত নৌকা ও ট্রলার চালাতে না পারায় তারা নদীতে যেতে পারছেন না। ফলে অনেকেই বাধ্য হয়ে পদ্মার তীরে অলস সময় কাটাচ্ছেন। কেউ জাল মেরামত করছেন, কেউ নৌকার কাজ করছেন, আবার কেউ বসে আছেন কাজের অপেক্ষায়। নদীপাড়ের খুচরা ডিজেল বিক্রেতাদের কাছেও এখন তেল প্রায় নেই বললেই চলে।

 

পাম্প মালিক ও ব্যবস্থাপকরা জানান, গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ থাকায় সব ফিলিং স্টেশন বন্ধ রাখতে হয়। শুক্রবার অল্প পরিমাণ তেল সরবরাহ আসার পর জেলার ছয়টির মধ্যে তিনটি স্টেশনে বিক্রি শুরু হয়। তবে সরবরাহ কম থাকায় তেল বিক্রিতে সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে—মোটরসাইকেলে ২০০ টাকা, প্রাইভেট কারে ১ হাজার টাকা, গণপরিবহনে ৫ হাজার টাকা এবং কৃষক ও জেলেদের ১ থেকে ২ হাজার টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে।

 

এদিকে প্রশাসনের নির্দেশনায় খুচরা বাজারে তেল বিক্রি বন্ধ থাকলেও বাস্তবে কিছু বিক্রেতা অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রি করছেন। অভিযোগ রয়েছে, লিটারপ্রতি ৫০ থেকে ৭০ টাকা বেশি দামে ডিজেল বিক্রি হচ্ছে। বাধ্য হয়ে অনেক জেলে বেশি দামে অল্প তেল কিনে মাছ ধরতে যাচ্ছেন, যা তাদের আয় কমিয়ে দিচ্ছে।

 

 

জেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, শরীয়তপুরে প্রায় ৩৩ হাজার জেলে পদ্মা নদীতে মাছ ধরেন। এর মধ্যে প্রায় ১২ হাজার ছোট-বড় নৌকা ও ট্রলার ব্যবহার হয়, যার মধ্যে ৬ থেকে ৭ হাজার নৌকা নিয়মিত নদীতে যায়। এসব নৌকায় প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার লিটার ডিজেল প্রয়োজন হয়। কিন্তু বর্তমান সংকটে জেলেরা প্রয়োজনের তুলনায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কম ডিজেল পাচ্ছেন।

 

সরেজমিনে নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর এলাকায় দেখা যায়, অধিকাংশ নৌকা নদীর তীরে নোঙর করা। জেলেরা জানান, আগে প্রতিদিন ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা মাছ ধরলেও এখন তারা ২ থেকে ৩ ঘণ্টার বেশি নদীতে থাকতে পারছেন না। মাঝ নদীতে যাওয়ার মতো পর্যাপ্ত জ্বালানি না থাকায় মাছের পরিমাণও কম পাচ্ছেন।

 

গোসাইরহাট উপজেলার জেলে আবু সুফিয়ান বলেন, “আগে প্রতিদিন ৭-৮ লিটার তেল লাগত। এখন ২-৩ লিটারের বেশি তেল পাওয়া যায় না। এত কম তেলে মাছ ধরা সম্ভব নয়। সংসার চালাতে খুব কষ্ট হচ্ছে।” একইভাবে নড়িয়ার সিরাজুল ঢালী জানান, “বড় নৌকায় প্রতিদিন ১৫ লিটার তেল লাগে, কিন্তু বাজারে ৫-৬ লিটারের বেশি পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে আয় কমে গেছে।”

 

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব বলেন, জ্বালানি সংকট অব্যাহত থাকলে জেলেদের মাছ আহরণ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে। অন্যদিকে জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম জানান, তেল মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি ঠেকাতে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, জেলেরা প্রয়োজনে জেলে কার্ডের মাধ্যমে প্রশাসনের সহায়তায় তেল সংগ্রহ করতে পারবেন, তবে এর যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।

সব খবর