সর্বশেষ

তেল নিয়ে তেলেসমাতি

দিনাজপুরে কিতাবে তেল আছে, পাম্পে নাই

প্রকাশিত: ২৬ মার্চ ২০২৬, ২৩:৪৮
দিনাজপুরে কিতাবে তেল আছে, পাম্পে নাই

দিনাজপুরে জ্বালানি তেলের সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। জেলার অধিকাংশ ফিলিং স্টেশন বন্ধ থাকায় গ্রাহকরা ক্ষোভ প্রকাশ করছেন। কোথাও সীমিত পরিমাণে তেল পাওয়া গেলেও তা চাহিদা মেটাতে পারছে না। ফলে পাম্প খোলার খবর পেলেই শত শত বাইকার সেখানে ভিড় করছেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে সামান্য তেল মিলছে, আবার অনেকেই খালি হাতে ফিরছেন।

 

গ্রাহকরা অভিযোগ করছেন, ডিজেল সরবরাহে সমস্যা না থাকলেও অকটেন ও পেট্রোলের সংকট দিন দিন বাড়ছে। দিনাজপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন ফিলিং স্টেশনে বুধবার দেখা গেছে, দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে বাইকাররা তেল কিনতে হুমড়ি খেয়ে পড়ছেন।  

 

মোটরসাইকেল চালক সুলতান মাহমুদ বলেন, সকাল সাড়ে ৯টা থেকে লাইনে দাঁড়িয়ে দুপুর ১টায় মাত্র ৫০০ টাকার তেল পেয়েছেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকার বলছে পর্যাপ্ত তেল আছে। তাহলে ফিলিং স্টেশনগুলো কেন চাহিদামতো তেল দিতে পারছে না? বেশিরভাগ পাম্পই কেন বন্ধ?”  

 

একই অভিযোগ করেছেন এনজিও কর্মী কবির হোসেন। তার মতে, যদি তেলের কোনো সমস্যা না থাকে তবে সব ফিলিং স্টেশনে স্বাভাবিকভাবে সরবরাহ করা উচিত।  

 

দিনাজপুর পেট্রোলিয়াম ফিলিং স্টেশনের মালিক লাবলু জানান, ডিপো থেকে রেশনিং পদ্ধতিতে তেল দেওয়া হচ্ছে। ফলে অনেক পাম্প বন্ধ রাখতে হচ্ছে। তিনি বলেন, “মানুষ আতঙ্কে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল কিনছে। আগে যারা ২০০-৩০০ টাকার তেল নিত তারা এখন ৫০০-৭০০ টাকার তেল নিচ্ছে। বাইকে পর্যাপ্ত তেল থাকার পরও অনেকে কিনছে। এতে চাহিদা বেড়ে গেছে।”  

 

দিনাজপুর জেলা পাম্প মালিক গ্রুপের সভাপতি শাহিন হোসেন বলেন, জেলায় ৯২টি ফিলিং স্টেশনের মধ্যে সদর উপজেলায় আছে ২৪টি। কিন্তু ডিপো থেকে চাহিদার তুলনায় কম বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। আগে প্রতিটি স্টেশনে দুই থেকে তিন হাজার লিটার পেট্রোল বা অকটেন দেওয়া হত, যা বিক্রি করতে পাঁচ-ছয় দিন সময় লাগত। এখন অতিরিক্ত চাহিদার কারণে এক-দুই দিনেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। ফলে পাম্প বন্ধ রাখতে হচ্ছে।  

 

তিনি মনে করেন, এ সংকট নিরসনে অতিরিক্ত বরাদ্দ ছাড়া বিকল্প নেই।

সব খবর